কথায় আছে “সব রাগ বাইরে দেখাতে হয়না”। তাই আসুন রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে অনুসরণ করি কিছু পরামর্শ

Know-If-You-Need-Anger-Management-Step-2

পৃথিবীতে রাগ হীন মানুষ খোঁজা আর ডাইনোসর খোঁজা সমান কথা। আমরা রেগে যাই মূলত অন্য কারও বলা খারাপ কথাতে, খোঁচা দেওয়া স্বভাবে অথবা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কোন কথার পরিপ্রেক্ষিতে। রাগ হলে কেউ ভীষণ চেঁচামেচি করি, কেউ জিনিস পত্র ভাংচুর করি, কেউ কান্নাকাটি করি, কেউ বা আবার একদম চুপচাপ হয়ে যাই।

রাগের বিপরীতে উপসর্গ যেটাই হোকনা কেন রাগ জিনিসটা কিন্তু একদম ভালো কোন গুন নয়। বরং রাগের দ্বারা অনেক সময় অনেক রকমের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যেতে দেখা যায়। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে আপনি বা আমি কেউই নিজেকে শতভাগ রাগ হীন মানুষ বলে দাবী করতে পারিনা। আবার রাগের উপর সব সময় নিয়ন্ত্রন রাখতেও পারিনা।

রাগ খারাপ না হলেও অতিরিক্ত রাগের অভ্যাস ভীষণ মারাত্মক।তাই রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আসুন আজ আপনাদের কিছু কার্যকরী পরামর্শ প্রদান করবো। যা দিয়ে হয়তো আপনার ফুঁসে ওঠা রাগের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

১. চুপচাপ থাকুন যতক্ষণ আপনার রাগ না কমেঃ

আমাদের মধ্যে প্রায় ৯০% মানুষ রাগের সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। যার ফলাফল স্বরূপ দেখা যায় রাগের মাথায় যা নয় তাই ধরণের কথা বার্তা বলে ফেলেন আর পরবর্তীতে আত্মগ্লানিতে ভুগে থাকেন। এই জন্য আপনি যখন অতিরিক্ত রাগের মধ্য দিয়ে যাবেন তখন নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসতে চুপচাপ থাকুন।

২. কিছু সময় একা থাকুনঃ

রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে কিছুটা সময় নিজেকে একদম একা রাখুন। অনেক সময় দেখা যায় কমে আসা রাগ আবার নতুন করে বাড়িয়ে দিচ্ছে আপনার চারপাশের ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা বা আশেপাশের মানুষেরা। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে খানিকটা সময় একা থাকুন।

৩. নিজের সাথে কথা বলুনঃ

রাগের বশবর্তী হয়ে অন্যকে যা-তা বলার চেয়ে নিজেকে একটু লোক সমাগম থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আসুন। এবার নিজের সাথে কথোপকথন শুরু করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন আবার নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিন। দেখবেন রাগ কমে আসতে শুরু করছে।

৪. গভীর শ্বাস নিনঃ

নিজেকে সামলে নিতে একটু বিরতি নিন। গভীরভাবে কিছুক্ষণ শ্বাস নিন। আস্তে আস্তে নিজের শরীরের পেশীগুলো আলগা করে দিতে থাকুন। একটা সময় দেখবেন আপনি ঠিক শান্ত হয়ে গেছেন।

৫. ঠাণ্ডা পানি খানঃ

খুব বেশী রেগে গেলে তাৎক্ষনিক ভাবে গ্লাস ভর্তি করে ঠাণ্ডা পানি খান। একটু সময় নিয়ে মন শান্ত করে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে বুক ভরে কয়েকবার শ্বাস নিন। দেখবেন মাথা ও মেজাজ ঠাণ্ডা হওয়ার সাথে সাথে আপনার মনও প্রশান্ত হয়ে যাচ্ছে।

৬. শুয়ে পড়ুনঃ

খুব বেশি রাগ উঠে গেলে আশেপাশে শোয়ার ব্যবস্থা থাকলে শুয়ে পড়ুন। আর আপনি যদি এমন কোন স্থানে থাকেন যেখানে শুয়ে পড়া সম্ভব না, সেখানে বসে পড়ুন। দাঁড়ানো অবস্থা থেকে শুয়ে পড়লে রাগ অনেকটাই কমে যায়। এমনকি অতিরিক্ত রেগে থাকা অবস্থায় বসে পড়লেও রাগ অনেকটাই কমে যায়।

৭. ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করুনঃ

আপনার দেহের সাথে সাথে মাথা ঠাণ্ডা করতে ঠাণ্ডা পানির তুলনা হয়না। যখন আপনি খুব বেশী রেগে যান তখন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। এতে করে রাগের বশে পড়ে কোন অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা একদম চলে যায়।

রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণ না দিয়ে বরং নিজে রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। এতে আপনার রাগের কদর কমবে না উল্টো বাড়বে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আরও লেখা পড়ুনঃ