সুখী হতে চান? এড়িয়ে চলুন কয়েকটি ভুল কাজ

How to Get Rid of Frustrationজীবনে সুখী কে না হতে চায়, সুখী হবার জন্য মানুষ স্থান, কাল, পাত্র খুঁজে কিন্তু সুখী হবার মন্ত্র যে মানুষের নিজের কাছে এটা অনেকেই জানে না। নিজের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে নিলেই কিন্তু সুখী হওয়া সম্ভব আর এজন্য অবশ্যই আমাদেরকে কিছু জিনিস ত্যাগ করতে হবে। সুখী হবার জন্য কি কি জিনিস ত্যাগ করবেন আসুন তাহলে জেনে নিই-

নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকুন

আপনার মনে যা আসে তার সবকিছু বিশ্বাস করবেন না। বিশেষ করে যেসব নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা বা আপনাকে মানসিকভাবে পরাজিত করতে পারে এ ধরনের উড়ো চিন্তা। নেতিবাচক, উড়ো ও অপ্রয়োজনীয় চিন্তা ভাবনা আপনার মন এর গঠনকে দুর্বল করে ফেলতে পারে। “মন এমন একটি জিনিস যাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অসাধারণ হয়ে উঠে। বিপরীতভাবে এটি ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে যখন এটি ভুল পথে পরিচালিত হবে”-Eckhart Tolle

অন্যকে দোষ দিবেন না

আপনি যা করেছেন বা যা করেননি তার জন্য অন্যকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি আপনার ক্ষমতা অন্যকে দিবেন না। আপনার জীবনের দায়িত্ব নিতে শুরু করুন।

বিশ্বাসকে গন্ডিতে আটকে রাখবেন না

আপনি কি পারেন, কি পারেন না, আপনার পক্ষে কি সম্ভব, আর কি অসম্ভব এ ধরণের ধারণা বাদ দিন। এখন থেকে আপনি আর বিশ্বাসকে সীমারেখায় আটকে রেখে ভুল জায়গায় নিজেকে আটকে রাখবেন না। আপনার চিন্তা ভাবনা ও বিশ্বাসকে পাখা মেলে উড়তে দিন। “বিশ্বাস মনস্থিত কোন ধারণা নয়। তবে এটা এমন একটা ধারণা যা যা মনকে ধারণ করে”-Elly Roselle

অভিযোগ করা বন্ধ করুন

কোন পরিস্থিতি এবং লোকজন সাপেক্ষে আপনার অনেক অনেক অভিযোগ বন্ধ করুন। এটা আপনাকে অসুখী, দুঃখী এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করতে পারে। কেউ আপনাকে অসুখী করতে পারে না, কোন পরিস্থিতি আপনাকে দুঃখী অথবা অসহায় করতে পারেনা যদি না আপনি এটা অনুসরণ করেন। আপনি ব্যাপারগুলোকে কিভাবে দেখবেন তার উপর আপনার অনুভূতি পরিবর্তিত হয়। কখনোই ইতিবাচক চিন্তাশক্তির ক্ষমতাকে হেয় করবেন না।

ভয় ত্যাগ করুন

ভয় অদৃশ্য বস্ত, এর কোন অস্তিত্ব নেই। আপনিই এটা সৃষ্টি করেছিলেন এবং আপনার মন জুড়েই এর বিস্তৃতি। মনের ভিতর ও বাহিরের অবস্থাকে সংশোধন করে নিন, ভয় পালাবে। ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেলট বলেছিলেন, “শুধু যে কারণে আমাদের ভয় পেতে হয় তা হচ্ছে ভয় নিজেই”।

অজুহাত দেখাবেন না

প্রায় সময়ই আমরা কাজ না করার বিনিময়ে হরেক রকম অজুহাত দেখাই, নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। অনেক সময়ই আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে অন্যের সামনে অজুহাত দাঁড় করাই যা মোটেও ঠিক নয়। এসবের জন্য আমাদের মিথ্যাও বলতে হয়, আমরা বিরক্তও হয়ে পরি। এসব আপনাকে সুখী করতে পারেনা।
সুখের চাবিকাঠি আপনার কাছে। সুখ যাতে কারো অসুখে পরিণত না হয় সেজন্য আসুন আমরা সুখীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলি।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।