দ্য ট্রি অব লাইফ- একটি পরিবারের গল্প, একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি বা বিশুদ্ধ কিছু আবেগ

tree of lifeTree of Life, একটি গাছের নাম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Guaiacum officinale। লম্বায় ১০ মিটার পর্যন্ত হয় গাছটি। বেঁচে থাকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত। এলোমেলো ভাবে ডালপালা ছড়ায় না, ঝড়-ঝাপটায় সহজ়ে নুয়ে পড়ে না। মাটি কামড়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যেন কখনো মাথা না নোয়ানোর ব্রত নিয়েছে। এই গাছের নামেই মুভিটির নাম। নাম থেকেই বোঝা যায় মুভিটি কেমন হতে পারে !

টেক্সাসের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনি। সময়কাল ১৯৫০। পরিবারের কর্তা Mr. O’Brien (ব্রাড পিট) কিছুটা রক্ষণশীল ঘরানার। নিজে যেমন কঠোর নিয়ম-কানুন মেনে চলেন ঠিক তেমনি পরিবারের বাকি সদস্যদেরও মানতে বাধ্য করেন। তার বড় ছেলে জ্যাক, ছোটবেলা থেকেই যার সাথে তার একটা দূরত্ব বজায় আছে। এই জ্যাক আর তার বাবা মিষ্টার ব্রায়ানের সম্পর্কের সম্পর্কের টানা-পোড়েনই এই ছবিটির মূল উপজীব্য।
বলা হয়ে থাকে- চলচিত্র জীবনের কথা বলে। কথাটা যে কতটা বাস্তব, The Tree Of Life মুভিটি দেখলেই তা বোঝা যায়। কাহিনীতে কোন টুইস্ট নেই, কোন সাসপেন্স নেই, নেই কোন মারমার কাটকাট অ্যাকশন, তারপরেও আপনি একটা মূহুর্তের জন্যেও মনোযোগ হারাবেন না। এ এক প্রবাহমান কাহিনী, জীবনের কাহিনী, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যা নিমমিত চিত্রিত হয়। ছবিটি দেখতে দেখতে কখন যে ভাবনার জগতে হারিয়ে যাবেন, নিজেই টের পাবেন না। একটা সময় মনে হবে, কোন মুভি নয়, নিজেরই কাহিনী দেখছেন আপনি !

মুভির একটা সময় আপনি দেখবেন- নিয়মের বেড়াজালে কতটা পিষ্ঠ হলে একজন সন্তান তার বাবার মৃত্যু কামনা করে, কখন সে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে অভিযোগ জানায়- বাবা ভাল না, বন্ধু বেড়াতে এসে বাবার কাছে অপমানিত হলে সন্তানের কেমন লাগে, কতটা কষ্ট পায় সে। কিন্তু এটুকু দেখে বাবাকে দোষারোপ করলে আপনি ভুল করবেন। কারণ, পরের দৃশ্যেই আছে সন্তানের প্রতি বাবার নীরব ভালবাসা, তাকে ঘিরে তার গোপন স্বপ্ন, আজন্ম লালিত স্বপ্ন- যা পূরণ করতে তিনি বদ্ধপরিকর।

আছে চিরন্তন কিছু উপদেশ বাণী- Help each other. Love everyone, every leaf, every ray of light. Forgive.
আছে নিজের ভুল বুঝতে পারার অনুশোচনা- I wanted to be loved cause I was great, a Big Man. Now I’m nothing. Look- the glory around… trees, birds… I dishonored it all and didn’t notice the glory. A foolish man.

পুরো চলচিত্রটি আপনি তিনটি ভিন্ন দৃষ্টি কোণ থেকে দেখতে পারেন। কখনো বাবা, কখনো মা আবার কখনো ছেলেবেলার জ্যাকের অনুভূতি আপনাকে একটি পক্ষের দিকে টানতে বাধ্য করবে, কিন্তু আপনাকে থাকতে হবে নিরপেক্ষ, কারণ প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ জায়গায় নিজেদের যুক্তিতে সঠিক। পরিণত বয়স্ক জ্যাকের চোখে জীবনের আরেক দর্শন শুনবেন আপনি।

বাবার চরিত্রে (Mr. O’Brien) অভিনয় করেছেন ব্র্যাড পিট, মায়ের চরিত্রে (Mrs. O’Brien) Jessica Chastain আর পূর্ণ বয়স্ক জ্যাকের চরিত্রে Sean Penn. তবে জ্যাকের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করা Hunter McMracken- অভিনয় সচেয়ে প্রাণবন্ত ছিল। ছবিটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন Terrence Malick. ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি অস্কারে ৩টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল।

পরিবারের সবাই একসাথে বসে দেখার মত এক অসাধারণ মুভি এটি। এই মুভি বিশেষ করে তাদের জন্য যারা মনে করেন মুভি মানে আর্ট, মুভি মানে জীবনের প্রতিচ্ছবি, মুভি মানে শিক্ষা, মুভি দিয়ে জীবন বদলে দেয়া সম্ভব। এই মুভি তাদের জন্যেও যারা মনে করেন মুভি মানে ফালতু “টাইমপাস” এবং সময়ের সব থেকে বড় অপচয়। এই একটি মুভিই যথেষ্ট তাদের ধারণা পালটে দিতে। যারা এখনো এই অসাধারণ মুভিটি দেখেন নি, তারা এর ৮৫০ মেগাবাইটের ব্লু-রে প্রিন্টটি নামিয়ে নিতে পারেন নিচের লিংক থেকে-
http://digitalmoviez.com/blog/the-tree-of-life-2011/#more-18876

এক নজরে-
নাম- The Tree of Life.
দৈর্ঘ্য- 139 minute.
ঘরানা- Drama, Fantasy.
কাহিনী এবং পরিচালনা- Terrence Malick.
অভিনয়- Brad Pitt, Sean Penn, Jessica Chastain এবং প্রমুখ।
ভাষা- English.
মুক্তির তারিখ- 17 May, 2011.
IMb রেটিং- 6.7/10.

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।