৬ অসাধারণ চলচ্চিত্র, যা আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাবে

Untitled

কিছু কিছু মুভি আছে যেগুলো বক্স অফিসে হয়ত আহামরি কোন সাফল্য পায় না, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে একটা স্থায়ী আসন তৈরি করে নেয়। এই মুভিগুলো আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, প্রচলিত কোন বিষয়ে আপনার দীর্ঘদিনের ধারণা ভেঙ্গে দেয়, অবসাদে আপনাকে প্রেরণা যোগায়, কিছু নির্মল আনন্দে ভাসায়। আজ আপনাদেরকে এমনই ৬টি বিশ্বসেরা চলচিত্রের কথা বলব-

Life is Beautiful: ইতালিয়ান পরিচালক Roberto Benigni পরিচালিত চলচ্চিত্রটিকে তার ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ট কাজ এবং সমগ্র মুভি জগতের বিষ্ময় বলা হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের উপরে নির্মিত এই মুভিটির দুইটি অংশ। প্রথম অংশটা কমেডি আর রোমান্টিজমের সংমিশেল, দ্বিতীয় অংশে আছে যুদ্ধের গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে যাওয়া এক পরিবারের করুণ কাহিনী। শুরুতে দেখা যাবে- Guido, সদা হাস্যোজ্জল এক ইহুদি তরুণ যে কিনা প্রেমে পড়ে ইতিমধ্যেই এনগেজমেন্ট হয়ে যাওয়া এক স্কুল শিক্ষিকার। Dora নামের এই শিক্ষিকাকে প্রেমে ফেলতে তার চলে নিরন্তর চেষ্টা।

একসময় শিকার টোপ গিলে। গুইডোর একনিষ্ঠতায় মুগ্ধ ডোরা তার আগের এনগেজমেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে তাকেই বিয়ে করে। সময় বয়ে যায়, ছোটখাটো খুনসুটির মধ্য দিয়ে চার বছরের সন্তান Joshua কে নিয়ে ভালই চলছিল Guido আর Dora-র সংসার। তারপরই কাহিনীতে আসে নাটকীয় পরিবর্তন। শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ইহুদী হবার কারণে Guido আর Joshua কে আটক করা হয়, খ্রিস্টান হবার কারণে Dora কে ছেড়ে দেয়া হয়, কিন্তু স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে সে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকেও অন্যান্য নারী বন্দিদের সাথে আটকে রাখা হয়। শুরু হয় তাদের বন্দি জীবন।

Guido কিছুতেই তার চার বছরের ছোট্ট ছেলেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে দিতে নারাজ। তাই সে পুরো ব্যাপারটা Joshua-র কাছে একটি রিয়েলিটি শো-র মত উপস্থাপন করে। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায়। মুভির শেষ ক্লাইমেক্সটা আপনাকে নির্ঘাত কাঁদাবে। Guido চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন পরিচালক Roberto নিজেই, তার স্ত্রী Dora-র চরিত্র স্বার্থক ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন Nicoletta Braschi আর চার বছরের শিশু Joshua-র চরিত্রে অন্যবদ্য অভিনয় করেছে Giorgio Cantarini. ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ১১৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি ৩টি অস্কার জিতেছিল। IMDb-র বর্তমান সেরা ২৫০ এর তালিকায় এই ছবিটির অবস্থান ২৯তম।

Into The Wild: বাবা মায়ের রোজকার ঝগড়ায় বিরক্ত হয়ে ঘর ছাড়ল ক্রিশ। মনে ক্ষীণ আশা- সে চলে যাওয়ায় তার অভাব বুঝতে পেরে বাবা-মায়ের ঝগড়াগুলোর একটা হিল্লে হবে। সে ফিরে এসে সব আবার আগের মত ঠিকঠাক দেখতে পাবে, মাঝখান দিয়ে পূর্ণ হবে তার দীর্ঘদিন ধরে পুষে রাখা আলাস্কা অভিযানের স্বপ্ন। শুরু হল তার অভিযান, শুরু হল এক বন্য জীবন যেখানেই প্রতিনিয়তই বেঁচে থাকার জন্য লড়তে হয়। এক সময় সে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতে চায়।

কিন্তু সে কি পারবে ফিরতে ? IMDb-র সেরা ২৫০ এর তালিকায় স্থান পাওয়া (১৫৯ তম) ২০০৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ১৪৮ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন মার্কিন পরিচালক Sean Penn. ক্রিশ চরিত্রে অন্যবদ্য অভিনয় করেছেন Emile Hirsch.

Children of Heaven: ছোটবোন Zahra-র জুতা হারিয়ে যায়। জুতা ছাড়া স্কুলে যাওয়া বারণ। তাই ঝামেলা এড়াতে Ali তার জুতাজোড়া দুই ভাই-বোন মিলে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। একদিন আলী ইন্টার স্কুল দৌড় প্রতিযোগিতার কথা জানতে পারে যেখানে ২য় পুরস্কার হিসেবে একজোড়া জুতা দেয়া হবে। সেকেন্ড হবার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে আলী, কিন্তু মূল প্রতিযোগিতায় দূর্ভাগ্যক্রমে (!) সে প্রথম হয়ে যায়। প্রথম হবার দুঃখে ছোট্ট আলীর কান্না দেখে চোখ অশ্রুসজল হবে না এমন দর্শক পাওয়া দুষ্কর।

আলী চরিত্রে Amir Farrokh এবং জারা চরিত্রে Bahare Seddiqi এর অভিনয় দর্শক কোনদিনও ভুলতে পারবে না। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইরানি পরিচালক Majid Majidi. ৮৯ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.৫/১০।

Love Letter: একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রেমকাহিনীকে নিয়ে এই জাপানি মুভিটি তৈরি করা হয়েছে। স্কি করতে গিয়ে বরফ ঘেরা পাহাড়ে হারিয়ে যায় বন্ধু Akiba (Etsushi Toyokawa), কিন্তু তাকে কিছুতেই ভুল থাকতে পারে না তার বান্ধবী Hiroko (Miho Nakayama). তাই তাকে খুঁজতে বারবার সেই পাহাড়ে চলে আসে হিরাকো। আর এইভাবেই সে একদিন আবিস্কার করে এক অজানা সত্য।

রোমান্টিক মুভিগুলোয় কষ্টের পর্বটা এক সময় ফিকে হয়ে যায়, লাভ লেটার তার ব্যতিক্রম। জাপানি ভাষায় নির্মিত এই মুভিটি শুধু রোমাঞ্চ নয়, টুইস্টেও ভরপুর। ১০৪ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল। Shunji Iwai পরিচালিত ছবিটির IMDb রেটিং ৮/১০।

Schindler’s List: জার্মানরা পোল্যান্ড দখল করার পর যখন পোল্যান্ডের সব ইহুদিদের বিভিন্ন শহরে পুনর্বাসিত করছিল, ঠিক তখনই ব্যবসায়ের উদ্যেশে পোল্যান্ড আসেন জার্মান ব্যবসায়ী অস্কার সিন্ডলার, যার আগমনের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ শরণার্থী ক্যাম্পে পশুর মত বসবাস করা ইহুদীদেরকে যাতে নিজ কারখানায় শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু এক সময় সিন্ডলার বুঝতে পারেন পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান হলো মানুষ আর মানবতা। গণহত্যা থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি ইহুদিদের নামের তালিকা তৈরি করেন এবং তার সব সম্পত্তির বিনিময়ে তিনি এই তালিকার সকল ইহুদিদের কিনে নেন। এই তালিকাই মূলত schindler’s list. এই মুভিটিরও শেষ দৃশ্য আপনাকে কাঁদতে বাধ্য করবে। IMDb-র সেরা ২৫০ এর তালিকায় থাকা মুভিটির স্থান ৮ম। ১৯৫ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি ৭টি ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছিল। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি পরিচালনা করেন বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ।

Tae Guk Gi: The Brotherhood of War:  কোরীয়-যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত “ব্রাদারহুড” মুভির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দু’ভাইয়ের মাঝে চিরস্থায়ী ভ্রাতৃত্ববোধকে কেন্দ্র করে। দেশভাগের সময় আলাদা হয়ে যায় তারা, তারপর পঞ্চাশ বছর পর যখন তাদের আবার দেখা হয়, তখন বড় ভাইটি আর এই দুনিয়ায় নেই।

বড় ভাইয়ের দেহাবশেষের পাশে ছোট ভাইয়ের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখে আপনি না কেঁদে পারবেন না। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত মুভিগুলোর মাঝে তুলনামূলক বিচারে ব্রাদারহুড অন্য সব মুভিকেই ছাড়িয়ে যায়। Je-kyu Kang এর পরিচালনায় মুভিটি ২০০৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল। ১৪০ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৮.২/১০।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।