জানুন প্রাকৃতিক কিন্তু অপরিশোধিত মধু্র পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে

Side Effects Of Raw Honeyআমাদের একটা বিশ্বাস কাজ করে যে কোন কিছু প্রাকৃতিক হলেই তা ভালো-উপকারী। এর ফলে নেতিবাচক কোন দিক আছে কিনা সেটি জানার তার প্রতি কোন আগ্রহ বা কৌতুহল মনে সৃষ্টি হয় না। মধু তেমন একটা খাবার যা প্রাচীনকাল থেকে নানা ভাবে ঔষধি রুপে ব্যবহার হয়ে আসছে। এখনো আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে সবার শরীরের গঠন যেমন এক না তেমন শারীরিক অভ্যন্তরীন কার্যপ্রণালীও এক রকম না। তাই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও সবার ক্ষেত্রে এক ভাবে দেখা যাবে তা ভাবাও ঠিক না।

মধুর উপকারিতা আছে সত্য। তবে এটাও মনে রাখতে হবে এটির কিঞ্চিত অপকারীতাও আছে বটে। উদাহরণে বলা যায়-ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় মধু তৈরী প্যাক সব ধরণের ত্বকের জন্য কার্যকরী হয় না। অনেকেরই মধুর এলার্জি থাকে। আজকে আমরা জানবো কাঁচা বা অপরিশোধিত মধুর (raw honey) কিছু ক্ষতিকর দিক। আমরা জানি পাস্তুরাইজেশন (pasteurization) এমন প্রক্রিয়া যেখানে তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যকে জীবাণু মুক্ত করা হয় অর্থাৎ পাস্তুরায়নহীন মধু মোটেও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া মুক্ত নয়।

খাদ্যে বিষক্রিয়া (food poisoning)

যখন আমরা অপরিশোধিত অবস্থায় মধু খেয়ে থাকি, তার মধ্যে সেই সব উপদান বিদ্যমান থাকে যা খাদ্য বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। যার ফলে অনেকে মধু সেবন পরবর্তী শরীরে নানা সমস্যায় ভোগেন। যেমন- ডায়রিয়া,বমি,জ্ব্রর ইত্যাদি। আপাতভাবে এই সব সমস্যাতে মৃত্যু ঝুঁকি না থাকলেও, বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর শারীরিক কষ্ট বা যন্ত্রণা কম নয়। তাই এইসব উপসর্গ দেখা গেলে সে ব্যাপারে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এতে করে আপনি এলার্জিক কিনা সেটিও বেরিয়ে আসবে।

চর্মরোগ জনিত সমস্যা (skin diseases)

অনেকে মৌচাক থেকে সংগ্রহের পর সাথে সাথে কাঁচা অবস্থায় মধু খাওয়াকে বিভিন্ন ঋতু পরিবর্তন জনিত শারীরিক সমস্যার প্রতিষেধক হিসেবে বিশ্বাস করে থাকে। কিন্ত এই অবস্থায় মধু খেলে, মধুর সাথে সাথে পরাগরেণু পেটে চলে যাবে এবং কি পরিমাণ খাচ্ছেন তাও পরিমাপ করতে পারবেন না। এর ফলে আপনার চামড়ায় ফুসকুড়ি,চুলকানি ইত্যাদি দেখা যাবে।

হৃদরোগের সমস্যা (cardiac diseases)

মধু বিভিন্ন ধরণের ফুল থেকে তৈরী হয়ে থাকে। আর ফুলের যত্নের সুবাদে নানা রকম রাসায়নিক সার পদার্থ ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কাঁচা বা অপরিশোধিত অবস্থায় সেই রাসায়নিক উপাদান কিছুটা হলেও বর্তমান থেকে যায়। বাগানে বা নার্সারীতে ব্যবহৃত এই সব সার আমাদের শরীরের নানা ক্ষতি করতে পারে।যেমনঃ স্নায়ুতন্ত্রকে দূর্বল করে দেয়া,মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়া। সাথে সাথে যদি কেউ বেশি পরিমাণে এমন মধু খেয়ে থাকেন, তবে তার হৃদরোগ জনিত সমস্যা নিশ্চিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ,নবজাতককে কোন অবস্থাতেই মধু খেতে দেয়া উচিত না। বিশেষ করে এক বছরের কম  বয়সী শিশুকে। সাথে সাথে উপরোক্ত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া এড়াতে সব বয়সীদের পাস্তুরাইজ করা মধু খাওয়া উচিত।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।