ডিভোর্সের পর সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য অবশ্যই করণীয়

divorcettডিভোর্স মানেই একটি সাজানো গোছানো সংসারের ইতি ঘটা। এতদিন যে জিনিসগুলো দুজন মানুষের জন্য সমান অধিকারের ছিল হঠাৎ সেই সব কিছুর উপর দুজন মানুষের আলাদা আলাদা অধিকারবোধ জন্মানো। আর ঠিক একইভাবে ডিভোর্সের পর নিজেদের অন্যান্য সব জিনিসপত্রের মতো আদরের সন্তানের উপরও বাবা মা দুজনের পারস্পরিক বিপরীতমুখী অধিকারবোধের জন্ম হয়। যার মাসুল দিতে হয় সন্তানকে।

মা বাবা দুজনের এই পরস্পর সংঘর্ষমূলক আচরণের শিকার হয়ে সন্তান হয়ে পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আর অসহায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে অধিকার আদায়ের লড়াই করতে গিয়ে বাবা মা সন্তানের এই অসম মাসনিক যন্ত্রণার দিকটি সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান।

কিন্তু সন্তানের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রত্যেক বাবা মায়ের উচিৎ ডিভোর্স পরবর্তী সময়ে সন্তানকে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসা। হয়তো ভাবছেন কি করে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে আপনার আদরের সন্তানকে বের করে নিয়ে আসবেন?

আসুন আপনাদের সুবিধার্থে কিছু পরামর্শ প্রদান করা যাক।

আপনার সন্তানকে সত্যটা বলুন

আপনাদের ডিভোর্সের ব্যাপারে সন্তানকে অন্ধকারে রাখবেন না। তাকে আপনাদের ডিভোর্সের কারণ সম্পর্কে সত্যিটা জানান। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কারণ যেটাই হোক সেটার উপস্থাপনের ধরণ যেন আপনার সন্তানের জন্য উপযোগী হয়। শুধু আপনার প্রাক্তন সঙ্গীকে সন্তানের কাছে দোষী করতে যেয়ে অতিরঞ্জিত কোন কাহিনী আপনার বাচ্চাকে শোনাবেন না। যখনই আপনার সন্তান আপনাদের ডিভোর্সের সত্যি কারণটা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে তখন এই ডিভোর্স জনিত খারাপ প্রভাব থেকে সে দ্রুত নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে।

সন্তানের সম্মুখে আপনার প্রাক্তন সঙ্গীকে দোষারোপ করবেন না

হতে পারে আপনাদের দুজনের মধ্যে আজ আর কোন ভালোবাসা বা আবেগ অবশিষ্ট নেই। আর সেকারণেই হয়তো আপনি নিজের ইচ্ছে মতো আপনার সঙ্গীকে দোষারোপ করতে পারেন তাকে অপরাধীর কাঠগড়ায়ও দাঁড় করাতে পারেন। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন এর কতোটা খারাপ প্রভাব আপনার সন্তানের উপর পড়বে? তাই আপনার সন্তানকে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে চাইলে তার সম্মুখে আপনার সঙ্গীর খারাপ দিক বা তাকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। শুধু শুধু তার কোমলমতি মনটাকে বিষিয়ে তুলবেন না।

আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখুন

আপনাদের ডিভোর্সের সবচেয়ে বাজে যে প্রভাবটি আপনার সন্তানের উপর পড়ে সেটা আপনার সন্তান নিজেকে  ভীষণ রকমের অরক্ষিত অনুভব করে। মা বাবা দুজনের এই হঠাৎ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাটি আপনার সন্তানের মনে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই যদি সন্তানকে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে চান তাহলে আগে তাকে এই অনুভূতিটুকু উপলব্ধি করান যে সে সুরক্ষিত আছে।

নিজেকে সন্তানের কাছে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে তুলে ধরুন

ডিভোর্সের পরবর্তী সময়গুলোই আপনার সন্তান স্বভাবতই দিশেহারা অবস্থায় থাকবে। সে চাইবে তার মনের ভেতর সর্বদা ঘুরপাক খাওয়া প্রশ্ন আর চিন্তা ভাবনাগুলো কাছের কারও সাথে আলোচনা করতে। এখানে সন্তানকে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে বের করে নিয়ে আসতে আপনি নিজেকে সন্তানের কাছে একজন মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে তুলে ধরুন। যখন আপনার সন্তান তার মনের ক্ষোভ বা আক্ষেপ নিজের ভেতর থেকে কথার মাধ্যমে বের করে দিতে পারবে ততবেশি সে স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।

সন্তানের প্রতি বাড়তি যত্নবান হোন

বাবা মায়ের ডিভোর্স হওয়ার পর একজন সন্তান নিজেকে নিয়ে অসহায় অনুভব করতে বাধ্য। এই সময় তার দরকার পড়ে বাড়তি আদর যত্নের। আর যদি এই সময়টায় আপনার সন্তান এটুকু না পাই তাহলে ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব তার উপর পড়তে বাধ্য। তাই এইসময়ে আপনার সন্তানের প্রতি আরও বেশী যত্নবান হন। তাকে বেশী সময় দিন বেশী করে তার প্রতি আদর ভালোবাসা প্রদর্শন করুন। দেখবেন আপনার সন্তান ঠিক ডিভোর্সের খারাপ প্রভাব থেকে বের হয়ে আসছে।

সন্তানকে স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের কাছেই রাখবেন না

মনে রাখবেন একজন সন্তানের সঠিক জীবন যাপন ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বাবা মা দুজনের স্নেহ ও ভালোবাসার কোন বিকল্প হয়না। কিন্তু ডিভোর্স হলে যা হয় তা হল সন্তানের দায়িত্ব বাবা বা মায়ের মধ্যে যেকোন একজন পেয়ে থাকে আর যার খুব খারাপ প্রভাব পরে আপনার সন্তানের উপর। সেকারণেই সন্তানকে যদি ডিভোর্সের নেতিবাচক বা খারাপ দিক থেকে বের করে নিয়ে আসতে চান তাহলে তাকে শুধু নিজের কাছেই আটকে রাখবেন না। তাকে তার বাবা\মায়ের সাথে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ করে দিন। এতে করে সে নিজেকে কখনো বিচ্ছিন্ন ভাববে না আর হীনমন্যতায় ও ভুগবে না।

সন্তানকে কাছে রাখার জন্য প্রতিযোগিতায় নামবেন না। এতে করে আপনার আদরের সন্তানের উপর ডিভোর্স নামক শব্দটার খারাপ প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশী। যেটা থেকে পরবর্তীতে তাকে বের করে আনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। নিজেদের ইগো আর একে অন্যকে হয়রানি করানোর যাঁতাকলে সন্তানকে বলি হতে দেবেন না।

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।