সাম্ভালা ট্রিলজি–অবসরে পড়ার জন্য এক অসাধারণ মৌলিক থ্রিলার

samvalaখুব ছোটবেলায় পড়েছিলাম শেকসপীয়ার। তারপর একটু বড় হয়ে জুলভার্ণ, এইচ জি ওয়েলস, আগাথা কৃষ্টি, জ়ে জ়ে রাওলিং, আইজাক আজিমভ আর্থার কোনান ডয়েল আর ড্যান ব্রাউন। সীডনী শেলডন, টমাস হ্যারিস, ফেড্রিক ফরসাইথ, আলেকজান্ডার বেলায়েভ, স্টিগ লারসন, ডেভিড বালদাশি, রবার্ট ব্লচের মত বিশ্বখ্যাত লেখকদের পাশাপাশি যদি একটি বাংলাদেশি নাম শুনতে পান- শরীফুল হাসান, তবে আপনার কেমন অনুভুতি হবে?

খানিকটা অবাক- এসব বিশ্বখ্যাত লেখকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শরীফুল হাসানের নাম কেন ? আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি- শরীফুল হাসান বাংলাদেশের একমাত্র মৌলিক থ্রিলার লেখক, যার বই দেশের বাইরে থেকে ইংরেজিতে অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে ! তাও আবার তার প্রথম মৌলিক বই- সাম্ভালা!

বাংলাদেশের হাজার হাজার গ্রামের মধ্যে অতি সাধারণ এক গ্রাম। কাহিনীর শুরু হয় সেখান থেকেই। কিন্তু এই অসাধারণ কাহিনী আটকে থাকেনি ঐ সাধারণ গ্রামে। আটকে থাকেনি সময়ের বেড়াজালেও। বাংলাদেশের – নানা জায়গা থেকে বিশ্বের নানা স্থানে পৌঁছে গেছে কাহিনীর পরিধি, পৌঁছে গেছে বর্তমান থেকে সুদূর অতীতে। তিনটি আলাদা বই মিলে পূর্ণাঙ্গ সাম্ভালা ট্রিলজি।

কাহিনী সংক্ষেপ

একটি শব্দ – যাকে ঘিরে আবির্ভূত হচ্ছে রহস্য। “সাম্ভালা”। কি এই সাম্ভালার অর্থ ? এটা কি কোন জিনিসের নাম ? কোন জায়গার নাম ? কোন মানুষের নাম ? কোন জাতির নাম ? নাকি অন্য কিছু? বেশ কিছু মানুষ নেমেছে এই সাম্ভালার খোঁজে। তবে প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য ভিন্ন।

সাম্ভালা

অদ্ভুত এক লোক। হাজার বছর ধরে পথ চলছে সে। অন্যদিকে এক শয়তানের সাধক আর তার একনিষ্ঠ বাহিনী। আর সাধারণ ছেলে রাশেদ। নিজ বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। পিছনে লেগেছে পুলিশ। শুধু পুলিশ নয় তার বন্ধুকে যারা মেরেছে তারাও তাকে খুঁজছে।

সাম্ভালা দ্বিতীয় যাত্রা

হাজার বছরের পরিব্রাজক নেমেছেন সাম্ভালার সন্ধানে। তার পিছে লেগেছে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। আবার ডঃ কারসন এবং ডঃ আরেফিনও নেমেছেন সাম্ভালার খোঁজে। অন্যদিকে রাশেদের যেন বিপদ পিছু ছাড়ছে না। জড়িয়ে পড়েছে গুপ্তধন উদ্ধারে। বন্ধুকে বাঁচাতে হলে তাকে খুঁজে বের করতেই হবে ঐ গুপ্তধন।

সাম্ভালা শেষ যাত্রা

সাম্ভালার খোঁজে তিব্বতে এসে উধাও ডঃ আরেফিন। তাকে খুঁজে বের করতে বন্ধুকে নিয়ে রাশেদও হাজির হল তিব্বতে। কিন্তু সে জানেনা তাদের পিছনে পিছনেই চলেছে বিপদ। পরিব্রাজক লখানিয়া সিংও আছেন সাম্ভালার খোঁজে। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বীও তার থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। শুরু হল মানবেব সাথে দানবের লড়াই। কে জিতবে সেই শেষ লড়াইয়ে ?

কেন পড়বেন বইটি?

এই সিরিজটি পড়ার সময় বা পড়া শেষে প্রথম যে ভাবনাগুলো মাথায় আসে তার মধ্যে অন্যতম হল এই সিরিজটাকে কোন জেনারে ফেলা যায়। কখনো মনে হবে ফ্যান্টাসি, কখনোবা এডভেঞ্চার। আসলে এই সিরিজটি ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিলার, গুপ্তধন, সিক্রেট সোসাইটি সব কিছুর সংমিশ্রণের একটি অনন্য উদাহরণ।

কোথায় পাবেন বইটি?

সিরিজটি বাতিঘর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত। তিন খন্ড মিলিয়ে মোট পৃষ্ঠার সংখ্যা প্রায় ৮০০। গায়ে লেখা মূল্য (২০০+২২০+২৪০) ৬৬০ টাকা। ঢাকায় বাতিঘরের নিজস্ব শো-রুম থেকে নিলে পুরো সিরিজটি পাবেন ৩৩০ টাকায়। বাইরের কোন লাইব্রেরি থেকে নিলে স্থানভেদে ৪৫০-৫০০ পর্যন্ত পড়তে পারে।
লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।