কিভাবে বুঝবেন আপনার শিশু বা আপনি কৃমি সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন কিনা

Roundworm  Infection  Causes,  Symptoms  And  Prevention  Tipsবাংলাদেশে ইতোমধ্যে সচেতনতা তৈরী লক্ষ্য নিয়ে “কৃমি সপ্তাহ “পালিত হচ্ছে। শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়ষ্ক সবাই কৃমি সংক্রান্ত ”ascariasis” রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কৃমি বা গোল কৃমি (round worm) হলো এক ধরণের পরজীবী, যা বসবাস,খাদ্যের উৎস ও বংশ বিস্তারের স্থান হিসেবে মানব দেহকে বেছে নেয়। সাধারণত এই রোগের প্রাদূর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকা যেমন- সাব-সাহারা আফ্রিকা,চীন,ল্যাটিন আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়াতে।

পরজীবী এই কৃমি দেহে প্রথমে ডিম্বাণু আকারে প্রবেশ করে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে আরো অনেক ডিম তৈরী করে। যখন এরা সংখ্যায় বেশি হয়ে যায়, তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে বিচরণ করা শুরু করে দেয়। তখন নানা উপসর্গ ও জটিলতা তৈরী হয়। সাধারণত এই সংক্রমণের লক্ষণ সব সময় দেখা যায় না। ফলে আক্রান্ত হলেও বুঝতে অনেক দেরী হয়ে যায়। অনেক সময় পায়ু পথে বেরিয়ে আসে। এর ফলে অনান্য সদস্যরা সংক্রমিত হয়।

সংক্রমণের কারণ সমূহ

এই পরজীবী কখনো আমরা নিজের অজান্তেই খাবারের সাথে খেয়ে ফেলি, কখনো হাত-পায়ের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে থাকে।

  • দূষিত পানি পান করা ।
  • অপরিষ্কার খাবার,শাক-সবজি খাওয়া।
  • অপরিষ্কার স্যানিটেশন ব্যবস্থা।
  • হাত না ধুয়ে খাবার গ্রহণ।
  • দূষিত মাটি স্পর্শ করা
  • আক্রান্ত ব্যাক্তির মল মূত্রের মাধ্যমে মাধ্যমে
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা ও কাজ করা।

সংক্রমণের লক্ষণ সমূহ

শরীরে এই পরজীবী প্রবেশের ৪-১৬ দিন পরে লক্ষণ দেখা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে দুটি পর্যায় রয়েেছে। প্রথম পর্যায়ের লক্ষণ-

  • জ্বর।১০৪ ডিগ্রি বা এর বেশি
  • শব্দ করে করে নিশ্বাস ফেলা
  • শুকনো কফ-কাশি

শেষ পর্যায়ের দিকে জটিলতা ধারণ করে থাকে। যেমনঃ পায়ুদ্বারের কাছাকাছি খাদ্যনালীর নিম্নাংশে ব্লক তৈরী করা। তবে এই পর্যায়ের লক্ষণ গুলো ৬ সপ্তাহের পরে প্রকাশ পায়।

  • মলদ্বা্র দিয়ে কৃমি বের হওয়া। রক্তও দেখা যেতে পারে।
  • পেটে ব্যাথা
  • বমি বমি ভাব/বমি হওয়া
  • ডায়রিয়া

প্রতিকারে করণীয়

সংক্রমিত না হওয়ার জন্য দরকার নিজের স্বাস্থ্য সচেতনতা আর লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যায়। লক্ষণ প্রকাশ পেলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-

  • পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন থাকা। খাবার আগে,রান্নার আগে ও স্যানিটেশন শেষে অবশ্যই হাত ধোয়া
  • যেসব এলাকাতে এই সমস্যার সম্ভাবনা আছে সেখানে যাওয়ার আগে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে যাওয়া এবং কাঁচা ফলমূল ধুয়ে খাওয়া।
  • খাবার রান্না বা গরম করা ছাড়া না খাওয়া।
  • যেখানে আবহাওয়া গরম ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল,সেখানকার মাটি সংস্পর্শে আসলে অবশ্যই ভালোভাবে নিজেকে পরিষ্কার করে নেয়া।

সতর্ক থাকুন কৃমি থেকে, সুস্থ থাকুন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।