গলা ব্যথা সমস্যার ঘরোয়া নিরাময়

Home Remedies of Throat Painআমাদের দেশে ঋতু পরিবর্তণের সাথে সাথে নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়। গলা ব্যথা (throat pain) তার মধ্যে অন্যতম। যা কখনো শীতকালীন ঠান্ডায়, কখনো গ্রীষ্মকালীন উত্তাপ থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি বা বাতাস থেকে, কখনো বর্ষার আদ্র আবহাওয়ায় হতে দেখা যায়।

শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। ঘরোয়া কিছু জ্ঞান থাকলে এই ধরনের শারিরীক সমস্যা দূর করা যায়। যা প্রাথমিক চিকিৎসার মত কাজ করে থাকে। জানা যাক তেমন কিছু বিষয়।

  • ভিনেগার-মধু মিশ্রণঃ এক কাপ গরম পানিতে ১টেবিল চামচ আপেল রসের সিরকা (Apple Cider Vinegar) ও ১টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পানীয় হিসেবে পান করলে বেশ উপকার পাওয়া যাবে। এর স্বাদ ভালো নাও লাগতে পারে অনেকের। তবে এই পানীয়তে এসিডিটি ও মধু থাকায় এটি ব্যক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যথাকে শীতল করে। কেউ যদি পান করতে না চায় তবে আধা কাপ গরম পানিতে শুধু ২টেবিল চামচ;আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে গার্গল করতে পারে।
  • রসুনের রসঃ শুনতেই একটু অন্যরকম লাগলেও এটি একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উপাদান যা ব্যকটেরিয়া ধ্বংস করার সাথে সাথে গলা ব্যথার জন্য দায়ী জীবানুকেও ধ্বংস করে। একটি রসুনের কোয়া ২/৩ ভাগে টুকরো করে মুখের ভেতর রেখে চুষতে হবে দিনে ১বার।
  • বেকিংসোডাঃ ঘরে প্রায়শ বেকিংসোডা থাকে। যা গলা ব্যথার সবচেয়ে ফলফসূ ঘরোয়া উপাদান। ১কাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ ও আধা চা চামচ বেকিংসোডা মিশিয়ে মুখের ভিতর রেখে রেখে মিশ্রণটি দিয়ে কুলকুচো করতে হবে দিনে ২/৩ বার।
  • গোল মরিচ পানীয়ঃ ১কাপ সিদ্ব পানিতে আধা চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়ো , ১চা চামচ মধু ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর হালকা গরম থাকতে পান করতে হবে।
  • লবঙ্গঃ গলা ব্যথায় এর ব্যবহার অনেক পুরনো। এটি ব্যথানাশকের মত কাজ করে থাকে এবং এন্টি-ব্যক্টেরিয়াল গুণ সম্পন্ন। ১/২ টি খন্ড মুখে দিয়ে চুষতে হবে। নরম হয়ে আসলে এটিকে চিবোতে হবে চুইংগামের মত। চাইলে মুখে পানি রেখে রেখেও এই কাজ করা যায়। খেয়ে ফেললেও ক্ষতি নেই।
  • ডালিমের পানীয়ঃ এটি গলা ব্যথার সংক্রমণের সাথে লড়তে সক্ষম। যা ফোলা কমাতে ও ব্যথা কমাতে কার্যকরী। ১টি ডালিম ছিলে এর দানা গুলো বের করে ৩-৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করতে হবে ১৫ মিনিট। সেটি এরপর পানীয় আকারে পান করুন। কুলকুচোও করা যায়। চাইলে দানা গুলো শুকিয়ে সংরক্ষণও করা যায়।যাতে তৎক্ষণাত কাজে লাগানো যায়।জুস পাওয়া গেলে সেটিও দিনে ৩বার পান করা যায়।
  • আদা পানীয়ঃ আদা একটু ঝাঁঝালো যা ঠান্ডা জনিত সমস্যায় বেশ কার্যকরী। ২ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা আদার টুকরার চামড়া ছিলে ছোট টুকরো করে কেটে থেঁতলে ২-৩ কাপ পানিতে সিদ্ব করতে হবে ৩-৫ মিনিট। চাইলে মধু /লেবু দেওয়া যেতে পারে। চায়ের মত উষ্ণ থাকতে থাকতে পান করতে হবে।
  • দারুচিনি চাঃ ঘরোয়া এই মসলা ঠান্ডা জনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।যা স্বাস্থ্যকর ও সংক্রমণরোধী। ১-২টি দারিচিনি টুকরা নিয়ে ১-২ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি পান করা যেতে পারে। আবার চায়ের সাথে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

এগুলো অনুসরণ করুন। আশা করি উপকার পাবেন।
পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।