জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার আগে যে সব বিষয় অবশ্যই যাচাই করতে হবে

Questions to Ask When Buying Land, House or Flat

প্রথমেই বলে রাখছি আমি উকিল বা দলিল লেখক (ভেন্ডার) নই। তবে এই বিষয়ে আমার কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমাদের মত সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে তিল তিল করে টাকা জমিয়ে জীবনের একটা সময় একটি ঠিকানা গড়ে তোলার জন্য যার যার সাধ্যমত এক টুকরো জমি বা বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে চান। আর এখানেই থাকে সর্বস্ব হারাবার ঝুঁকি তাই ভালো ভাবে ভেবে চিন্তে এগোবেন।

জমি/বাড়ি/ফ্ল্যাট কেনার আগে যে সমস্ত বিষয় যাচাই বাছাই করতে হবেঃ

১. প্রথমেই আপনি জমি/বাড়ি বা ফ্ল্যাটটি নিজে সরজমিনে গিয়ে দেখবেন।

২. জমির রাস্তা আছে কিনা , জমির সীমানা যা বলা হয়েছে তা ঠিক আছে কিনা বা সীমানা নির্ধারিত করা আছে কিনা এবং যিনি মালিক জমিটি তার দখলে আছে কিনা এসব বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৩. জমির কাগজ পত্র বা দলিল পত্র দেখবেন। জমির মূল দলিল, সি.এস.পর্চা, আর.এস.পর্চা, সিটি জরিপ, খাজনা, ডি.সি.আর, নামজারি জমা ভাগের প্রস্তাব পত্র, যিনি জমির মালিক তার জাতীয় পরিচয় পত্র এসব নিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে রেকর্ড চেক করবেন, খাজনার অফিসে গিয়ে চেক করবেন যে জমির দলিলের মালিকের নামের সাথে সরকারি রেকর্ড ঠিক আছে কিনা।
বাড়ি/জমি ফ্ল্যাটটি যদি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হয় তবে অবশ্যই সেই অফিসে যেয়ে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিবেন যে সেই অফিসে দলিলের মালিকের নামে নামজারি আছে কিনা।

৪. বাড়ি/জমি/ফ্ল্যাটের মূল মালিকের সাথে কথা বলুন। তিনি কি কি কাজ করে দিবেন তা স্পষ্ট ভাবে বলে নিবেন। যেমন- বাড়ি/জমি ফ্ল্যাটটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হলে বেচা বিক্রির আগে সেল পারমিশন বা বিক্রয় অনুমতি নিতে হয় এবং সেল পারমিশন বা বিক্রয় অনুমতির জন্য বিক্রেতাকে আবেদন করবেন তারপর সরকারি ফি জমা দিয়ে সেল পারমিশন বা বিক্রয় অনুমতি নিবেন, দখল বুঝিয়ে দিবেন কি ভাবে, টাকার লেন দেন কি ভাবে হবে ইত্যাদি।

৫. দলিল লেখকের কাছে গিয়ে জেনে নিন দলিল রেজিস্ট্রি খরচ কত হবে। জানার পর যদি আপনি মনে করেন যে আপনি কিনতে পারবেন তবে পরিকল্পিত ভাবে বাড়ি/জমি/ফ্ল্যাট কেনার কাজটা সেরে ফেলুন।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ