কর্মক্ষেত্রের চাপযুক্ত পরিবেশে নিজেকে যেভাবে মানিয়ে নিবেনঃ ৪র্থ পর্ব

Guidance on Managing Pressure at Work
আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় অতিরিক্ত চাপে কাজ করে হাঁপিয়ে উঠি এবং একটা পর্যায়ে পছন্দের চাকুরিটি হয়ে যায় যন্ত্রণার কারণ। আজকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলব যে কিভাবে আমরা আমাদের কর্মস্থলের অতিরিক্ত কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা করব।

কাজের চাপ থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই। তবে আমাদের দক্ষতা ও কর্মপরিকল্পনাতে যেন এই অতিরিক্ত চাপ প্রভাব না ফেলে সেজন্য প্রয়োজন কিছু বাড়তি ব্যবস্থাপনা। আসুন জেনে নেই কিভাবে এই বাড়তি চাপ মোকাবেলা করে নিজের মানসিক স্থিতি বজায় রাখবেন।

খুঁজে বের করুন অতিরিক্ত চাপ এর কারণ (Find out the reason of additional pressure):

আমরা কাজ করতে করতে গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে একের পর এক কাজের চাপ। কিন্তু এটি আসলে কি সেটি বুঝতে হবে আগে। অর্থাৎ চাপটি কি পরিবেশ থেকে আসছে, আমার নিজের চিন্তার অতিরিক্ত কোন ফলাফল, আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব, নাকি কাজ ব্যবস্থাপনার অভাব বা অন্য কোন কিছু।

পরিবেশগত চাপের কারণ সমাধান করুন সহযোগিতার মাধ্যমে (Solve the pressure with cooperation):

আপনার অফিসে কাজ করার ধারা বা অফিস ইন্টেরিওর এ কোন পরিবর্তন আনতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার কথা বলুন। উদাহরণস্বরূপ যদি অতিরিক্ত গরম হয় আর সিলিং ফ্যান বা এ.সি এর ব্যবস্থা পরিবর্তন প্রয়োজন হয় এটি ম্যানেজমেন্টকে জানান। কিংবা আপনার বসার স্থানটি যদি স্বস্তিকর না হয় তাহলে কিভাবে একে কর্ম সহায়ক ও স্বস্তিকর করে নেয়া যায় সেটি আলোচনা করুন ও একে অন্যকে সহযোগিতা করুন। কিংবা অফিসের কোন কর্মচারীর কোন কাজ যদি আপনার জন্য মানসিক চাপের কারণ হয় সেটি নিয়ে কথা বলুন এবং তাকে সহযোগিতা করুন যেন কাজটির নেতিবাচক প্রভাব না পরে।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবকে সমাধানের জন্য সময় ও যত্ন নিন (Care for personal relationship too):

বাড়িতে স্ত্রী বা স্বামীর সাথে মনোমালিন্য, পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের কোন বিষয় নিয়ে আপনি অস্থির থাকলে অনেকসময় কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এসকল বাড়তি চাপ থেকে বের হয়ে আসতে বিভাজন প্রক্রিয়া অনেক সহযোগিতা করে। যেমন আপনার সময় ও চিন্তার কিছু বণ্টন ও বিভাজন করার অভ্যাস করতে হবে। এটা অনেকটা টাইম ম্যানেজমেন্ট এর মত। যেমন- বাড়ির চিন্তা বাড়ি পর্যন্ত রেখে আসা। বন্ধু বা পরিবারের কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে সেটি সমাধানের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা। নিজেকে নির্দেশ দেয়া যে বর্তমান কাজটিই আপনার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়াটি একটু কষ্টসাধ্য। তবে অনুশীলন করলে এটি সহজেই আয়ত্ত সম্ভব।

(আবার মনে রাখতে হবে, আমরা কর্মী তবে তারও আগে পরিবার ও সর্বোপরি এই সমাজের অংশ তাই গুরুত্ব নির্ধারণ করতে অবশ্যই ভাবতে হবে, যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে যে কেউ অসুস্থ বা ভয়াবহ অবস্থার শরণাপন্ন তাহলে সেক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে ছুটি নিয়ে সেটি সমাধান করুন আগে।)

কাজ ব্যবস্থাপনার জন্য নিজেকে তৈরি করুন (Prepare yourself for work management):

অনেকসময় সঠিক সময়ে কোন কাজ শেষ করতে না পারলে নতুন নতুন কাজ সংযুক্ত হলে সেটি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। তাই সঠিকভাবে কাজ ব্যবস্থাপনার জন্য নিজের দক্ষতা ও শিক্ষাকে আরও শাণিত করতে হবে।

নিত্য নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে এর প্রয়োগ করতে হবে। যেমন আগে হয়ত শুধুমাত্র ব্যক্তি বিশেষে ফাইল আলাদা রাখতেন, এখন বিষয় ও ব্যক্তি ভিত্তিক দুই রকম ফাইল রাখছেন। এরকম অনেক কাজ আছে যা কাজের সুবিধার্থে নতুন করে নিজেকে তৈরি করার মানসিকতা রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও পুরনো কর্মী যেমন নতুনদের সহযোগিতা করবেন তেমনি নতুনদের থেকেও অনেক নতুন করে জানার ও বুঝার মানসিকতা রাখুন। এছাড়াও নিজে অংশ নিন ও কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধ করুন বিভিন্ন কর্ম বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার এর আয়োজনে।

কর্মক্ষেত্রটি আপনার তাই নিত্যনতুন উদ্দীপনা ও স্বস্তি নিয়ে হোক আপনার কর্মপরিকল্পনা এটিই প্রত্যাশা।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ