আত্মহত্যার পথ থেকে কিভাবে একজনকে ফিরিয়ে আনবেন?

How To Save Someone From Suicideহঠাৎ করেই আমরা আমাদের চারপাশের কারো আত্মহত্যা (suicide) কিংবা আত্মহত্যার প্রচেষ্টার (suicide attempt) কথা শুনি। একজন মানুষ বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই এটা ঠেকানো যায় না কারণ আশেপাশের মানুষজন সেই মানুষটি সমস্যা বুঝতে পারে না। কিভাবে একজন মানুষকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আনবেন?

শুনুন (listen)

তার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করুন। পুরোটা না শুনে আপনার মতামত ঢুকিয়ে দেবেন না। এতে সে আরও হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাবে। কারণ আপনি তার পরিস্থিতি বুঝছেন না। এর আগেও চেষ্টা করেছিলো কিনা বা ইচ্ছা জেগেছিল কিনা এবং তখন কেন করে নি জানার চেষ্টা করুন।
View How to Help a Teen Who’s Talking about Suicide on Howcast

সময় নিন(take time)

প্রকাস্টিনেটিং বা সময় নেওয়া কাউকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচানোর শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। তবে, যুক্তি সঙ্গত কারনে আপনাকে সময় চাইতে হবে।
• প্রশ্ন করুন (question him)
• তাকে অন্য কোন কাজে ব্যস্ত রাখুন (engage him)
• তার অভিভাবক ও আশেপাশে যারা আছেন তাদেরকে তার অবস্থার কথা জানান, যাতে তারা এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে।
• তাকে বোঝান যে আসলে গুরত্বপূর্ণ, তুচ্ছ কেউ নয় (Make him feel important)
• তাকে জীবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করুন।
• আত্মহত্যা করলে সে কি কি হারাবে সেটা নিয়ে কথা বলুন।
• তার সমস্যাটি সমাধান করুন কিংবা অন্তত একটা আশ্বাস দিন যে, অল্প সময়ের মাঝেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে প্রতিজ্ঞা করুন, যে সমস্যার সমাধান হবেই।
• তাকে শান্ত করতে চেষ্টা করুন।
• তাকে জীবনের অন্যান্য দিক যেমন পরিবার, ক্যারিয়ারের গুরত্ব বোঝাতে চেষ্টা করুন।

কোরআন/ ধর্মগ্রন্থ পড়তে উদ্বুদ্ধ করুন (get help from the holy books)

কোথায় আছে কেউ বিপদে পড়লে, কোরআন পড়লে সমাধান পেয়ে যায়। যদিও আমি মুসলিম বলে কোরআন পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু, অন্য ধর্মের লোকজন চাইলে তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ পড়তে পারেন। আর যদি নিজেকে আবিষ্কার করতে চান, সব চেয়ে ভালো হয় একাধিক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়তে পারেন, যেমনঃ বাইবেল, তাওরাত, ভগবত গীতা, ইত্যাদি।

সারকাস্টিক পদ্ধতি (sarcastic method)

পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, এটা তো সত্য। কিন্তু আপনি কালকেও বেঁচে থাকবেন, এটা কি সত্য? মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য স্রষ্টাকে ধন্যবাদ দিন।

আপনি চলে গেলে পৃথিবী থেমে থাকবে না। আপনার বাবা মা নতুনভাবে অন্য ছেলে মেয়েদের মানুষ করা শুরু করবে। আপনার বর নতুন বউ পাবে আর সন্তানরা পাবে নতুন মা।

বরং, আপনি চলে গেলে কেউ কাঁদবে, এর চেয়ে বড় স্বার্থপরতা আর কিছু নেই। আপনি চলে যাবার পর সবাই অসুখী থাকবে? কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করে ফেলবে? বাহ, স্বার্থপরতা বলবো না কি বলবো? সেটাই যদি চান, বেঁচে থেকেই করুন না? কেউ মানা করছে? আপনি মরে গেলে এই কান্না বেশীদিন থাকবে না। কিন্তু বেঁচে থাকলে আজীবন কাঁদাতে পারেবন। এতই যদি কাঁদানোর মনোবাসনা থাকে, বেঁচে থেকেই কাঁদান।

ভালবাসার মানুষকে ভালো না বেসে, দায়িত্বহীনের মতো ফেলে বিদেশ পারি দিয়ে, জীবনেও দেশে ফিরে না যে স্বার্থপর পিতা, তার সাথে আপনার পার্থক্য কি থাকল? একটা বাবা একটা সংসারের জন্য কতখানি দায়িত্ব নিয়ে ছেলেপেলে মানুষ করে, সে ব্যাপারে আপনার কোন আইডিয়া নাই। বাইরের শত গঞ্জনা সহ্য করে দায়িত্ব পালন করে যায়। ভালবাসা না থাকুক, দায়িত্ব তো পালন করুন?

আপনি চরম দায়িত্বহীন আর স্বার্থপর। কখনও ভেবেছেন? আত্মহত্যার প্রচেষ্টা মাথায় নেয়ার আগে এসব কথা ভেবে দেখবেন একটু।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।