আপনি কিভাবে অনিদ্রার সমস্যা সমাধান করবেন? পর্ব – ২

Sleeping Man

ঘুমের সমস্যায় ভুগছে এমন মানুষ এর সংখ্যা অনেক। পূর্বের আর্টিকেল এ অনিদ্রা দূর করার কিছু পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছিলো কিন্তু ঘুমের সমস্যার সমাধান একটি জটিল এবং দীর্ঘ বিষয় হওয়ায় তারই ধারাবাহিকতায় আজকের লিখায় অনিদ্রা দূর করার এবং ভালো ঘুমানোর জন্য আরও কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোকে গুরুত্ব দিন – প্রতিদিন রাতে ঘুমানো গুরুত্ব পূর্ণ এটি বুঝার চেষ্টা করুন। রাতে আপনার ঘুম ভালো না হলে বা কম হলে তা সাস্থের জন্য যেমন খারাপ তেমনি পরদিন এর জন্য আপনার স্বাভাবিক কাজ কর্ম ব্যাহত হতে পারে। তাই ঘুম কে গুরুত্ব দিন এবং সম্ভব হলে ঘুমের জন্য একটি রুটিন অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন দিনের ঘুম কখনোই রাতের ঘুম এর ভালো বিকল্প নয়। সবসময় ঘুমাবেন পর্যাপ্ত পরিমাণে, প্রয়োজনের কম ঘুমানো যেমন খারাপ তেমনি প্রয়োজনের বেশী ঘুমানোও খারাপ ।

ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস গুলোকে বিছানা থেকে দূরে রাখুন – মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, আইপড ইত্যাদি আপনার বিছানা থেকে কয়েক ফিট দূরে রাখুন যাতে হাত বাড়ালেই এগুলো না পাওয়া যায়।

ঘরকে যথাসম্ভব অন্ধকার রাখুন – ঘুমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি হরমোন মেলাটোনিন। এটি আলোতে যথেষ্ট পরিমাণে মস্তিস্কে নিঃসরণ হতে পারেনা, মেলাটোনিন এর যথেষ্ট নিঃসরণের জন্য আপনার শোবার ঘরকে যথা সম্ভব অন্ধকার রাখুন।

শোবার ঘরে বাতাস ঢোকার এবং বের হবার ব্যবস্থা রাখুন – শোবার ঘরে যেন পর্যাপ্ত অক্সিজেন ঢুকতে পারে এবং ঘরের কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যেতে পারে এজন্য ব্যবস্থা রাখুন, সম্ভব হলে জানালা খুলে রাখুন কারণ রাতে ভালো ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন এবং ঘরে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়ে যাওয়া প্রয়োজন ।

ঘুম না আসলে উঠে পড়ুন – বিছানায় শোবার পর যদি মনে হয় আধা ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে কিন্তু ঘুম আসছেনা তবে উঠে পড়ুন এবং কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন অথবা ভালো কিছু পড়ুন তবে তা অবশ্যই ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এ পড়া যাবেনা, এর পর বিছানায় যেয়ে আবার ঘুমানোর জন্য চেষ্টা করুন, আবার ঘুমানোর চেষ্টা করুন। প্রতিদিনই ঘুম না আসা সত্ত্বেও বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকলে আপনার মন আপনার বিছানার সাথে অনিদ্রার সমস্যাকে সম্পর্কিত হিসেবে নিবে ফলে একসময় এই বিছানায় শুয়ে ঘুমানোটাই কঠিন হয়ে যেতে পারে।

ঘুমানোর সময় বারবার ঘড়ি দেখবেন না- অনেকে ঘুমানোর সময় বারবার ঘড়ি দেখে এর ফলে কখনো ঘুমাতে দেরী হলে বারবার ঘড়ি দেখার কারণে উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে ফলে ঘুম আসতে আরও বেশী দেরী হতে পারে সুতরাং ঘুমানোর সময় বারবার ঘড়ি দেখা থেকে বিরত থাকুন।

বিছানায় শোয়ার পর অতিরিক্ত নড়াচড়া করবেন না – অনেকেই বিছানায় শোয়ার পর কিছুক্ষণ পরপর নড়াচড়া করেন কিন্তু অতিরিক্ত নড়াচড়া করলে ঘুম আসতে দেরী হতে পারে এমনকি ঘুম আসলেও তা চলে যেতে পারে তাই নড়াচড়া কম করার চেষ্টা করুন এবং ঘুমে হারিয়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত এমন ভাবে শুয়ে থাকার চেষ্টা করুন যেন আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন।

আজকের মতো এখানেই সমাপ্তি টানা হল, পরবর্তী পর্বে আরও অনেক পদ্ধতি নিয়ে আমার লিখার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা ভালো থাকবেন এই প্রত্যাশায় বিদায়।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।