কাটিয়ে উঠুন নার্ভাসনেস বা স্নায়বিক দুর্বলতা

overcome nervousnessস্টেজে পারফর্ম করা, কাউকে পছন্দ করলে তা বলা, জনসম্মুখে কথা বলা বা বিভিন্ন সাক্ষাৎকার বা ভাইভা এসব ব্যাপার আমাদেরকে নার্ভাস বা স্নায়বিকভাবে দুর্বল করে তোলে।

নার্ভাসনেস হলো আমাদের চারপাশে যা ঘটছে তার প্রতি প্রতিক্রিয়া, যা মূলত আমাদের উপর নির্ভর করে। এই জন্যই একই পরিস্থিতিতে বিভিন মানুষ বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে। যেমন অনেকে কয়েকজন ব্যাক্তির সাথে কথা বলার সময় বা বিশাল ভীড়ের মধ্যে বা প্রেজেন্টেশনের সময় ঘাবড়ে যেতে পারে, অথবা কেউ সেইসময় চুপ করে থাকতে পারে।

  • প্রথমে গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। যতক্ষণ আরাম অনুভব করছেন ততক্ষণ করতে থাকুন।
  • নিজের সাথে ইতিবাচক কথা বলুন। নিজেকে বলুন ‘আমি পারি’ এবং বিশ্বাস করুন। কোন কাজটি আপনাকে ভীত করছে তা খুঁজুন এবং নিজের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন।
  • হাঁটুন। হাঁটলে ভীতি কিছুটা কমবে এবং স্নায়ুগুলোকে শান্ত করবে।
  • ঘুম কম হলে তা স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমান। তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • কল্পনা করুন, কাজটি শুধু সফলভাবে সম্পন্ন করেন নি বরং কাজটি যথাসম্ভব ভালোভাবে করেছেন। যেমন, স্টেজে কোন উপস্থাপনা করছেন, চিন্তা করুন যে সবাই আপনার কাজের প্রশংসা করছেন।
  • স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান। শরীরে ভিটামিনের প্রয়োজন। ভাজাপোড়া কম খান। শস্যদানা জাতীয়, বাদাম, বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি খান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • শারীরিক পরিশ্রমে যুক্ত থাকুন। বিভিন্ন রকম ব্যায়াম করুন। বাইরে সময় কাটান। খেলাধুলা করুন।
  • নার্ভাস হওয়ার জন্য নিজের উপর হতাশ হবেন না বা রাগ হবেন না। এটি খুবই সাধারণ অনুভূতি এবং নেতিবাচক প্রভাবের দিকে গুরুত্ব দিবেন না।
  • যে পরিস্থিতি আপনাকে নার্ভাস বা বিচলিত করে তার জন্য প্রস্তুত থাকুন। প্রস্তুতি যত ভাল হবে, তত বেশি আত্মবিশ্বাস থাকবে এবং কম নার্ভাস হবে।
  • সম্ভাব্য খারাপ ফলাফল সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা খুঁজে দেখুন এবং তার বদলে ইতিবাচক চিন্তা করুন।
  • নার্ভাস হয়ে অনেকেই দ্রুত কথা বলেন। লম্বা করে শ্বাস নিন এবং কথা বলার গতি কমান।
  • যেকোন কাজে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা করুন।

আশা করা যায়, এসব কাজের মাধ্যমে আপনার নার্ভাসনেস বা বিচ্চলিত হওয়ার সময়াটি অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।