নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন, কাটিয়ে উঠুন হীনমন্যতা

How to Overcome Inferiority Complex)আপনার বন্ধুটি হয়তো খুব ভালো একটা চাকরি করে। মাস শেষে মোটা অঙ্কের বেতন পায়। আর আপনি কোনরকম একটা খেয়ে পরে বাঁচার মতো চাকরি করেন। হতে পারে, আপনার কোন বন্ধু হয়তো মডেলদের মতো দেখতে। সেইরকম হ্যান্ডসাম। অথবা আপনার ঘনিষ্ট কোন বান্ধবী দেখতে অপরূপা সুন্দরী। আপনি তাদের মতো সুন্দর নন। এরকম হাজারো অভিযোগ, হীনম্যনতা আছে অসংখ্য মানুষের। হীনম্যনতা আসা একদম অস্বাভাবিকও নয়। কে ই বা চায়, কারো চেয়ে পিছিয়ে থাকতে? কেউ চায় না। সবাই ভালো থাকতে চায়, সুন্দর থাকতে চায়, সুখী হতে চায়।

কিন্তু আপনি একবারও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার শক্তির জায়গাটা কোথায়? আপনার সবই কি দুর্বলতা? আপনি সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকেন নিজের নানান দুর্বলতা নিয়ে। কিন্তু একবারও ভাবেন না, আপনার মধ্যেও হয়তো এমন কিছু আছে, যা আর কারো মাঝে নেই। আপনি অনন্য, অসাধারণ। সুন্দরভাবে বাঁচতে গেলে, সুখী হতে গেলে এসব চিন্তাভাবনা আপনাকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু কেন?

সারাক্ষণ নেতিবাচক চিন্তা আপনাকে ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবেঃ আপনি যদি সারাক্ষণই নিজের কি নেই, অন্যের কি আছে এসব নিয়ে ভাবনার সাগরে ডুবে থাকেন, আপনি ধীরে ধীরে ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারিয়ে যাবেন। দেহ আর মন, দুটোর উপরেই নেতিবাচক চিন্তার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। নেতিবাচক চিন্তা ক্রমাগত করতে থাকলে, হীনম্যনতায় মন আচ্ছন্ন থাকলে আপনার শরীরী ভাষা বদলে যাবে। আপনার মনও সংকুচিত হয়ে থাকবে। আপনি অল্পতেই রেগে যাবেন, অল্পতেই বিষণ্ণ হবেন। অল্পতেই কাঁদবেন। জীবনের কোন অর্থ আপনি খুঁজে পাবেন না। এভাবে আপনি নিজেরই ক্ষতি করবেন। বিপদ ডেকে আনবেন।

হীনম্যনতা আপনার আত্ম-উন্নয়নের অন্তরায়ঃ আপনি যদি সারাক্ষণ হীনম্যনতায় ভোগেন, নেতিবাচক চিন্তায় আপনার মন আচ্ছন্ন থাকে, আপনি নিজেকে সময় দিতে পারবেন না। আপনি যদি ভেবে থাকেন, অন্যের সাথে ক্রমাগত নিজেকে তুলনা করে আপনি নিজেকে তার পর্যায়ে নিয়ে যাবেন, তাহলে আপনি অনেক বড় ভুল করবেন। এভাবে নিজেকে ক্রমাগত অন্যের সাথে তুলনা করে আপনি কখনো তার মতো হতে তো পারবেনই না, উপরন্তু তার মতো হতে না পেরে আপনি হতাশায় মুষড়ে পড়বেন। আপনাকে সময় দিতে হবে নিজেকে উন্নত করার জন্য। নিজের শক্তিশালী দিকগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোকে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য। আর নিজের দুর্বলতা, অক্ষমতাকে সক্ষমতায় পরিণত করার জন্য।

অহেতুক তুলনা কখনো পার্থক্য লুকাতে পারে নাঃ একজন হয়তো খুব ভালো করে, গুছিয়ে কথা বলতে পারে। যেকোন আড্ডার আসরের মধ্যমণি সে। তাকে নিয়ে সবার কি চাহিদা! আপনি হয়তো একটু চুপচাপ। কথা একটু কম বলেন। নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু আপনারও ইচ্ছা হয়, সবাই যদি আপনাকে নিয়ে মাতামাতি করতো! আপনি যদি কোন আড্ডার মধ্যমণি হতে পারতেন! আপনাকে বলবো, সবাই কি সবকিছু পারে, বলুন? আপনি হয়তো চমৎকার গান করেন, অসাধারণ ছবি আঁকেন। অথবা আপনার লেখার হাত খুব ভালো। আরেকজন হয়তো ভালো অভিনয় করে। ভালো বিতর্ক করতে পারে। নাচতে পারে ভালো। অথবা কেউ অনেক ভালো ক্রিকেট খেলে। একেকজন একেক দিকে পারদর্শী হয়। এখন আপনি যদি সব কিছু নিজের মধ্যে ধারণ করতে না পেরে হা-হুতাশ করেন, আপনি ভুল করবেন। সেই আগের বলা কথাই আবার বলবো, “নিজের শক্তির জায়গা খুঁজে বের করুন। এটা আপনাকেই করতে হবে।“

আপনিই আপনার সাফল্যের পরিমাপকঃ জীবনে আপনি কতটুকু সফল, সেটা পরিমাপ করার ক্ষমতা একমাত্র আপনারই আছে। আর কারো নেই। জীবন আপনার। জীবনের আয়নায় নিজের সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনা করার দায়িত্ব, অধিকার সবই আপনার। আপনি যদি মাসে ২০ হাজার টাকা কামাই করে সংসার চালাতে পারেন, নিজের যা আছে এটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে কার সাধ্য আছে আপনাকে অসফল বলার? এমনও তো হতে পারে, যে আপনাকে অসফল বলছে, সে মাসে লাখ লাখ টাকা কামাই করেও সংসার জীবনে চরম অসুখী। নিজেকে নিজেই সুখী রাখতে পারলে, সন্তুষ্ট রাখতে পারলেই আপনি সফল।

জীবনে সুখী হতে গেলে, সফল হতে গেলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে। “আমার সেইটা নেই” এই কথার পরিবর্তে বলতে হবে “আমার এইটা আছে।“ কথাটা হয়তো খুব ছোট। কিন্তু অর্থ অনেক ব্যাপক। সাফল্যের পথে এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি, বড় পাথেয়।

হীনমন্যতা দূর করা নিয়ে আরো পড়তে চান? রইলো আপনার জন্য আরো কিছু লেখা

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।