সারাদিনের কাজগুলো গুছিয়ে নিন সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে

time managementদেখা যায় দিনের সময় কখনোই যথেষ্ট মনে হয় না। কিন্তু আমরা সবাই একই সময় অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টাই পাই। কেন মনে হয় কিছু মানুষ অন্যদের চাইতে সময় বেশী পায়? এই উত্তর নির্ভর করছে ভালো সময় ব্যবস্থাপনার (time management ) উপর। জীবনে সর্বোচ্চ সাফল্য লাভকারী ব্যক্তিরা তাদের সময় ভালভাবেই ব্যবহার করেছিলেন। সময় ব্যবস্থাপনা(time management) কৌশল দ্বারা আপনি আপনার কার্যক্ষমতার যথাযথ উন্নতি করতে পারেন।

সময় ব্যবস্থাপনা (time mangement) কি?

সময় ব্যবস্থাপনা হল এমন একটি উপায় বা দক্ষতা যে আপনি আপনার বিশেষ কাজে কতক্ষণ সময় ব্যয় করবেন তার ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা করা। যখন আপনি সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ভালোভাবে শিখতে পারবেন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তখন আপনি চাপ (stress) থেকে মুক্তি পাবেন। তখন আরও বেশী রিলাক্স হবেন এবং আপনার চাপ(stress) ও উদ্বিগ্নতা কমবে ।

  • তালিকা তৈরি করুনঃ এমন একটি তালিকা তৈরি করুন যা আসলেই আপনি ব্যবহার করবেন। আপনি চাইলে আপনার ফোন অথবা কম্পিউটারে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার লো আপনার তালিকাটি সহজসাধ্য কিনা তা নিশ্চিত করুন। যেমন দেখা গেল আপনি ৩০ টি তালিকা করলেন অথচ তার মধ্যে ১০ টিও করতে পারলেন না। নিজের ও অন্যের চাওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন এবং পরিকল্পনা করুন। এমনকি আপনি চাইলে তিন ধরনের তালিকা তৈরি করুন- ব্যাক্তিগত , ঘরের ও কাজের।
  • নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করুনঃ নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করুন এবং তাতে স্থির থাকার চেষ্টা করুন। কোন কাজের জন্য কতটুকু সময় ব্যয় করবেন তার সময়সীমা নির্ধারণ করুন। কাজগুলো সম্পন্ন করার আগে কিছুদিনের সময়সীমা নির্ধারণ করুন তাতে অন্য কাজও আগাবে।
  • একসাথে অনেক কাজ করা বন্ধ করুনঃ প্রায়ই দেখা যায় যারা বহু কাজ একসাথে করেন তারা ভাবেন যে তারা বেশী কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সবসময় এটা কার্যক্ষম হয় না। আমাদের মন তখনই ভালো কাজ করে যখন আমরা একটি কাজের দিকে মনোযোগ দিতে সক্ষম হই।
  • অন্যকেও দায়িত্ব দিনঃ এটা গ্রহণ করুন যে আপনি সবকিছু করতে পারবেন না এবং আপনার সীমাবদ্ধতার কথা মনে রাখুন। সত্যি ব্যাপার হলো যে এটা কোন ব্যাপার না যে আমরা কতটা ভালো, আমরা সবকিছু করতে পারি কি না। মাঝে মাঝে আমরা সাধ্যের চেয়েও বেশি নিয়ে ফেলি। অন্যকে দায়িত্ব দেয়া মানে দুর্বলতা নয়, এটা বুদ্ধিমত্তার সংকেত। দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি খুঁজুন এবং তাকেও কিছু দায়িত্ব দিন। এটি আপনার চাপ কমাবে এবং আরও কার্যক্ষম করবে।
  • নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করা বন্ধ করুনঃ পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নয়। সাধারণ হয়ে থাকার মধ্যে কোন ভুল নেই। যৌক্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এটা ভালো যে, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন তা কার্যক্ষম হবে। অর্জনসাধ্য নয় এমন কাজ শুধুই আপনাকে উদ্বিগ্ন করে তুলবে। তাই এটা মনে রাখুন যে “No one can be perfect. “
  • নিজেকে পুরস্কৃত করুনঃ যখন কোন কাজ সম্পন্ন করেছেন, তা উদযাপন করুন। কিভাবে উদযাপন করবেন তা আপনার ব্যাপার। যাতে আপনি আনন্দ পান তাই করুন। যেমন পরিবার বা বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যাওয়া।
  • কাজগুলোকে ভাগ করে নিনঃ বড় বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট করে ভাগ করুন এবং একটা একটা করে করুন।
  • সীমাবদ্ধতাকে সহজভাবে নিনঃ নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোকে গ্রহণ করুন এবং যা আপনার পক্ষে করা সম্ভব তার প্রতি যৌক্তিক প্রত্যাশা রাখুন।
  • তৈরি করুন কাজের তালিকাঃ প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করার অগ্রিম পরিকল্পনা করুন, কাজের তালিকা চোখের সামনে রাখুন।
  • বিশ্রাম নিনঃ বিশ্রাম আপনাকে যে শক্তি ক্ষয় হয়েছে তা ফিরে পেতে সাহায্য করবে এবং কাজে উদ্যমী হবেন।

সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আপনার দিনকে সহজ করবে। যা আপনার ক্ষেত্রে কাজ করে তাই করুন এবং তাতেই স্থির থাকুন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।