কোন কাজ অধিক আনন্দদায়ক করে তুলবেন যেভাবে

10409884_710958855616824_313365573_nধরুন বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আপনার হাতে কোন কাজ নেই। বাসায় একা বসে আছেন। কিংবা গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। অলস দুপুরে বসে বসে বিরক্ত আপনি। হতে পারে আজ রাতে আপনার প্রিয় দলের খেলা। অথবা প্রিয় একটি সিনেমা দেখতে চলেছেন। এই সময়গুলোকে চাইলেই কিন্তু অধিক উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব। জানতে চান কিভাবে? আসুন দেখি।

১) বর্ষার দিনটিতে যা করবেনঃ
বৃষ্টির দিনে আপনি বাসায় বন্দী। বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই। কি করা যায় বলুন তো? প্রথমে খাওয়ার কিছু তৈরি করে নিন। যেমন বাদাম ভাজা, ঝালমুড়ি, পেঁয়াজু ইত্যাদি। এবার আপনার মুঠোফোন, কম্পিউটারের প্লে লিস্ট সাজিয়ে তুলুন বর্ষার সব গান দিয়ে। চমৎকার একটা উপন্যাস বা প্রিয় কবিতার বইটি নিয়ে বসে যান বারান্দায়। ভাবুন তো পরিবেশটা। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি সুর, সাথে গরম গরম পেঁয়াজু, হাতে একটি কবিতার বই আর ভেসে আসছে “আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে।”
বৃষ্টির দিন বিরক্তিকর? আর কোন সুযোগ নেই তা ভাবার।

২) প্রিয় দলের খেলায় মেতে উঠুন বন্ধুদের নিয়েঃ
সামনেই বিশ্বকাপ ফুটবলের দামামা বাজতে যাচ্ছে। ধরুন প্রিয় দলের খেলা দেখতে যাচ্ছেন। আপনি যে দল সমর্থন করেন, আপনার বন্ধুদের মধ্যে আর যারা যারা সেই দলের সমর্থক আছেন তাদের বাসায় ডেকে নিন। সাথে যারা ঐ দল সমর্থন করে না তাদেরকেও ডেকে নিতে পারেন। এতে তর্ক আর খুনসুটির আসর দারুণ জমে উঠবে। আপনার টেলিভিশন যদি বেডরুমে থাকে সেটি বসার ঘরে নিয়ে আসুন। মেঝেতে বসার ব্যবস্থা করুন। পপকর্ণ, ডালভাজা এইসব রাখতে পারেন। যদি থাকে সেই দলের জার্সিটি, তা পরে ফেলুন। বন্ধুদের সাথে সেলফি তুলে যে ফেসবুকে দিবেন, সেটি তো আর বলে দিতে হচ্ছে না।

৩) গ্রীষ্মের অলস দুপুরেঃ
বর্ষার মত গ্রীষ্ম অতটা রোমান্টিক নয়। এই অভিযোগ অনেকেরই। তবে চাইলে উপভোগ্য করে তুলতে পারেন এটিও। বাসায় কাঁচা আম আছে নাকি দেখুন। সেটি ভালমত মরিচ লবণ মাখিয়ে নিন। এইবার দারুণ কোন একটা রোমাঞ্চ উপন্যাস বা রহস্য উপন্যাস নিয়ে বসে পড়ুন। অথবা ল্যাপটপে কোন একটি থ্রিলার সিনেমা ছেড়ে বসে যান। আর আপনি যদি হন গিটারিস্ট বা বাজতে পারেন অন্য কোন বাদ্য যন্ত্র সেটি নিয়েও বসে যেতে পারেন। গিটারে টুংটাং করতে করতে গ্রীষ্মের এই অলস দুপুর কিন্তু দারুণ কেটে যাবে।

৪) অধিক উপভোগ করুন প্রিয় গানটিঃ
গান তো সব সময়ই উপভোগ করার বিষয়। এটি আবার কিভাবে অধিক উপভোগ করতে হবে। ঠিক আছে আসুন জানি। আপনি প্রথমে একটি ‘সফট টাইপ’ গান নির্বাচন করুন। এমনিতে গানটি হয়তো আপনি অনেকবার শুনেছেন। রাস্তায় চলতে চলতে, ভার্সিটিতে ক্লাসের ফাঁকে বা কাজ করতে করতে। একদিন গভীর রাতে সব লাইট নিভিয়ে ফেলুন। জানালাগুলো খুলে দিন। ভালভাবে মুখ হাত ধুয়ে শুয়ে পড়ুন। চোখ বুজে হেডফোন কানে দিন। রুমে এক ঝলক বাউন্ডুলে বাতাস বয়ে গেল, আশেপাশে কোন শব্দ নেই, আপনি চোখ বুজে গানটি শুনছেন। গানটির সাথে সাথে হুড়মুড় করে আসছে হয়তো পুরনো কোন স্মৃতি। কেমন হবে ভাবুন তো একবার। পরীক্ষাটা আজ রাতেই করে ফেলছেন না কেন?

৫) হরর সিনেমা দেখতে যা করবেনঃ
দিনের বেলা হরর সিনেমা দেখা আর মোবাইলের ডিসপ্লেতে ফুটবল খেলা দেখা একই কথা। হরর সিনেমা দেখতে আপনি সহ মোট তিনজন সঙ্গী নির্বাচন করুন। তিনজনের বেশি নয়। সিনেমা দেখতে হবে অবশ্যই রাত ১২ টার পর। খেয়াল রাখবেন পরদিন যেন ছুটির দিন হয়। তা না হলে রাত জাগাটা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই রাত যদি হয় ঝড় বাদলের দিন তাহলে তো আর কথায় নেই। মুঠোফোন অবশ্যই সাইলেন্ট করে, সব কাজ সেরে তারপর বসুন। রুমের সব বাতি নিভিয়ে দিন। এইবার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করুন।

সবসময় সব কিছু আপনার মনের মতো করে তৈরি থাকবে এই ভাবনাটা ভুল। কখনো কখনো আপনাকে নিজেই পরিবেশ তৈরি করে নিতে হবে। কোন কিছু মন থেকে উপভোগ করতে চাইলে মনের মত পরিবেশ সাজিয়ে নিন। দেখবেন পড়াশোনার মত রসকষহীন ব্যাপারও তখন উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।