বাড়িয়ে তুলুন নিজের কর্মদক্ষতা

credibilityএখন সময়টাই প্রচন্ড ব্যস্ত। প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলেছে মানুষের কাজের পরিধি, কাজের গতি। পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি হয়তো বাড়ে নি, কিন্তু মানুষের কাজের গতি বেড়ে গেছে বহুগুণে। মানুষ এখন শুধুই ছুটছে। এই ছুটে চলাটা পুরোটাই শুধু সময়ের পিছনেই। সময়কে ধরার জন্যই মানুষের এই নিরন্তর চেষ্টা। আমরা এখন অনেক কম সময়েই অনেক বেশি কাজ করতে চাই। এই চাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই ‘সময় ব্যবস্থাপনা’ কথাটির জন্ম। কিছু ক্ষেত্রে এই সময় ব্যবস্থাপনাই একজন মানুষের কর্মদক্ষতা হিসেবে গন্য করা হয়। এই সময় ব্যবস্থাপনা কিংবা সব কাজ অসম্ভব দ্রুতগতিতে শেষ করতে চাওয়ার মানসিকতা হয়তো একদিক দিয়ে ভালো। কিন্তু আমাদের হয়তো মাথায়ই আসে না, দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

নদীর স্রোতের একটি স্বাভাবিক গতি থাকে। এই গতিতেই নদী অবিরাম বয়ে চলে একভাবে। কোনভাবে এই গতি যদি বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা নদীর পাড় এর ভাঙনের কারণ হিসেবে দেখা দিবে। মানুষের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। কোন কাজ দ্রুত থেকে দ্রুত, তা থেকে আরো দ্রুত করতে গেলে একসময় মানুষের শরীর সেই চাপ আর নিতে পারে না। তা তখন সহ্যক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়। ক্রমান্বয়ে মানুষ হয়ে পরে বিষণ্ণ।

তাহলে আর কিভাবে আমরা নিজেদের আরো বেশি কর্মক্ষম রাখতে পারি? কঠিন এই প্রতিযোগিতার যুগে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারি? কঠিন কিছুই না, শুধু এই কাজগুলো করতে হবেঃ

  • অগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাছাই করুনঃ আপনি সারাদিনে যত কাজ করেন, তার সবই কি গুরুত্বপূর্ণ? আপনার জীবনের জন্য জরুরী? অবশ্যই না। যে কাজগুলো আপনার জন্য আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেগুলোর একটা তালিকা তৈরী করুন। এবং আপনার দৈনন্দিন কাজের তালিকা থেকে সেগুলো ছেঁটে ফেলুন। আপনি কিছুটা অবসর পাবেন। আপনার কর্মদক্ষতাও বেড়ে যাবে।
  • কাজের পরম্পরা বুঝুনঃ আপনার হয়তো একদিন অনেক রকম কাজই থাকতে পারে। সব কাজই কি সমান গুরুত্বপূর্ণ? অথবা একই সময়ে শেষ করতে হবে? নিশ্চয়ই না। কোন কাজ সবার আগে শেষ করতে হবে অথবা কোন কাজটা সব কাজের পরে শুরু করলেও হবে, দিনের শুরুতেই সেটা বাছাই করে নিন। আপনারই সুবিধা হবে।
  • নিজেকে পুরস্কৃত করুনঃ আপনি অনেক কঠিন একটা কাজে ব্যস্ত আছেন। হতে পারে আপনার অফিসের কোন ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রইং, অথবা কোন জটিল হিসাবের মারপ্যাঁচ। নিজেকে নিজেই মনে মনে বলুন, “বাছাধন, এই কাজটা শেষ করতে পারলেই তুমি ‘পিজ্জা ইন’ এ একটা ফোর সিজন পিজ্জা খাচ্ছো।“ দেখবেন, চোখের পলকে আপনার কাজে গতি আসবে। কাজের শেষে নিজেকে নিজেই ট্রিট দিন না! ভালো লাগবে।
  • নেতিবাচক চিন্তা থেকে বের হয়ে আসুনঃ আপনার চিন্তাভাবনা হতে হবে ইতিবাচক। সারাক্ষণই মাথায় নেতিবাচক চিন্তা থাকলে তা ক্রমশই আপনার কর্মদক্ষতা কমিয়ে দিবে। আপনাকে পরিণত করবে অসার,অলস এক ব্যাক্তিতে। কাজেই, ইতিবাচক থাকুন।
  • নিজেকে নিজের অর্জনের জন্য ধন্যবাদ দিনঃ এক জীবনে মানুষ কি সবকিছু অর্জন করতে পারে? পারে না। এটা সম্ভব ও না। এই কথা ভেবে অনেকেরই মন খারাপ হতে পারে। অমুকের এটা আছে। তমুকের সেটা আছে। আমার কেন নেই? আপনি আপনার নিজের দিকেই একটু ভালোভাবে নজর দিন না! আপনার ভিতরেই এমন কিছু আছে, আপনিই এমন কিছু জীবনে অর্জন করেছেন যা তাদের নেই। হয়তো কারোরই তা নেই। নিজেকে ধন্যবাদ দিন। সামনে এগিয়ে যান।
  • নিজের সক্ষমতার উপর মনোনিবেশ করুনঃ কোন মানুষই সব কাজের কাজী হয় না। কেউ হয়তো ভালো গান গায়। কেউ হয়তোবা ভালো ছবি আঁকে। কেউ অনেক মেধাবী, বিসিএস ক্যাডারে ফার্স্ট হয়। কেউবা আবার ব্যাট হাতে মাঠে নামলেই ছক্কা মারে। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়। নিজের সক্ষমতা বুঝতে হবে সবার আগে। এটা অনেক বেশি জরুরী। কে কি বললো, কানে তোলাই যাবে না। জীবন আপনার, তাদের না।
  • ভুল থেকে মুক্ত থাকুনঃ কোন একটা কাজ করতে গেলে অনেক রকম ভুল-ত্রুটিই হতে পারে। এসব ভুল আপনার কাজের সময় এবং কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ভুল হতেই পারে। কিন্তু এই ভুলের পরিমাণটা যতটুকু পারা যায় কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।
  • একসাথে কাজ করুনঃ অনেক সময় দেখা যায়, অফিসের এক কোণে একা একা বসে কাজ করতে গেলে কর্মদক্ষতা কমে যায়। কাজ করতে ইচ্ছা করে না। কিছু কিছু কাজ আছে এমনই যে একা করার থেকে একসাথে কয়েকজন মিলে করলে কাজটা করতেও ভালো লাগে। তাই বলে আবার সব কাজ দলীয়ভাবে করতে যাবেন না যেন!
  • চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তন করুনঃ ধরা যাক, আপনার নিজস্ব একটা অফিসরুম আছে। অফিসে আপনার চেয়ারটা হয়তো এমন এক জায়গায় আপনি রেখেছেন, যেখানে বসে একটানা কাজ করলে আপনার ক্লান্তি আসে। একঘেয়ে লাগে। আপনার চেয়ারটা রুমের জানালার পাশে নিয়ে যান। অথবা রুমের দেয়ালে লাগিয়ে দিন পাবলো পিকাসোর কোন বিখ্যাত ছবি। রুমের পরিবেশটাই বদলে যাবে। আপনার কাজের আগ্রহও বেড়ে যাবে বহুগুণ।
  • নিজেকে নিখুঁত ভাববেন নাঃ কোন মানুষই নিখুঁত না। প্রত্যেকেরই কোন না কোন খুঁত আছেই। খুঁত থাকতে পারে আচার-আচরণে, খুঁত থাকতে পারে কাজে। আপনি যদি সব কাজ নিখুঁতভাবে করতে চান, আপনি কোনদিনও তা পারবেন না। কিছুটা উনিশ-বিশ থেকেই যাবে। এ নিয়ে মন খারাপ করাটা বোকামি। আপনার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সুন্দরভাবে কাজটা শেষ করুন। আপনি সফল হবেনই।

এই ১০ টি কাজকে নিজের জীবনাচরণের সাথে যোগ করে নিন। সময় গেলো, সময় গেলো বলে হা-হুতাশ করা বাদ দিন। আপনার কর্মদক্ষতা বেড়ে যাবে বহুগুণ।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।