কিভাবে একজন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করবেন

How To Help An Accident Victimজীবনে আমাদের এমন অনেক মুহুর্ত থাকে যখন আমরা কি করব বুঝতে পারিনা। যেমন কোন দুর্ঘটনা। সবকিছুর একটা পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে সেটা মানসিক ভাবে আমাদের বিপর্যস্ত হওয়ার পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে আসে। যদি জানতে পারি ঐ মুহুর্তে কি করব তাহলে আমরা দুর্ঘটনা থামাতে না পারলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমাতে পারব।

প্রথমে জানতে হবে দুর্ঘটনা আসলে কি ও কত প্রকার। যে ঘটনা আমাদেরকে শারীরিক, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয় সেটাই দুর্ঘটনা। এটি কয়েক রকম হয় যেমন-

১. প্রাকৃতিক (Natural disaster) যেমন- বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল ইত্যাদি

২. আকস্মিক (Incidental) যেমন- মৃত্যু সংবাদ, চাকুরী থেকে বরখাস্ত, প্যারালাইসিস বা রোগ, অসুস্থতা ইত্যাদি

৩. মানুষের তৈরিকৃত (Technical) যেমন- যুদ্ধ, ভাংচুর, সড়ক দুর্ঘটনা, বোমা বিস্ফোরণ, আগুন লাগা, সম্পর্কের ভাঙন, ভবন ধস, সাইবার আক্রমণ ইত্যাদি

এই দুর্ঘটনাগুলো চলাকালীন সময়ে দুর্ঘটনা পতিত ব্যক্তির যেমন জানা প্রয়োজন সে কি করবে, তেমনি যে বা যারা দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

একজন দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তির মানসিক, শারীরিক অবস্থা ও আচরণ

ব্যাক্তি অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ চিন্তাশক্তি কাজ করেনা (কারণ তখন মস্তিষ্কের সিগন্যালিং গুলো সংক্ষিপ্ত পথে আদান-প্রদান হয়), মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বল্পতা হয়। কিছু লক্ষণ যেমন- চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বমি লাগা, হাত-পা কাঁপা, কথা বলতে না পারা, বুকে ব্যথা হওয়া, মাথা ঘোরানো, অতিরিক্ত চিৎকার চেঁচামেচি করা ইত্যাদি হয়।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য প্রাথমিক অবস্থায় করণীয়

প্রথমেই নিরাপদ স্থানে সরে আসা এবং আসে পাশে লোকজনের সাহায্য চাওয়া। শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা দেখা এবং অবস্থা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। সাথে কেউ থাকলে তাকে দুর্ঘটনাটি বলতে থাকা, কিভাবে ঘটল, কি হয়েছিল, সে কি করল ইত্যাদি বিস্তারিত বলা। বদ্ধ পরিবেশে না থেকে খোলামেলা পরিবেশে চলে যাওয়া। লোকজনের সাথে বিষয়টা বারবার শেয়ার করা। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা বা বিভিন্ন সহযোগীতা গ্রহণ করা।

দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তির পাশের মানুষটির মানসিক, শারীরিক অবস্থা ও আচরণ

এই ব্যক্তিটি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত ও আতংকিত হয়ে পড়ে। কিছু লক্ষণ যেমন -খুব দ্রুত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস, শরীর ঘামা, হাত-পা কাঁপা, ভয়ে ছুটাছুটি করা ও অনেক সময় ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তির পাশের মানুষটির করণীয়

দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে সাহায্য করা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। আশেপাশে আরো লোকজনের সাহায্য চাওয়া। দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে কোন প্রশ্ন না করে তাকে ঘটনা টি বলতে দেয়া ও মনোযোগ দিয়ে শোনা। দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া। নিজেকে একজন সাহায্যকারী হিসেবে ভেবে মানসিক শক্তি সঞ্চয় করা। পরবর্তীতে নিজেও একই ভাবে আরেকজন বিশ্বস্ত লোকের কাছে পুরো ঘটনাটি বলা যে কিভাবে তিনি কি কি করলেন।

এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় যে অনেকসময় মিডিয়া বা সংবাদকর্মীদের আগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশনার জন্য ঐ দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিটিকে তাৎক্ষণাৎ অনেক প্রশ্ন করতে দেখা যায়। সংবাদ প্রকাশ করা যেমন জরুরি তেমনি ঐ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সুতরাং পাশের মানুষটি এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদকর্মীদেরকেও বিষয়টি আন্তরিকভাবে ভেবে দেখতে হবে।

আমাদের সবাইকে দুর্ঘটনার সময়ে কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে

  • দৃশ্যটি দেখার জন্য অহেতুক আগ্রহ নিয়ে সেখানে ভিড় করা। (এতে অনেক সময়ই ফায়ার সার্ভিস বা এম্বুলেন্স পৌঁছাতে বাধা পায়)
  • মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অসহায় অবস্থাকে লোকসম্মুখে এনে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করা।
  • প্রকৃত বিষয় না জেনে ঘটনাটিকে বিকৃত করে সমালোচনা করা।

আমরা চাই সমাজে একজন অন্যজনকে সহযোগীতা করে বেঁচে থাকতে। সহযোগীতা সম্ভব না হলে যেন অন্তরায় না হই সেটাই সবার কাম্য।

আরো পড়ুন
ছোট-খাটো দুর্ঘটনায় যে জিনিসগুলো আপনার উপকারে আসবে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।