যেভাবে আপনি একইসাথে পেতে পারেন উজ্জ্বল ত্বক ও মেদবিহীন দেহ

dipash 3ছবি কৃতজ্ঞতা- দিপাস বড়ুয়া

নীরোগ দেহ, মেদবিহীন শরীর, উজ্জ্বল ত্বক- এ সবকিছুই একসাথে কে না চায়? কিন্তু এতো এতো নিয়ম মেনে চলার মতো সময় কার আছে? কিন্তু একটি সহজ উপায় কিন্তু রয়েছে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে নিয়ে আসুন এরকম কিছু পরিবর্তন যা কিনা আপনাকে একইসাথে দেবে নীরোগ দেহ, মেদবিহীন শরীর ও উজ্জ্বল ত্বক।

১) খাবারে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন
এটা প্রমাণিত যে, আপনি যত বেশি চিনি খাবেন, তত বেশি বুড়ো দেখাবে। সাম্প্রতিক গবেষণাতে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহে বিভিন্ন রোগের সূচনা ঘটায়। এর মাঝে রয়েছে- টাইপ ২ ডায়বেটিস, হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা, স্থূলতা, ক্যান্সার ও স্মৃতিবিভ্রাটসহ আরো নানা সমস্যা। এজন্য অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলুন, সুস্থ থাকুন।

২) দেহের জন্য নির্বাচন করুন সঠিক চর্বিজাতীয় খাবার
চর্বিযুক্ত খাবার মানেই কিন্তু দৈহিক স্থূলতা ও হৃদরোগের কারণ নয়। এসব সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে চিনি। জেনে অবাক হবেন যে, উপযুক্ত ও ভালো মানের পুষ্টিকর চর্বিজাতীয় খাবার দেহের হরমোন, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করে। পশুর মাংসে যে চর্বি পাওয়া যায়, তা তখনই ক্ষতিকর হয় যদি সে প্রাণীটিকে তাজা ঘাসের পরিবর্তে শস্যদানা কিংবা প্রক্রিয়াজাতকৃত পশুখাদ্য খাইয়ে মোটা তাজা করা হয়। এছাড়া রান্নার কাজে বিশুদ্ধ নারিকেল তেলের ব্যবহার দিতে পারে দেহে অনাকাঙ্খিত মেদ জমা থেকে মুক্তি।

৩) বেছে নিন প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের সঠিক উৎস
প্রোটিন বা আমিষ আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় গুরত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর একটি। কিন্তু যেকোন ধরণের খাবারের থেকে প্রোটিন গ্রহণ করার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত আমিষজাতীয় খাবার যেমন তৃণভোজী প্রাণীর মাংস, মাছের ডিম ও তাজা মাছ।

৪) খাবার তালিকায় রাখুন বাদাম
বাদাম ও বাদামজাতীয় খাবার প্রোটিনের খুব ভাল একটি উৎস। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখুন বাদাম। চাইলে বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন বাদাম।

৫) পান করুন প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, গ্রিন ও ভেষজ চা
প্রতিদিন গড়ে দেড় লিটার পানি পান করুন। এছাড়া বিভিন্ন মৌসুমী ফলের জুস বানিয়ে পান করতে পারেন। চেষ্টা করুন ভেষজ ও গ্রিন টি’তে অভ্যস্ত হতে।

৫) সকালের খাবার কখনো বাদ দেবেন না
অনেকেই কাজের ব্যস্ততা কারণে সকালের নাশতা সঠিক সময়ে খান না, পরে খান। অনেকে তো একেবারেই খান না। মনে রাখবেন, সকালের খাবার দেরিতে খেলে বা না খেলে আপনার সময় তো বাঁচবেই না, উলটো আপনি দিনের শুরুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন ও ঠিকভাবে কাজ করতে পারবেন না। তাই সকালের খাবার সঠিক সময়ে নিয়মিত করুন, বাদ দেবেন না মোটেও।

৬) অল্প অল্প খাবার সারদিন খান
যদি এরকম হয়, দিনে তিন বেলা খেলেও আপনার ক্ষুধা লাগছে, তবে অল্প অল্প খাবার সারাদিন বিভিন্ন সময়ে খেতে পারেন। এর ফলে আপনার ঘন ঘন ক্ষুধা লাগবে না ও আপনি সহজে ক্লান্তও হবেন না।

৭) নিতে পারেন মাল্টিভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টস
সঠিক ও নিয়মিত খাদ্যাভাসের পাশাপাশি ভিটামিন ও খণিজ পদার্থের অভাব পূরণের জন্য গ্রহণ করতে পারেন মাল্টিভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টস। তবে এর আগে অবশ্যি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।