স্মৃতিভ্রষ্টতা দূর করার কার্যকরী ৬ টি পরামর্শ

amnesiaইদানীং কি ভুলে যাচ্ছেন কোন কাজ করেছিলেন? কিংবা কি কাজ করার প্ল্যান ছিল, সেটা মনে নেই? আমাদের অনেকেরই এটা হয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয়  অ্যামনেশিয়া বা স্মৃতিভ্রষ্টতা। সঠিক ভাবে চিকিৎসা করালে এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব। এই পোস্টে আমি ৬ টি কার্যকরী পরামর্শ  উল্লেখ করছি, যেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে  স্মরণশক্তি কমবে না , বরং মস্তিস্কের সক্ষমতা  বাড়বে।

১. ব্যায়াম : প্রথম যে কাজ টি আপনাকে করতে হবে, সেটা হল নিয়মিত কিছু সময় ব্যায়াম করা। শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতা একসাথেই জড়িত। শরীর যদি ভালো না থাকে, তাহলে মনের উপর বিরুপ প্রভাব পড়বেই। প্রতিদিনের ব্যায়াম আপনাকে স্মৃতিভ্রষ্টতা  থেকে মুক্তি দিবে।

এখন কথা হচ্ছে যে আপনি কি রকম ব্যায়াম করবেন? গবেষকরা ভারি ব্যায়াম করতে বলেন না।  তারা নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যখন আপনার অবসর সময় হবে, তখন আপনি হাঁটবেন। ৩০ মিনিট হাঁটা আপনাকে অনেকাংশে সুস্থ রাখবে। নিয়ম করে সাঁতার কাটলে সেটাও উৎকৃষ্ট ব্যায়ামের পর্যায়ে পড়ে। আরেকটা কাজ করতে পারেন, সেটা হল বাগান করা।

২. নতুন কিছু শিখুন : হ্যাঁ, নতুন কিছু শেখা আপনার  স্মৃতি কে প্রখর করবে। কাজেই নিয়মিত শিখতে থাকুন। কিছুটা সময় গণিতচর্চা আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দিবে।

৩.  ধূমপান ত্যাগ করুন : আপনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, এটা আপনার মস্তিষ্কের উপর মারাত্মক চাপ ফেলবে, কাজেই এই বাজে অভ্যাস ত্যাগ করুন। আপনি প্রথমেই একেবারে ত্যাগ করতে পারবেন না।  একটা পরিকল্পনা করুন। সপ্তাহে ২ দিন অন্তত ধূমপান করবেন না। এভাবে এগুতে থাকুন।

৪. স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস গড়ে তুলুন :  সময় মত আপনাকে খাদ্য গ্রহন করতে হবে। আমরা অনেকেই কাজের চাপে ঠিক ভাবে সকালের খাবার খাই না, দুপুরেও দেরি করে খাই, রাতে দেখা যায় ১২ টায় খাই। এগুলো আপনার মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। প্রচুর পরিমানে ফল, সবজি এবং মাছ খেলে আপনার  স্মৃতিশক্তি অনেক বাড়বে, আর চেষ্টা করবেন ফাস্টফুড না খেতে।

৫. পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান :  ঘুমের কোন বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা আপনাকে ঘুমাতে হবে। এবং বেশি রাত জাগা চলবেনা। ঘুমটা যদি ভালো হয়, দেখবেন মস্তিষ্ক বেশ ভালো ভাবে কাজ করছে।

৬. সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ : আপনি সামাজিক কাজে অংশ নিতে পারেন, এটা হতে পারে কোন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, হতে পারে পরিষ্কার  পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেয়া, দুঃস্থদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন গ্রুপে অংশগ্রহন- এগুলি আপনার মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখতে বেশ সাহায্য করবে। কারণ দলবদ্ধ সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনা করতে হয়।

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কিছু না কিছু বিষয় আপনার মনে থাকবে না, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা যেন সমস্যা বা রোগে পরিণত না হয়। আর এজন্য উপরের খুব সহজ নিয়মগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে রাখতে পারেন কর্মক্ষম।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি।  স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইস বুক, টুইটার , গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।