রোজার দিনগুলোতে মুখের দুর্গন্ধ রোধ করবেন যেভাবে

very_bad_breathরাসুল (সঃ)বলেন-আল্লাহর কসম, যার হাতে আমার জীবন, একজন রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের গন্ধের চেয়েও বেশি প্রিয়।
-(সহীহ বুখারী ৩য় খন্ডের সপ্তম অধ্যায়ের ১৮৯৪ এবং ১৯০৪ নং হাদীস)

ধরে নেয়া হয়, রমজান মাসে দিনের বেলায় মানুষের পেট খালি থাকার কারণে যে গন্ধ সৃষ্টি হয়, এখানে সে গন্ধের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ যেন এটি দাঁতের কোন সমস্যার কারণে সৃষ্ট গন্ধ বা অন্য কোন সমস্যার কারণে সৃষ্ট গন্ধের সাথে মিলিয়ে না ফেলে। খালি পেট থাকার কারণে ছাড়াও অন্য কোন কোন সমস্যার কারণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে এবং এর থেকে প্রতিকারের উপায় আসুন জেনে নিই।

১) দুইবার সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবেঃ

স্বাভাবিকভাবে আমরা দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করি। রমজানে যা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে না। রমজানে ইফতারের পর একবার, আরেকবার সেহেরির পর নরম ব্রাশ দিয়ে, সময় নিয়ে, সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করুন।

২) ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুনঃ

দাঁতের ফাঁকে কোন খাবারের কণা অনেকদিন আটকে থাকলে তা থেকে খুব খারাপ ধরণের গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। তাই খাবার পরে ডেন্টাল ফ্লস (দাঁত পরিষ্কারের এক ধরণের সুতা বিশেষ) ব্যবহার করুন। আর নিয়ম হচ্ছে দাঁত ব্রাশের আগে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা, পরে নয়।

৩) মাউথওয়াশ ব্যবহার করুনঃ

যাদের মুখে প্রায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় তারা Anti bacterial মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে Non-alcoholic মাউথওয়াশ বেছে নিতে ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়া বাসায় লবণ পানি দিয়েও কুলি করতে পারেন।

৪) প্রচুর পানি পান করুনঃ

রমজানে পানি কম পান করার কারণেও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ইফতারের পর থেকে অল্প অল্প করে খানিক পর পর পানি পান করুন। আর সেহেরির খাওয়ার পর অবশ্যই ২-৩ গ্লাস পানি পান করবেন।

৫) পেট পরিষ্কার রাখুনঃ

অনেকসময় পেট বা পাকস্থলি পরিষ্কার না থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। এজন্যে রমজানে বেশি ভাজাপোড়া না খেয়ে, তরল জাতীয় খাবার, ফলমূল, শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।

৬) মেস ওয়াক করুনঃ
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের জন্যে যদি কষ্টকর না হতো তবে আমি প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক করা ওয়াজিব করে দিতাম।’ (সহিহ আল বুখারি)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করার ফলে আপনার দাঁত পরিষ্কার ও মজবুত থাকবে, এছাড়া কোন দুর্গন্ধও ছড়াবে না। শুধু তাই নয়, মেসওয়াকের রয়েছে আরো অনেক উপকার। আর রমজানে দিনে দাঁত ব্রাশে যে নিষেধাজ্ঞা আছে মেসওয়াক করাতে তা নেই।

ইসলামে নির্দেশ আছে সবসময় সবক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। যেন নিজের শরীরের, মুখের দুর্গন্ধে অন্য ব্যক্তির কষ্ট না হয়। আমরা কর্মক্ষেত্রে অনেক অমুসলিমদের সাথেও কাজ করি। আপনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে তাদের কাছেও ইসলাম সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ, উজ্জ্বল বার্তা বয়ে নিয়ে যাবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।