প্রেজেন্টেশন বা ভাইভা দিতে গেলেই হার্টবিট বেড়ে যায়? জেনে নিন পরামর্শ

আপনার যে চিন্তাধারাগুলো আপনাকেই করে তুলছে অসুখীপ্রেজেন্টেশন, ভাইভা বা ইন্টারভিউবোর্ড জাতীয় ভীতিজনক কোন স্থানে বা পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আমাদের অনেক সময় বুক খুব জোরে জোরে ধুঁক ধুঁক করতে শুরু করে অর্থাৎ আমাদের হার্টবিট বেড়ে যায়। এই বুকের ধুঁক ধুঁক আওয়াজের কারণে আমরা আরও বেশি নার্ভাস হয়ে পড়ি। তাই আমাদের প্রেজেন্টেশন বা ভাইভা টি যতোটুকু ভাল হওয়ার কথা ছিল, হয় তারচেয়েও খারাপ।

কেন এমন হয়? বা এমন পরিস্থিতিতে কি বা করা যেতে পারে?

আমরা যদি একটু ভেবে দেখি, মূলত কি ঘটে সেই সময়ে। কয়েক ঘন্টা পরেই ভাইভা শুরু হবে। এমন সময় ভাইভা এবং ভাইভা বোর্ড সংক্রান্ত মনের ভেতরে আসতে থাকে হাজারো চিন্তা যার বেশিরভাগই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক সব কিছু। এসব ভাবতে ভাবতে অজান্তেই মানসিক চাপ বেড়ে যায়, যার শারীরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্ত সঞ্চালনের গতিও বেড়ে যায়। রক্তে মিশে থাকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অক্সিজেন। তাই এই সময়ে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজন পড়ে অতিরিক্ত অক্সিজেনের। কিন্তু চিন্তিত অবস্থায় থাকার কারণে আমরা ভুলে যাই অক্সিজেনের স্বাভাবিক মাত্রায় (rhythm-এ) নেয়ার কথা। বরং উল্টে আমাদের শ্বাসগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট ছোট করে নিতে শুরু করি। যার কারণে ফুসফুসের কাজ ব্যহত হয়।

ফলে, আমাদের রক্তের জন্য প্রতি প্রশ্বাসে যতোটুকু অক্সিজেনের প্রয়োজন ফুসফুসের মাধ্যমে হৃদপিণ্ড ততটুকু অক্সিজেন পায় না। সে কারণে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য হৃদপিণ্ড পাম্প সঞ্চালনের গতিও বাড়িয়ে দেয়। ঠিক তখন’ই, আমরা শুনতে পাই দ্রুত হার্টবিটের আওয়াজ। যা আমাদেরকে আরও চিন্তিত করে তুলে। শুধু কি তাই – এই অক্সিজেনের অভাবে আমাদের শরীরে দেখা দেয় শারীরিক কিছু উপসর্গের। যেমন,

১. ক্লান্তি বা অবসাদ,
২. খাবারে অনীহা বা খাবার পরিপাকে সমস্যা,
৩. স্মৃতিলোপ,
৪. গ্যাস্ট্রিকের রসক্ষরণ,
৫. পেশীসমূহ ব্যথা বা শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যথা প্রভৃতি।

এতোকিছু নিয়ে কোন মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষা খুব বেশি ভাল হওয়ার কথা না সেটা আমরা কম-বেশি সবাই’ই মনে হয় বুঝতে পারি । তাহলে করণীয় কি?

করণীয়

অক্সিজেন স্বল্পতা অর্থাৎ যখন’ই আমরা বুঝতে পারব বুক ধুঁক ধুঁক করে আওয়াজ দিচ্ছে অর্থাৎ হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে, তখনই-

১. (সম্ভব হলে আরাম করে বসে) চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে খুব বড় করে শ্বাস নিব।
২. একটুখানি সময় তা পেটে ধরে রাখব।
৩. তারপর আস্তে আস্তে সেই নিঃশ্বাস মুখ দিয়ে ছেড়ে দেব।

শ্বাস গ্রহণ এবং ত্যাগের সময় অন্যান্য চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে মনোযোগ দিতে হবে নাক দিয়ে শ্বাসনালী বেয়ে ধীরে ধীরে কোন পথে শ্বাস পেটে যাচ্ছে এবং তা বের হচ্ছে। এভাবে ৫-১০মিনিট করলেই দেখা যাবে, অক্সিজেনের স্বল্পতা দূর হয়ে বুক ধুঁক ধুঁক করা পালিয়েছে এবং হার্টবিট ফিরে এসেছে স্বাভাবিক অবস্থায়।

তাই বিশ্বাসের সাথে প্রশ্বাস নিয়ে প্রেজেন্টেশন বা ভাইভা’টি দেই আগের চেয়ে ভাল। অথবা ভীতিজনক কোন জায়গায় থাকলে সরে পড়ি তাড়াতাড়ি।

এই অনুশীলনটি যে কেউ তার প্রতিদিনের কর্ম তালিকায় যোগ করলে দুঃচিন্তা, ক্লান্তি বা অবসাদময় সময়ে নিজেকে অনেকটাই সজীব করে তুলতে পারবেন মুহূর্তেই।

(বিঃদ্রঃ মেডিকেল সাইন্স-এ অক্সিজেন স্বল্পতাঘটিত যে রোগগুলো রয়েছে, সেক্ষেত্রে উপরোক্ত করণীয় কার্যকরী নয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে অক্সিজেন স্বল্পতা সমস্যায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই লেখাটিতে শুধুমাত্র সেলফ কনফিডেন্ট বাড়ানোর জন্য যেকোন পরিস্থিতিতে অযাচিত চিন্তার ফলে মানসিক চাপ বা টেনশন থেকে দূরে থাকার অন্যতম একটি উপায়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।)

ধন্যবাদ সবাইকে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।