সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বেরিয়ে আসুন অতিরিক্ত রাগ করার প্রবণতা থেকে

angerআচ্ছা, কখনো কি এরকম হয়েছে যে, রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম এর কারণে আপনার সারাদিনই প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ছিল? কোন বন্ধু কথা না শুনলে বা না বুঝলে তাকে ইচ্ছামত বকাঝকা করে ফেলেছেন? কিংবা প্রয়োজনের সময় কারো মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে প্রচণ্ড রাগে নিজের চুল নিজেই টানতে ইচ্ছা করেছে? উত্তরগুলো যদি হ্যাঁ হয়, তবে ঠিক ই ধরেছেন, লিখাটি আপনারই জন্য। আজ লিখছি “রাগ নিয়ন্ত্রন” সম্পর্কে।

“Anger management বা রাগ ব্যবস্থাপনা “কথাটির অর্থ হল, রাগ কে নেতিবাচক কিংবা ক্ষতিকারক ভাবে প্রকাশ না করে ইতিবাচক ভাবে প্রকাশ করা, যাতে নিজের ভেতর কোন অস্বস্তিকর অনুভুতিও না থাকে, আবার ব্যাপারটি শারীরিক, মানসিক, অথবা সামাজিক দিক থেকেও ক্ষতিকারক না হয়।

রাগ খুবই স্বাভাবিক আর স্বাস্থ্যকর একটি আবেগ, যেটা আমি আপনি ছাড়াও প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আছে। শুধু তফাতটা হলো, আমরা কেউ রাগটাকে খুব সুন্দর করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কেউ হয়তবা এ ব্যাপারে অতটা দক্ষ নই। কিন্তু আমাদের ভেতর যে পরিমাণেই এই রাগ নামক আবেগটি থাকুক না কেন, এর ইতিবাচক প্রকাশ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নয়তো কখনো, কোন এক সময় হয়ত এই অনিয়ন্ত্রিত রাগই যেমন আমাদের স্বাস্থ্যর জন্য হানিকারক হয়ে দাঁড়ায়, সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কও বিনষ্ট করে ।

তো, আপনি তৈরি আপনার রাগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে? চলুন দেখে নেয়া যাক কয়েকটি পরামর্শ …

বলার আগেই চিন্তা করুন

কোন কথা রাগের বশে বলে ফেলার আগেই চিন্তা করে নিন, এর প্রভাব কি এবং কতদূর পর্যন্ত হতে পারে সে সম্পর্কে । মনে রাখবেন, একটা কথা কিন্তু সেকেন্ড এর মধ্যেই বলে ফেলা যায়, কিন্তু এর প্রভাব অনেক সময় এতই গভীর আর সুদূরপ্রসারী হয়, যে পরবর্তীতে তা ইতিবাচক ভাবে বুঝানো বা সমাধান করা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যা বলছেন, তার দায়ভার যেহেতু আপনাকেই বহন করতে হবে, তো সেটা আগে থেকেই ভেবে নেয়া ভাল না?

আগে শান্ত হোন, তারপর প্রকাশ করুন আপনার রাগ

যেকোনো অবস্থায় আপনি যখন রেগে যাচ্ছেন, তখন আপনার স্বাভাবিকভাবেই সেই রাগের প্রতিক্রিয়া কিন্তু আপনার মধ্যে থেকে যায়, আপনার মস্তিস্কে নিঃসৃত অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন এটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিছু সময় পর আপনা আপনিই অ্যাড্রেনালিনের পরিমাণ কমে গেলে, যথারীতি রাগের পরিমাণও কমে যায়। তাই প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে কিছুটা যদি সময় দিন নিজেকে, তাহলে রাগের প্রকাশটা হয়ত ততটা ক্ষতিকারক হবে না, যেটা সম্পর্কের সুস্থতার পক্ষে ভাল।

অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের সমালোচনা করুন

যখনই কারও উপর রেগে যাবেন, সেই মুহূর্তে সে কি করলে বা বললে ভাল হত সেটা চিন্তা করলে রাগ আরও বাড়বে । বরং ভেবে দেখুন, সেই সময় “আপনি ” কি করলে বা কি বললে পরিস্থিতি এরকম হতোনা। তারপর ইতিবাচক দিক থেকে ব্যাপারটি সমাধান করার চেষ্টা করুন, আর যদি তা পেরে যান, একটি বিশাল ধন্যবাদ দিন নিজেকে, কারণ যা করলেন, তা সবাই করতে পারেনা ।

করতে পারেন ব্রেথিং এক্সারসাইজ

খুব রাগের সময়টাতে, নিজেকে সংযত রাখতে সেখান থেকে চটজলদি সরে যান। এটাকে বলে “টাইম আউট”। লম্বা করে শ্বাস নিন, মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে নিশ্বাস ছাড়ুন। কয়েকবার এরকম প্র্যাকটিস করুন। দেখবেন, রাগ অনেকটাই কমে গেছে।

যুক্তি দিয়ে বিচার করে, পরিণতিটা ভেবে দেখুন

কেন রেগে গেলেন, তার পিছনের কারণ গুলো চিন্তা করুন, ভেবে দেখুন বিষয়টা সত্যিই এতটা রাগ করার মত কিনা। আর যদি বা একবার রেগেই গেলেন, ভেবে দেখুন এই রাগ টা কিভাবে প্রকাশ করলে আপনার পক্ষে এবং যার বা যে সিচুয়েশন এর উপর রেগে আছেন সেটির পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। আমরা যেকোনো কাজে যদি একবার পরিণতিটা চিন্তা করি, অনেকাংশেই কিন্তু আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাইনা?

আপনার অন্যান্য আবেগের মত, রাগটাও আপনার একটি মৌলিক আবেগ। সেই আবেগ কে ইতিবাচক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করাটা তো আপনার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাইনা? শুভ হোক আপনার প্রচেষ্টা। good luck.

আরো পড়ুন

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।