শিশুদের সাথে কোন আচরণগুলো একেবারেই করবেন না

Parents Reading to Laughing Boyআজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ কথাটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। ছোট্ট একটি শিশু যখন জন্মায়, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তাকে ঘিরে বাবা-মা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তার আত্মীয়-স্বজনেরাও।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সেই স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে সেই শিশুর উপর অনেকসময় এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। একটি শিশুর মন থাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কাজেই শৈশবে শিশুর সাথে কিছু কিছু কাজ করা অগ্রজদের একেবারেই অনুচিত। তো কি সেই কাজগুলোঃ

  • তুলনা করাঃ কোন স্বাভাবিক মানুষই অন্য আরেকজনের সাথে নেতিবাচকভাবে তুলনীয় হতে চান না। শিশুদের ক্ষেত্রে এই জিনিসটার ব্যাপকতা আরো বেশি। প্রায় সময়েই দেখা যায়, পরীক্ষায় খারাপ করলে অথবা অন্য যেকোন কারণে হোক বাবা-মা শিশুকে অন্যদের সাথে তুলনা করেন। এই কাজ করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়।
  • সবার সামনে ছোট করাঃ কোন একটি শিশু হয়তো কথা কম বলে। হয়তোবা সে অন্য সবার থেকে একটু আলাদা। অন্য সবাই যখন চিৎকার করে বাড়ি মাতিয়ে রাখে, তখন সে হয়তো আপনমনে ছবি আঁকে। গল্পের বই পড়ে। অথবা এমনও হতে পারে, সেই শিশু একটু লাজুক। সবার সাথে মিশতে পারে না। এ ধরণের শিশুর সাথে অনেকেই খুব বাজে আচরণ করেন। তাকে অমিশুক, অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে বোকাও মনে করা হয়। তার সাথে এরকম আচরণ করলে, সবার সামনে তাকে ক্রমাগত ছোট করলে সেই শিশু নিজের মধ্যে আরো গুটিয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে সে আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
  • জোর করাঃ অনেক সময় এমন হতে পারে, শিশু খেতে চাচ্ছে না। অথবা টিভিতে কোন কার্টুন হচ্ছে। সেটা দেখার জন্য সে বই নিয়ে বসতে চাচ্ছে না। এ ধরণের ক্ষেত্রে শিশুকে আদর করে ধীরে ধীরে বোঝাতে হবে। রাগারাগি করলে অথবা জোর করলে হীতে বিপরীত হবে। শিশু আরো বেশি জেদ দেখাবে।
  • কাজের স্বীকৃতি না দেওয়াঃ শিশুরা যেমন ভালোবাসা চায়, তেমনি স্বীকৃতিও চায়। উৎসাহ চায়। যেকোন গঠনমূলক কাজেই তাকে উৎসাহ দিতে হবে। শিশুকে পড়তে বলা হলো, সে যদি অনেক তাড়াতাড়ি পড়া তৈরী করতে পারে, তাকে তার জন্য প্রশংসা করতে হবে। তাকে ছোট্ট একটা পুরস্কারও দিতে পারেন। এতে সে আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। অথচ অনেক অনেক পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করেও যদি সে কোন স্বীকৃতি না পায়, এতে তার মন ভেঙে যাবে। সে কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে দ্রুতই।

আপনার শিশু আপনার ফুলবাগানে ফুটে থাকা একটি ফুলের মতোই। তাকে যত্ন করুন, খেয়াল রাখুন, অনুপ্রেরণা দিন, সাহস দিন। সে জয়ী হবেই।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।