কর্মক্ষেত্রে নিজেই নিজের সহযোগী বন্ধু হোনঃ শেষ পর্ব

How To Become Your Own Friend at Work

আমরা ধারাবাহিকভাবে জেনেছি কর্মক্ষেত্রের প্রথমদিন থেকেই সচেতনভাবে আমাদের আচরণসমূহ কি হবে। অফিসের কলিগ, কাজের দায়িত্ব ও চাপযুক্ত কর্ম পরিবেশের সাথে আমার নিজেকেই যেহেতু সব কিছু ব্যবস্থাপনা করতে হবে তাই আজ শেষতম পর্বে জানব কর্মক্ষেত্রে কিভাবে নিজেই নিজের সহযোগী বন্ধু হওয়া যায়। আর তাহলেই পরিপূর্ণ হবে আমাদের কর্মক্ষেত্রের পথচলা।

১. জানুন নিজের কর্ম গুণগুলোর শক্তিশালী ও দুর্বল দিকঃ

আমরা কাজের সময় এমন অনেক আচরণ করি যা কাজটাকে আরও জটিল করে ফেলে। অনেকসময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকলে কাজ ঠিক করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো করে ফেলি। সুতরাং খুঁজে দেখুন কাজ করতে গিয়ে নিজের দুর্বল দিক কোনগুলো আর সবল দিক কোনগুলো।

শক্তিশালী দিকগুলোর যত্ন নিন যেন আরও শক্তি বৃদ্ধি পায় আর দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন। যেমনঃ হয়ত এখন একটা বোর্ড মিটিং হবে আর এর এজেন্ডা আপনাকে তৈরি করতে হবে। অল্প সময়ে তৈরি করার জন্য আপনার উপর একটা চাপ থাকবে। ভেবে নিন এরকম কাজ এর সময় আপনার সবল এবং দুর্বল দিকগুলো কি কি। উদাহরণস্বরূপ সবল দিক হয়ত দ্রুত তথ্য কালেকশন করতে পারেন। আর দুর্বল দিক হয়ত নতুন চাপানো কাজের স্ট্রেসটা ম্যানেজ করতে জানেন না। সুতরাং যা জানি তাতে মনোযোগ দিব আর যা জানি না তা শিখে নিব।

২. কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তো আছে এবার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানঃ

আসলে নিজেকে আগে শ্রদ্ধা করতে পারলেই কাজেও শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। অনেকসময় এমন হয় যে আমরা এমন কোথাও কাজ করি যেখানে বিভিন্ন অসুবিধা চলছে। হয়ত বোনাস ঠিক মত হচ্ছে না কিংবা ইনক্রিমেন্ট নাই ইত্যাদি। তখন স্বাভাবিকভাবেই হীনমন্যতা বাড়তে পারে। আমরা তখন মনে করি যে আমার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তো আছে কিন্তু কর্মক্ষেত্র থেকে আমাকে মূল্যায়ন না করার কারণে আমার ইনক্রিমেন্ট হচ্ছে না।

বিষয়টি ভিন্নভাবেও দেখা যেতে পারে যে আমি হয়ত আমাকে মূল্যায়ন করছি না বলেই ইনক্রিমেন্ট বা বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রটি তৈরি করতে অসমর্থ হচ্ছি। যেটিই হোক না কেন এবার নিজের প্রতি সম্মান বাড়াবো যার ফলশ্রুতিতে আমার প্রয়োজনটাও মুখ ফুটে অন্যকে যথেষ্ট সম্মান রেখে বলতে পারব। শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোর অর্থ দাম্ভিক হয়ে যাওয়া নয়। শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো অর্থ আমি যে কাজটি করছি বা যেভাবে করছি এর সঠিক মূল্যায়ন করা ( যা নিজেকেই করতে হবে আগে)।

৩. অনেক তো হল বস কে খুশী করা এবার নিজেও খুশী হোনঃ

কর্মক্ষেত্রে আমরা ব্যস্ত থাকি আমাদের সিনিয়রদের খুশী করতে। তারা খুশী হলেও মাঝে মাঝে এমন হয় যে আপনি খুশী হতে পারেন না। বিষয়টা একটু ঘুরে গেলে কেমন হবে? অর্থাৎ এবার কাজটি করার মাধ্যমে আমি আমাকেই খুশী করব। এতে সিনিয়র তো খুশী হবেনই একই সাথে আমি নিজেও খুশী হব।

যদি এমন কোন দায়িত্ব এসে পরে যেটিতে আপনি মোটেও খুশী নন, কিন্তু করতেই হবে তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন মন খারাপ করার ফলে আপনার ইতিবাচক কোন অর্জন থাকছে কিনা। আর যদি আরোপিত অপছন্দের কাজটি না করার কোন সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই সচেতনভাবে নিজের অবস্থান আমরা জানাতেই পারি। তাই যেটি করতেই হবে সেটিতে নিজেকে কিছুটা সময় দিন এবং নিজের মন খারাপ হওয়ার কারণ জেনে নিন।

অনেকসময়ই আমরা অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে পড়লে কিংবা আরেকজনের করার কথা ছিল সেটি যখন করতে হয় ভীষণ মন খারাপ করি। । কিছু ক্ষেত্রে আমরা সহযোগী মনোভাব রাখতেই পারি আর একই সাথে নিজেকে খুশী তো আমরা করতেই পারি।

আমরা নিজেকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে বুঝতে পারব আমার পাশের মানুষটিও আমার কাছ থেকে সহযোগী মনোভাব পাচ্ছে কিনা। আপনার কর্মময় সুন্দর জীবনের জন্য শুভকামনা।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলো পড়ুনঃ