বের হয়ে আসুন অতিরিক্ত কথা বলার প্রবণতা থেকে

How-to-Avoid-Being-Talkative-compressorতথ্য বা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল মুখের ভাষা বা কথা। কথার আদান প্রদানের মাধ্যমে আমরা একজন অন্যজনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা প্রয়োজনীয় পরিমাণে কথা বলে থাকি। তবে আমাদের মধ্যেও এমন অনেকেই আছি যারা  প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কথা বলি।

যা ব্যক্তির পরিবেশের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। পাশের মানুষ তো কটূক্তি করেই আর নিজের কাছেও অস্বস্তি লাগে নিজের এই কর্মকান্ডে। আজকে জানব আমরা যারা অতিরিক্ত কথা বলি তারা কিভাবে সচেতন হয়ে এই অনিয়ন্ত্রিত অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসব।

  •  অন্য ব্যক্তির প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক উত্তর দিন। যথাসম্ভব সংক্ষেপে। এক শব্দে উত্তর দেয়ার অভ্যাস গড়ুন। প্রথমেই সম্ভব না হলে এক লাইনে উত্তর দিন। জবাব দেয়ার পর পুনরায় প্রশ্ন না থাকলে নিজ থেকে উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন।
  •  আপনার কিছু জানার থাকলে নির্দিষ্ট করে বলুন আসলে কি জানতে চান। কথার আশেপাশে না ঘুরে মূল কথা বলার অভ্যাস করুন।
  • একা একা বসে থাকলে আপনার যে চিন্তাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায় তা ডায়েরীতে লিখে রাখুন। এতে চিন্তাগুলো কথা হয়ে নীরবে সঞ্চিত থাকবে। আপনিও কথা বলার তাড়না কম অনুভব করবেন। (এই অভ্যাসটা অনেক কার্যকর। যারা সত্যিকার অর্থেই নিজের অতিরিক্ত কথা বলা নিয়ন্ত্রণে আনতে চান তারা নিয়মিত ডায়েরী লেখার অভ্যাস তৈরি করুন।)
  •  শোনার অভ্যাস তৈরি করুন। তাহলে আপনি যখন বলবেন তখন যার বক্তব্য আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন সেও শুনতে আগ্রহী হবে। আর যদি সে না শুনে আশাহত হবেন না। অপরকে মনোযোগের সাথে শুনতে থাকুন। কেউতো এমন থাকবেই যে আপনাকেও শ্রদ্ধাভরে শুনবে।
  •  কথা বেশী বলা বা অতিরিক্ত বলা বলতে কি বুঝানো হচ্ছে সেটা জানতে হবে। কারণ আপনার মনে হতে পারে আপনি ঠিক পরিমাণে কথা বলছেন। কিন্তু আপনার আশেপাশে অনেকেই বিরক্ত। আবার আপনার মনে হল আমি বেশী কথা বলি কিন্তু কেউ কখনও কোন কটূক্তি করেনি। কেউ যদি রাগের মাথায় আপনাকে বলে আপনি অনেক বেশী কথা বলেন সেটাও কিন্তু বুঝতে হবে যে ওটা সত্য নয়। নতুবা যে সমস্যা আপনার হয়ই নাই সেটা সমাধানের জন্য চেষ্টা করা মানে সময় নষ্ট করা। সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। তাই এমন কিছু মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন যারা স্বল্পভাষী। দেখবেন আপনিও ধীরে ধীরে সেই গুণাবলী অর্জন করছেন।

সব অর্জনের মূলেই থাকে সাধনা। আর এ জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। আপনি প্রস্তুত তো নিজের কথা বলার পরিমাণ নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে! আপনার জন্য শুভকামনা।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।