বিয়ে উৎসবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো

marriage ceremony
ছবি কৃতজ্ঞতাColours Events

বিয়ের মৌসুম তো শুরু হয়ে গেল। সাধারণত অক্টোবর- ফেব্রুয়ারি এই সিজনটাকে বিয়ের সিজন ধরা হয় মানের শীতের সময়টা। একটি পরিবারে বিয়ে সামগ্রিক উৎসব ও উৎফুল্লময় পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বিয়ে মানে খুশি, বিয়ে মানে আনন্দ, বিয়ে মানে অনেক লোকের উৎসব আমেজের সম্মিলন। তাই এরকম বড় একটা ইভেন্ট বা উৎসবকে সার্থক করে তুলতে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চলুন সেগুলো জেনে নিই-

  • নিমন্ত্রণ– বিয়েতে আপনার পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবী, সহকর্মী, কাছের মানুষকে নিমন্ত্রণ করুন। নিমন্ত্রণ বা দাওয়াতের জন্য সুন্দর নকশার বিবাহ কার্ড বা নিমন্ত্রণপত্র নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্ডার দিন। তারপর প্রচার করুন। নিমন্ত্রণ আপনি ফেসবুক, মোবাইলেও সুন্দরভাবে করতে পারেন। নিমন্ত্রণ পত্র প্রস্তুতের আগে আপনি অঞ্চল ভিত্তিক অতিথিদের তালিকা তৈরি করবেন যা আপনাকে নিমন্ত্রণপত্রের অর্ডার সংখ্যা এবং প্রচারে সাহায্য করবে। যেমনঃ ঢাকা বিভাগে মিরপুর এলাকায় আপনার কোন কোন অতিথিকে দাওয়াত দিবেন সেটা তালিকাবদ্ধ করুন ক্রমানুসারে, তারপর ধানমণ্ডি এলাকায় এভাবে বিভিন্ন এলাকার। অর্থাৎ বিভাগের আন্ডারে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি করলে নিমন্ত্রণ তালিকা থেকে কেও বাদ পরার সম্ভাবনা থাকবে না এবং প্রচারের সময়ও আপনি একসাথে কাজটি করতে পারবেন।
  • কেনাকাটা ও বাজার– বর ও কনে পক্ষের পোশাক পরিচ্ছদ, কসমেটিকস ইত্যাদি কেনাকাটা আগেভাগেই শুরু করে দিন। এজন্য কোনটা কোথায় পাওয়া যায় ভাল সে সম্পর্কে খোঁজ নিন। কেনাকাটার পাশাপাশি বিয়ের ভোজন অংশের জন্য কাঁচাবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বাবুর্চি ভাড়া করার পাশাপাশি বাবুর্চির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর তালিকা করে ফেলুন। এতে আপনার বাজার সম্পূর্ণ করতে সুবিধা হবে।
  • হল বা কমিউনিটি সেন্টার নির্বাচন– বিয়ের জন্য সেন্টার ভাড়া নিতে হয় এবং বিয়ের এই মৌসুমে সহজে হল ভাড়া পাওয়া যায় না। কেননা প্রায় প্রতিদিনই বিয়ের প্রোগ্রাম থাকে এবং অগ্রিম বুকিং দেওয়া থাকে। তাছাড়া সবগুলো সেন্টার মান একরকমও না। তাই ভালভাবে খোঁজ নিয়ে কমপক্ষে ২-৩ সপ্তাহ আগেই আপনার পছন্দনীয় কমিউনিটি সেন্টার নির্বাচন করুন।
  • সাজসজ্জা– বিয়ে উৎসবে বর ও কনে হচ্ছে সবার মধ্যমণি। তাই তাদের সাজটা অবশ্যই একটু আলাদা এবং আকর্ষণীয় হওয়া উচিত। তাই ২-৩ সপ্তাহ আগে থেকেই ত্বক ও শরীরের যত্নের পাশাপাশি বিয়ের সাজ সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা রাখা উচিত। আজকাল বিভিন্ন লেডিস এবং জেনটস পার্লার দেখা যায়। ভাল পার্লারের খোঁজ নিয়ে সেখানে আপনার সাজসজ্জা ও পোশাকের সেটিং এর কাজটি আপনি করতে পারেন।
  • ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি– বিয়ে মানুষের জীবনে একটা আনন্দঘন মুহূর্ত। আর এই আনন্দঘন মুহূর্তকে কে না ফ্রেমে বন্দি রাখতে চায়। এজন্য প্রফেসানাল ফটোগ্রাফার বা ক্যামেরাম্যানকে সঙ্গে রাখুন। আর কম্পিউটারের পাশাপাশি ছবিগুলো তুলে রাখুন এ্যালবামে।

মনে রাখবেন, আপনার সাধ্যই আপনার সুখ। সেই সাধ্যটুকু দিয়ে জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তকে ফুটিয়ে তুলুন।
আরো পড়ুন
সুন্দর পরিকল্পনার সাহায্যে আত্মীয় বা বন্ধুদের জন্য আয়োজন করুন আনন্দঘন পার্টি

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।