কাজে তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা দূর করার উপায়

How Not to Hurryআমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা খুব দ্রুত কাজ করার চেষ্টা করি। এতে করে কাজটা তো সুন্দর হয়ই না বরং অনেক সময় গোলমাল পাকিয়ে যায়। আমরা এটা বুঝতেও পারি যে কাজটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না কিন্তু তারপরেও কিভাবে এই তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা কমাবো বুঝতে পারিনা।

মজার ব্যপার হলো আমি নিজেও এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কিন্তু যখন থেকে সঠিক তথ্যগুলো জানতে পারলাম যে কিভাবে এই আচরণ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থাপনা সম্ভব তখন থেকেই এটি আমার জন্য ক্ষতিকর না হয়ে উপকারী একটা বৈশিষ্ট্য হয়ে গেল। আসুন জেনে নেয়া যাক উপায়গুলো কি।

  • নিজের এই প্রবণতা সম্পর্কে সচেতন হোন- লক্ষ্য করুন আপনার মত আরো অনেকেই আছে যারা একটু বেশী গোছানো। কেউ চুন থেকে পান খসলেই চিন্তিত হয়ে যায়। আবার কেউ আছে আরেকজনকে খুশী করার কাজেই ব্যস্ত, নিজের খুশীর তোয়াক্কা করছে না। এভাবেই একই জনের ভিন্ন ভিন্ন তাড়না বা ড্রাইভ থাকতে পারে আবার একজনের একটাই ড্রাইভ থাকতে পারে। তাই আমরা যারা তাড়াহুড়া করি আমাদের ড্রাইভটা হল ’হারি ড্রাইভ’ বা Hurry Drive। আপনার বৈশিষ্ট্যে এমন একটা ড্রাইভ আছে এবং এটা একটা উপকারী ড্রাইভ সেটা ভাবুন। ( কারণ হারি ড্রাইভাররা অনেক কাজ এত দ্রুত করতে পারে যা অনেকেই পারে না)। দেখার বিষয় হলো এই ড্রাইভটা আমি কিভাবে ব্যবহার করছি এবং  আমি কতটা মানসিক চাপে থাকছি যখন কেউ দেরী করে বা আমার দেরী হয়।
  • খেয়াল করে দেখুন তো সব কাজেই কি তাড়াহুড়ো করেন কিনা-এমন কিছু কাজ কি আছে যেখানে আপনি আসলেই ধীর গতির। সেই সাথে যে কাজগুলোতে তাড়াহুড়ো করছেন সেগুলোর একটা তালিকা তৈরি করে ফেলেন। লিস্টের প্রতিটা অংশের ছোট্ট একটা ব্যখ্যা তৈরি করুন। এই যেমন যখন কাজটি করলেন তখন কি কি করলেন এবং কিভাবে করলেন। আমরা সবসময় কাজ করে ফেলি কিন্তু কাজটা কিভাবে করি সেই রোডম্যাপ বুঝতে চাই না। এবার একটু সময় নিয়ে দেখুন তো কাজগুলো কিভাবে করছেন এবং করতে গিয়ে কি কি স্টেপ নিলেন।
  • যখন কোন কাজে তাড়াহুড়ো করছেন নিজেকে নির্দেশ দিন-  ধরুন এখন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তাড়াহুড়ো করছেন। এবং বুঝতে পারছেন যে এই যে শুরু হয়ে গেছে আপনার বৈশিষ্ট্যের ড্রাইভের কাযর্কারিতা। তাৎক্ষণাৎ নিজেকে বলুন ‘তুমি কিন্তু একটু বেশী জলদি করছ, একটুখানি ধীরে তো সিড়ি দিয়ে নামতেই পারো।’
  • কাজে নামার আগেই তৈরি করে নিন সময়ের বন্টন- যে কাজে আগে ৫ মিনিট সময় লাগতো সেখানে এখন একটু বাড়িয়ে ১০ মিনিট করে দিন। একটু সময় বাড়িয়ে কাজের পরিকল্পনা ভাগ করুন। তাহলে জলদি জলদি করে ফেললেও কাজ শেষে যখন দেখবেন সময় হাতে আছে তখন বাড়তি স্ট্রেসটা থাকবে না।
  • প্রতিদিন অন্তত একবার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন-  একটা নিরিবিলি স্থানে আরাম করে বসুন। প্রথমে দুই থেকে তিনবার ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন এবং ছেড়ে দিন। এরপরে স্বাভাবিক নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নিন এবং কিভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন সেটা পর্যবেক্ষণ করুন। পুরো কাজটা ১০ মিনিট সময় নিয়ে করুন।
  • ভুলগুলোকে দোষ হিসেবে না দেখে মেনে নিন এবং শোধরানোর সঠিক পরিকল্পনা করুন- অনেকসময় আমরা নিজেকে দোষ না দিলেও অন্য আরেকজন আমাকে দোষ দিবে এই ভেবে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে যাই।  কিছুটা অতৃপ্তি কি আপনার  মধ্যে নেই? সে জন্যেই নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে শুধরে নেয়ার প্রত্যয় করুন এবং ছোট ছোট করে শুধরে নিন। নিজের তাড়াহুড়োয় ভুল হয়ে গেল বলে নিজেকে ছোট ভাববেন না কারণ ভুল নাই এমন কোন মানুষই কিন্তু নাই। তাই না?

আসুন তাহলে আজকে থেকে নিজের এই প্রয়োজনীয় গুণটাকে প্রতিবন্ধকতা না ভেবে উপকারী ভাবি এবং নিজেকে উপকার করার পরিকল্পনা নিই।

আরো পড়ুন
সারাদিনের কাজগুলো গুছিয়ে নিন সঠিক সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।