নিজে বাচুঁন, অন্যকে বাঁচান-জানুন রক্ত দানের ৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে

Health Benefits of Blood Donationপ্রতিবছর ১৪ই জুন World Blood Donor Day পালিত হয়। WHO এর তথ্য মতে প্রতিবছর পৃথিবীতে ১.৩মিলিয়ন মানুষ মৃত্যু বরণ করে সড়ক দূর্ঘটনায় রক্তক্ষরণ জনিত কারণে এবং উন্নয়নশীল দেশে এর পরিমাণ ৯০%। এছাড়াও নানা কারনে রক্তের অভাবে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই রক্তদানের (blood donation) পরিমাণ বাড়াতে এবং উৎসাহী করতে নানা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। সবাই রক্ত দিতে পারেন না শারিরীক বিভিন্ন সমস্যার কারণে । কিন্তু যারা দিতে সক্ষম তাদের অনেকে ভয়ে বা সচেতনতার অভাবে আগ্রহ বোধ করেন না। জানেন না জীবন রক্ষার পাশাপাশি রক্তদানের আরো কিছু উপকারীতা আছে। জানা যাক সে সম্পর্কে।

স্বাস্থ্যের সামগ্রীক অবস্থা জানা (detail health information)

যে কেউ চাইলেই রক্ত দিতে পারবেন না। দাতার এবং গ্রহীতার শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কিনা তা আগে নিশ্চিত হতে হয়। তাই রক্ত দেয়ার বা নেয়ার পূর্বে রক্তের গ্রুপ থেকে শুরু করে রক্তদাতার বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত দিক পরীক্ষা করা হয়। যেমনঃ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, রক্তচাপ,শরীরের তাপমাত্রা ইত্যাদি। প্রাথমিক চেক-আপ শেষে রক্ত সংগ্রহের পর এটিকে ল্যাবে পাঠানো হয় আরো ১৩ ধরণের কিছু বিশেষ পরীক্ষা করার জন্য। যেমনঃ HIV । কোন সমস্যা ধরা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হয়। যার ফলে রক্তদাতা অন্যের জীবন বাচাঁনোর পাশাপাশি সহজেই নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। নিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

দেহে আয়রণের ভারসাম্য রক্ষা (iron level maintenance)

সাধারণত একজন পূর্ণবয়ষ্ক স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির দেহের লোহিত রক্ত কনিকা ও অস্থি মজ্জায় ৫গ্রাম আয়রণ থাকে। রক্তদানের ফলে অতিরিক্ত আয়রণ থাকলে তার পরিমাণ কমে আসে। দেহের প্রয়োজনীয় আয়রণ আবার রক্ত দানের এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ফিরে আসে। চিকিৎসক মনে করেন এই প্রক্রিয়ায় দেহের আয়রনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কেননা অতিরিক্ত আয়রন সব সময়ই ক্ষতিকর।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় (decreases heart failure risk)

নিয়মিতভাবে রক্তদানের মাধ্যমে শরীরে আয়রনের লেভেল বা মাত্রা ঠিক থাকে বিধায় ব্যক্তি হৃদরোগের আক্রান্ত হওয়ার আশংকা মুক্ত থাকতে পারে।
কারণ মাত্রাতিরিক্ত আয়রনই হৃদরোগ ডেকে আনে। সাথে সাথে এর ফলে ব্যক্তি বুড়িয়ে যেতে থাকে। রক্তদান এই বিষয়গুলো রোধ করতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করা (weigh-loss)

একবার রক্ত দেয়ার ফলে শরীরের ৬৫০ কিলো পরিমাণ ক্যালরি কমে যায়। এটি অনেকের বাড়তি ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে। একজন ব্যক্তি দুই-তিন মাস অন্তর একবার রক্ত দিতে পারবেন। এর বেশি যেন না হয়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় (decreases cancer risk)

উচ্চ মাত্রার আয়রন ব্যক্তির দেহে ক্যান্সারের ইশারা দিয়ে থাকে। তত্ত্বীয়ভাবে বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া যায় যে রক্ত দান ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে।

রক্তদাতা রক্ত দিয়ে কাউকে যেমন সুস্থ জীবন পেতে সাহায্য করতে পারেন, একই সাথে নিজ আয়ুকে দীর্ঘ করতে পারেন। যদিও সব কিছু মহান সৃষ্টিকর্তার হাতে। তথাপি স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানের গবেষণাতেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে যে যারা অন্যের উপকারে রক্ত দেন, তারা অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে চার বছর বেশি বেঁচে থাকেন।

রক্তদানে যারা আগ্রহী তারা যোগাযোগ ও তথ্যের জন্য নিচের লিঙ্কগুলো দেখুন
Give Blood, Save Life
Bangladesh Blood Bank
Voluntary Blood Donors (V.B.D)™
সন্ধানী

আরো পড়ুন
যেসব কারণে বিয়ের আগে সঙ্গীর রক্তের গ্রুপ অবশ্যই জেনে নেবেন

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।