কেমন হবে অফিসে সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কঃ ২য় পর্ব

Group Of Office Workers Looking At The Computer Celebrating Their Success

গত পর্বে (অফিসে প্রথমদিন ও এর প্রস্তুতি) আমরা দেখেছিলাম অফিসে প্রথমদিন কিভাবে সহজ ও প্রাণবন্ত থাকব। আর সেই ধারাবাহিকতায় আজকে জানব কেমন হবে সহকর্মীদের সাথে আমাদের সম্পর্ক।

একটি কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে যদি বন্ধু ভাবাপন্ন সম্পর্ক না বজায় রাখা যায় তাহলে অসহনীয় হয়ে পড়ে কর্মজীবন। হোক সিনিয়র অথবা জুনিয়র সে পোস্টের দিক দিয়ে কিংবা বয়সে, সহকর্মীদের সাথে কিন্তু সুন্দর বন্ধু ভাবাপন্ন মনোভাব বজায় রাখতেই হবে। আসুন জেনে নেই সে জন্য আমাদের কি কি পদক্ষেপ সচেতনভাবে নিতে হবে।

  • প্রতিদিন কুশল বিনিময় করুন। অনুভূতি প্রকাশে সহযোগিতা করুন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
  • নিজের কোন বিষয় মিলে গেলে শেয়ার করুন তবে শুধুমাত্র যেটা নিজের। (আরেকজন কর্মীর বিষয়ে কোন কথা হলে যথাসম্ভব নীরব থাকতে চেষ্টা করুন।) কারণ একজন হয়ত কষ্ট থেকে অন্য কর্মীকে নিয়ে কথাটা বলছে তার অর্থ এই নয় আপনি সেই সহকর্মীর প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিবেন। আপনার মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই আপনার ব্যক্তিত্বের শক্তিশালী দিক।
  • কোন বিষয়ে দ্বিমত হলে ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবেই নিন। দ্বিমত হতেই পারে। অপরজনের চিন্তার ইতিবাচক মূল্যায়ন করুন। হয়ত সে আপনার চিন্তার মূল্যায়ন করছে না, এতে হতাশ হবেন না। কারণ আপনি যা জানেন সেটা আরেকজন না জানতেই পারে। একইভাবে সে যা জানে তা আপনার অজানা থাকতেই পারে। সময় নিন। বুঝিয়ে বলুন।
  • ভুল কোন মন্তব্য করে ফেললে বা কাজে কোন ভুল হলে সাথে সাথে স্বীকার করুন এবং তা সংশোধন করে নিন। নিজ কৃত ভুল অন্য কর্মীর উপরে দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • সহকর্মী কোন কাজে আপনার থেকে এগিয়ে থাকলে তাকে মন থেকেই প্রশংসা করুন। আমরা কেউ কারো মত না তাই যার যার জায়গা থেকে একজন ব্যক্তি যোগ্য বা ভাল কাজ করবে এটাই প্রত্যাশিত। হতে পারে আপনার সহকর্মী আপনাকে প্রশংসা করছে না কিংবা সমালোচনা করছে এতে মনঃক্ষুণ্ণ হবেন না। কারণ খুব কম মানুষই গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে।
  • যথাসম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব না হয় তবে তা বুঝিয়ে বলুন এবং ক্ষমা চেয়ে নিন। মনে রাখবেন ভুল হলেই শুধু ক্ষমা চাইব তা কিন্তু নয়।
  • মাঝে মাঝে ফান বা জোকস করুন। রসবোধ ও হাস্যরস অফিসের পরিবেশকে প্রাণোচ্ছল রাখে। তবে বয়স, মনোভাব ও পদ বুঝে ফান করবেন।
  • কোন সহকর্মীর জন্মদিন বা আনন্দের কোন ঘটনায় তাকে শুভেচ্ছা জানান।
  • কোন কাজের নির্দেশ থাকলে তাকে অনুরোধ করুন। হোক সে আপনার জুনিয়র। নির্দেশ দেয়ার মত স্বরে কাজ করতে বলবেন না। কারণ এটি মনে ক্ষোভ তৈরি করে। বন্ধু ভাবাপন্ন স্বরে কথা বললে সহকর্মীরা নিজেকে নিরাপদ মনে করে। আর একই ভাবে আপনার সাথে যদি কেউ এভাবে বলে যা আপনার ভাল লাগছে না সেটি আপনি ঐ ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রকাশ করতে পারেন। আপনি যখন তাকে শ্রদ্ধা দেখাবেন স্বাভাবিকভাবে কিন্তু সেও আপনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে অথবা এর অন্যথাও হতে পারে। কাজ শেষে বিদায় ও শুভেচ্ছা জানান।

আপনার সহকর্মীকে সম্মান করার দায়িত্ব আপনার। কাউকে ছোট করে নয় বরং শ্রদ্ধাভরে অফিসের পরিবেশটা করে ফেলি সহনীয় ও বন্ধু ভাবাপন্ন। অফিসে আমাদের আচরণ হোক সমান দৃষ্টিভঙ্গির ও সম্মানজনক।

এ ধরণের আরও লেখা পড়ুনঃ