ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইভিনিং এমবিএ তে ভর্তির খুঁটিনাটিঃ পর্ব-০১

EMBA DUস্নাতক শেষ করার পরপরই স্নাতকোত্তর কোন ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা থাকে প্রায় সবারই। বর্তমান যুগের ক্যারিয়ার সচেতন ছেলে-মেয়েরা এমন কিছু ডিগ্রিই নিতে চান, যেগুলো তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য সহায়ক হবে। দেশের ভিতরে ভালো একটা চাকরি পাওয়ার জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি হিসেবে এমবিএ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এমবিএ শুধু একটা অ্যাকাডেমিক ডিগ্রিই নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীকে চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রকাশের একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমবিএ করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলোর ভিতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ইভিনিং এমবিএ অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেকেই চান, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিতে। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনার অভাবে অনেকেরই সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। সেই স্বপ্নের পালে জোর হাওয়া লাগানোই আমার এই ধারাবাহিক সিরিজের উদ্দেশ্য।

আজকের পর্বে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং এমবিএ তে ভর্তির যাবতীয় তথ্যাবলী নিয়ে আলোচনা করবো।

ভর্তি পরীক্ষা

বছরে ৩ বার ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। মার্চ (সামার সেমিস্টার), জুলাই (ফল সেমিস্টার) এবং নভেম্বর (স্প্রিং সেমিস্টার)।

  • ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতাঃ যেকোন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি। সেইসাথে এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক মিলিয়ে সর্বমোট- ৬ পয়েন্ট থাকতে হবে। উল্লেখ্য, জিপিএ-৪/ফার্স্ট ডিভিশনঃ ৩ পয়েন্ট, জিপিএ-৩/সেকেন্ড ডিভিশনঃ ২ পয়েন্ট, জিপিএ-২/থার্ড ডিভিশনঃ ১ পয়েন্ট।
  • এমবিএ এর বিষয়সমূহঃ ফিন্যান্স (FIN), ম্যানেজমেন্ট (MGT), মার্কেটিং (MKT), এমআইএস (MIS), ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স (B&I), অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (AIS), ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস (IB) এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (THM)।
  • আবেদন করার নিয়মঃ ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলার দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। তারপর ফর্ম পূরণ করে ফর্মের সাথে নিজের পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি এবং সকল অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্ত করে বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন অফিসে জমা দিতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি

৮০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। সময় থাকবেঃ ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট।

  • MCQ প্রশ্ন থাকবেঃ ৫৫ টি। প্রত্যেকটির মার্কস-১।
    একেকটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নাম্বার কাটা যাবে। (ম্যাথ- ২০, সাধারণ জ্ঞান- ১০, ভারবাল- ১৫, অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি- ১০)
  • Writing Ability তে থাকবেঃ ২৫ নাম্বার। এখানে প্যারাগ্রাফ, ট্রান্সলেশন ইত্যাদি থাকতে পারে।

বাকি ২০ নম্বরের ভিতরে ভাইভায় থাকবে ৫ নম্বর, ইয়ার অফ স্কুলিং এ থাকবে ৫ নম্বর এবং জব এক্সপেরিয়েন্স এ থাকবে ১০ নম্বর। উল্লেখ্য, কমপক্ষে ২ বছরের জব এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে উক্ত ১০ নম্বর পাওয়া যাবে না। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জব এক্সপেরিয়েন্স না থাকলেও আবেদন করা যাবে। ওই ১০ নম্বরের জন্য আপনার ভর্তি হওয়া আটকে থাকবে না। আর ইয়ার অফ স্কুলিং এর ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েশন করা থাকলেই আপনি ৪ পাবেন। আর যদি আপনার মাস্টার্স ডিগ্রি থাকে, তাহলে আপনি ৫ পাবেন। কাজেই ওটা নিয়েও চিন্তার কিছু নেই। সবাই কমপক্ষে ৪ পাবেনই। আর ভাইভা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করবো।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু তথ্য
• সর্বমোট খরচঃ প্রায় ২ লাখ টাকা
• সময়কালঃ প্রায় ২-৩ বছর
• কোর্সঃ ২১ টি থিওরি কোর্স+ইন্টার্নশিপ ( মোট ৬৬ ক্রেডিট)
• আসনসংখ্যাঃ ৭২০-৮০০ টি। মোট পরীক্ষার্থীঃ ৫০০০-৭০০০ জন।
• ক্লাসঃ শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট।

সামনের পর্বগুলোতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা নিয়ে আমি আবারও হাজির হবো। শুভকামনা সবার জন্য।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।