চাকরির জন্য জীবন থেকে বাদ দেবেন না যে আনন্দময় বিষয়গুলো

hmhh“ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর/তাই বলে ভেবো না আমায় স্বার্থপর”……নব্বই এর দশকে সোলস এর একটি অসম্ভব জনপ্রিয় গান। বাস্তব জীবনেও আমরা প্রত্যেকেই প্রচন্ড ব্যস্ত। কেউ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ চাকুরি-ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা আবার ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। এতসব ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে অনেক সময়ই অনেক ব্যাপারে সময় দেওয়ার মতো সময় আমাদের থাকে না। তাই কেউ যদি “স্বার্থপর” ভেবেই বসে, তাকে বোঝানোর উপায়ই বা কি!

যারা চাকুরিজীবী, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত তারা দম ফেলার মতো সময় পান না। এতে করে হয়তো চাকুরিদাতা কোম্পানি লাভবান হয়, যিনি চাকুরী করেন তার পকেটেও হয়তো মোটা অংকের টাকা আসে। কিন্তু জীবনে টাকাটাই কি সবকিছু? টাকাই কি পারে একজন মানুষকে পরিপূর্ণ সুখী করতে? শান্তি দিতে?

না। পারে না। ৯টা-৫টা চাকুরি আর কাড়ি কাড়ি টাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, অর্থবহ কিছু জীবনে আছে। যেগুলোর উপস্থিতি হয়তো বোঝা যায় না। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতি একজন মানুষের জীবনকে অর্থহীন করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। জীবনে তাই সেই জিনিসগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার আগে। তো কি সেই জিনিসগুলো?

১) পরিবারকে সময় দিনঃ আমরা পরিবারে বাস করি। পরিবারই আমাদের মাথার উপর ছাতা হিসেবে কাজ করে। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে থাকতে পারেন। আপনার দিনের কিছুটা সময় তাদের জন্য অবশ্যই বরাদ্দ রাখা উচিৎ। চাকুরি করতে গিয়ে অফিসকেই সব সময় দিয়ে ফেললেন, আর রাতে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পরলেন, এভাবে আর যাই হোক, একটা সুখী পরিবার গঠন করা যায় না। ভুলে যাবেন না, আপনি যতখানি আপনার অফিসের জন্য, তার চেয়েও বেশি আপনার পরিবারের মানুষগুলোর জন্য।

২) ভালোবাসার যত্ন নিনঃ খেয়াল করে দেখুন, আমি কিন্তু ভালোবাসার মানুষের কথা বলি নি। বলেছি “ভালবাসা”’র যত্ন নেওয়ার কথা। আপনি সাথে যদি কারো ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে থাকে, তাহলে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় তার জন্য বরাদ্দ রাখুন। সেই সময়টুকুতে আপনি একান্তই তার সাথে কাটান। সেই মানুষটার যত্ন নিন। তার হাত ধরে বসে থাকুন। ভালোবাসাও যত্ন পাবে।

৩) সাহায্য করুনঃ মানুষকে সাহায্য করার মতো, উপকার করার মতো আনন্দের কোন কাজ পৃথিবীতে নেই। আপনার শত ব্যস্ততার ফাঁকেও সময় করে কারো মনের কথা শুনুন। হতে পারে সে আপনার অনেক কাছের কেউ, হতে পারে একেবারেই নতুন পরিচিত। হতে পারে ঘর-বাড়িহীন নিঃস্ব কোন মানুষ। আপনার পক্ষে যতটুকু স্মভব হয়, তাদের সাহায্য করুন। আশার আলো দেখান। আপনিও ভালো থাকবেন।

৪) বন্ধুত্ব বাঁচিয়ে রাখুনঃ সকালে হয়তো হন্তদন্ত হয়ে বাসা থেবে বের হয়েছেন। বসের সাথে জরুরী মিটিং। সারাদিন অনেক ব্যস্ততায় কাটলো আপনার। অফিস শেষ। বাসায় না গিয়ে চলে যান বন্ধুদের সাথে দেখা করতে। কোন কফিশপ এ। অথবা টং দোকানের কোন চা এর আড্ডায়। হাতে নিন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা মালাই চা। প্রাণখুলে আড্ডা দিন কাছের বন্ধুদের সাথে। নিশ্চিত করেই বলতে পারি, আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

৫) নিজেকে গড়ে তুলুনঃ আপনি হয়তো এক জায়গায় চাকুরি করেন। জীবনের প্রয়োজনেই অনেক সময় চাকুরি পরিবর্তন করতে হয়। নিজেকে আপনি যে জায়গায় দেখতে চান, সে জায়গার যোগ্য করে নিজেকে গড়ে তুলুন। পড়াশোনা করুন, নতুন কোন ভাষা শিখুন। করে ফেলুন নতুন কোন কোর্স। আপনার ব্যস্ততার মধ্যেই সময় করে কাজগুলো আপনাকে করতে হবে। তাহলেই হবে সিদ্ধিলাভ।

৬) শরীরচর্চা করুনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেড়িয়ে পরুন না, ৩০ মিনিট হলেও জগিং করে আসুন। সকালের রাস্তাঘাট দেখুন। একটা দিনের শুরু কিভাবে হয়, নিজ চোখেই অবলোকন করুন। সূর্য উঠছে, পাখি গান গাইছে, ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। আপনিও যেন বয়ে চলেছেন বাতাসের সাথেই। যদি বেশি স্বাস্থ্যসচেতন হন, বিকেলের দিকে জিম করতে পারেন। অফিসের পর। ভালো থাকবেন।

৭) ঘুরে আসুনঃ শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে প্রিয়জন অথবা বন্ধুদের সাথে করে ঘুরে আসুন। নিজের দেশটায় দেখার মতো অনেক কিছুই হয়তো আছে, যা আপনি আগে দেখেননি। শহরের কোলাহল ছেড়ে কিছুদিন দূরে থাকলে আপনি চনমনে হয়ে উঠবেন। ইচ্ছে হলে দেশের বাইরে থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

৮) খাওয়া-দাওয়া করুন সঠিকভাবেঃ অফিসের কাজের এত চাপ যে দুপুরে লাঞ্চটাও করতে পারেন নি। অগত্যা পাশের কোন হোটেল থেকে মশলাদার কোন খাবার খেয়ে নিলেন। খেতে হয়তো ভালোই লাগবে, কিন্তু কয়েক ঘন্টা পর পেটের ভেতরে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আপনার ভালো নাও লাগতে পারে! কাজেই যত ব্যস্তই আপনি হন না কেন, খাওয়া-দাওয়া হতে হবে ঠিকঠাক। “ব্যালেন্সড ডায়েট” যাকে বলে। শরীর ঠিক তো সব ঠিক।

জীবনে যে কয়দিনই বাঁচুন, আনন্দ নিয়ে বাঁচুন। চাকুরির ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়েই আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। দিনশেষে যেন সন্তুষ্টির সাথেই আপনি বলতে পারেন, “ভালো আছি। বেশ ভালো আছি।“

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।