অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছের রোগ প্রতিরোধ করবেন কিভাবে?

4-Fish-Aquariumসুপ্রিয় পাঠক, সবাইকে শীতের শুভেচ্ছা। কেমন আছেন সবাই? নিশ্চয়ই ভালো। আমরা হয়তো ভালো আছি। শীতে লেপ-কাথা মুড়ি দিয়ে জমিয়ে ঘুমাচ্ছি। কিন্তু এই শীতের সময়টা অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছদের জন্য খুব একটা ভালো সময় নয়। এই শীতেই মাছের নানাবিধ রোগের প্রকোপ ঘটে। মাছ মারাও যায়। পাঠকবৃন্দ হয়তো অবাক হচ্ছেন। ঘটনা কিন্তু সত্যি।

বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা, অ্যাকুয়ারিয়াম মাছের জন্য একটি অসম্ভব নিরাপদ জায়গা। ঐ কাঁচের বাক্সে ঢুকালে মাছের আর কোন চিন্তা নেই। কোন রোগ-বালাই হবে না। মাছ বাঁচবে দীর্ঘদিন। এই ধারণা সম্পূর্ণ অসার ও ভিত্তিহীন। অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছের হতে পারে বিভিন্ন পরজীবী ঘটিত রোগ, হতে পারে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। আবার পানির কারণেও হতে পারে নানান রোগ-ব্যাধি।

সব মাছই তাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া/পরজীবী বহন করে। অ্যাকুয়ারিয়ামের ভিতরেও বাস করে নানান জাতের ব্যাকটেরিয়া। তবে শুধুই কি ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণেই মাছ অসুস্থ হয়ে পড়ে? আসুন জেনে নেই মাছের বিভিন্ন রোগের কারণঃ

• কোন মাছ যদি কোন কারণে ভয় পায়, যেমনঃ অ্যাকুয়ারিয়ামের ভিতরেই অন্য কোন হিংস্র মাছের কারণে অথবা এক অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে অন্যটায় নিয়ে আসলে সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে মাছের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। মাছ ঘন ঘন অথবা খুব দ্রুতই রোগাক্রান্ত হয়।

• শীতের সময় অ্যাকুয়ারিয়ামের পানির তাপমাত্রার হেরফের ঘটে প্রায়শই। দেখা যায়, ঠান্ডা একটু কম থাকলে অথবা অ্যাকুয়ারিয়ামের আলো জ্বালিয়ে রাখলে একরকম। আবার হয়তো কিছুক্ষণ পরেই ঠান্ডা বেশি হলে আরেকরকম। এভাবে তাপমাত্রার হেরফেরের কারণে মাছের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া শীতের সময় অ্যাকুয়ারিয়ামে পরজীবীর উপস্থিতিও লক্ষ্যণীয়।

• মাছ যদি কোন কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যেমনঃ অন্য কোন মাছের কামড়ে অথবা অন্য কোন কারণে, তাহলে সেই মাছ কিছুদিনের মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ঐ মাছ হয়তো পরে আর বাঁচেই না, উপরন্তু তাঁর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগজীবাণু অন্য আরেকটি সুস্থ মাছকেও রোগাক্রান্ত করে।

রোগ প্রতিরোধঃ কথায় আছে, প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম। সেজন্যই মাছ অসুস্থ হবার পরে প্রতিকারের চিন্তা না করে কিভাবে রোগ প্রতিরোধ করা যায়, সেই চিন্তা করতে হবে। যখনই কোন মাছ রোগাক্রান্ত হবে, প্রথম কাজটিই হবে রোগের সঠিক কারণ সনাক্তকরণ। যদি কারণ সনাক্তকরণ সঠিক না হয়, তাহলে তা হবে সময়ের অপচয় এবং সেই সাথে ভুল চিকিৎসায় আরো বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া অ্যাকুয়ারিয়ামের ভিতরে ওষুধজাতীয় দ্রব্যাদি বেশি পরিমাণে দিলে তা অ্যাকুয়ারিয়ামের পানির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সেজন্যই প্রথম অবস্থায় রোগ প্রতিরোধের চিন্তা করাই জরুরী। রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবেঃ

অ্যাকুয়ারিয়ামের পানির গুণাগুণ নিশ্চিত করাঃ
• পানি ফিল্টার হওয়ার সিস্টেম ঠিকঠাক রাখতে হবে। যাতে পানির অভ্যন্তরীণ অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইটের পরিমাণ Zero Level এ থাকে।
• যদি মাছের আচরণ স্বাভাবিক মনে না হয় অর্থাৎ মাছ ভয়ে কুঁকড়ে থাকে বা নড়াচড়া না করে, তাহলে পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য আলাদা “টেস্ট কিট” বাজারে পাওয়া যায়। এটি দিয়ে পানির pH লেভেল, অ্যামোনিয়া, নাইট্রাইট, নাইট্রেট এর পরিমাণ পরীক্ষা করা হয়। প্রথমাবস্থায় যদি এদের পরিমাণের অসঙ্গতি চোখে পড়ে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মাছের অনেক রোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করা যাবে।

অসুস্থ বা আহত মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামে না রাখাঃ

অসুস্থ অথবা আহত মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা যাবে না। এতে করে সুস্থ মাছে ঐ রোগ সংক্রমিত হয়। নিম্নোক্ত কিছু উপায়ে অসুস্থ মাছ সনাক্ত করা যায়ঃ

• অস্বাভাবিক সাঁতারের ধরণ (উলটো হয়ে সাঁতার কাটা, হঠাৎ তীব্র গতিতে সাঁতার কেটে তারপর নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা
• মাছের শরীরে, পাখনায় জমাট বাঁধা রক্ত থাকা
• মাছের ঘোলাটে চোখ, শরীরে/পাখনায় সাদা সাদা ছোপ ছোপ দাগ
• মাথায় গর্ত দেখতে পাওয়া, সারা শরীরে কালো দাগ
• খাবারের প্রতি অনীহা। খাবার দেওয়া হলেও কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া।

এরকম মাছ অ্যাকুয়ারিয়ামে দেখা মাত্র দেরী না করে ঐ অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। এভাবে রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমেই আপনি পেতে পারেন সম্পূর্ণ নীরোগ একটি অ্যাকুয়ারিয়াম।

আরো পড়ুন
অ্যাকুয়ারিয়াম কিনতে আগ্রহী? জেনে নিন কোথায় পাবেন
অ্যাকুয়ারিয়ামে শখের মাছের যত্নআত্তি
লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।