শুধু পরিবার বা অন্যদের নয়, যত্ন নিন নিজের প্রতিও

Caregivers Need Care Tooযেকোন মানুষই যেকোন বয়সে হুট করে কোন অসুখে বা কোন সমস্যায় পড়তেই পারে। তখন দেখা যায় কেউ তাঁর পাশে ছায়ার মত দাঁড়িয়ে অসুস্থ অসহায় মানুষটাকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করছেন, যত্ন নিচ্ছেন। সেবা প্রদানকারী যে কেউই হতে পারেন, হতে পারেন সে ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, আইনি সহায়তাকারী, মা, বাবা, ভাই, বো্‌ন, পরিবারের কেউ, সেবাকাজে নিয়োজিত যেকোন ব্যক্তিই। আমরা কি কখনো খেয়াল করেছি যে সেবাটা দিচ্ছে সে-ই মানুষটা কি অবস্থায় আছেন?

কখনো কখনো যত্নকারী আরেকজনের যত্নে এত মগ্ন আর ব্যস্ত হয়ে যান যে নিজের মানসিক চাহিদা, প্রয়োজনীয় কাজগুলোকেও উপেক্ষা করেন বা পরে করার জন্য ফেলে রাখেন। যার ফলে অনেক সময় দেখা যায় সেবা প্রদানকারীর মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, অনাগ্রহ, মেজাজ খিটখিটে হয়ে খাওয়া, কাজে ভুল হওয়া, ভুলে যাওয়া, শরীরে ব্যথা, জ্বালাপোড়া ভাব, ঘুমের অসুবিধা, অরুচি প্রভৃতি দেখা দেয়। যেটা সেবার মানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমন অনেক অনেকেই আছেন যারা নিজের যত্ন নেয়ার কথা ভাবতেও অস্বস্তি ও অপরাধ বোধ করেন। (যেমন-মানুষটার এই অবস্থা, আমার উপর এত কাজের চাপ আর আমি কিনা নিজেকে কিভাবে আনন্দ করব সেই কথা ভাবছি! এত স্বার্থপর আমি, আমি এত নিষ্ঠুর, আমার মন এত নিচু!)

সবসময় মনে রাখবেন, যত্ন নিজের থেকে শুরু হয়। আপনি তখনই দক্ষ ও নিপুণতার সাথে যত্ন নিতে পারবেন যখন আপনি নিজের শারীরিক, মানসিক ও আবেগ-অনুভুতির দিক থেকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারবেন ।

যত্নকারীর নিজের যত্ন নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা সেবা কাজ থেকে একটু বিরতি নিয়ে নিজেকে একটু সময় দেয়াকে দোষ মনে করেন, তারা একটু খেয়াল করুন যে আপনি প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত আপনার প্রিয় মানুষটির জন্য কতটা সময় কতটাই না সেবা দিয়ে যাচ্ছেন!

মনের এই অপরাধবোধ কমাতে এবং নিজের উদ্যমকে আবার গতিশীল করে তুলতে এখানে রইলো কয়েকটি পরামর্শ

  • শুরু করুন নিজের শরীরের যত্ন থেকে। যখন সম্ভব হবে সেবাকাজ থেকে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিন। নিজেকে বিশ্রাম ও হালকা হবার জন্য সময় দিয়ে নিজের উদ্যম-এনার্জিকে রিচার্জ করে আগের মত ঝরঝরে করে তুলুন। মন ঝরঝরে থাকলে কাজ করতেও সুবিধা হবে।
  • কষ্টসাধ্য হলেও আপনার সামাজিক জীবনের জন্য কিছু সময় বের করুন। সেবার দায়িত্ব থেকে একটু বিরতি নিয়ে নিজের বন্ধু- আত্মীয় স্বজনের সাথে সময় কাটান, যা আপনার কাজের উদ্যম ও মানসিক শক্তিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে।
  • সময়মত খাবার খেতে চেষ্টা করুন এবং অবশ্যই তা যেন স্বাস্থসম্মত হয়। নাহলে খাবারে অনিয়ম থেকে সৃষ্ট গ্যাস্ট্রিক-আলসার জাতীয় রোগগুলোয় কিন্তু আপনাকেই ভুগতে হবে।
  • সাহায্যের হাত তৈরি করুন। সব দায়িত্ব আপনাকে একা একা পালন করতে হবে না। সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিন। পরিবার বা কোন বন্ধুর কাছে আপনার সাথে কাজটি করার জন্য সাহায্য চান। এতে দায়িত্বগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে গেলে একজনের উপর থেকে যেমন নির্ভরশীলতা কমে যাবে, আবার অন্যদের মধ্যেও ধীরে ধীরে দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে।
  • একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন এমন কোন মানুষ পেলে তাদের সাথে শেয়ার করুন, জানুন তাদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা কিভাবে কাজগুলোর ব্যবস্থাপনা করছেন। হয়তো সেখান থেকে আপনি উপকারী কোন নতুন টিপস পেয়ে যেতে পারেন !
  • অনেক সময় আর্থিক বিষয়টিও যত্নকারীর মাথায় চেপে বসে তাঁর কাজের গতিকে ধীর বানিয়ে দেয়। বিকল্প পথগুলোর খোঁজ রাখুন এবং প্রয়োজন অনুসারে বাজেট করে ফেলুন, যা আর্থিক দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকখানিই সাহায্য করবে।
  • নিজেকে প্রশংসা করুন। মনে রাখবেন আপনি অবশ্যই এই প্রশংসার দাবিদার। কারণ কারো সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা সহজ কোন কথা নয়, এটা অনেক কঠিন শ্রমসাধ্য একটা কাজ, যার দায়িত্ব অনেকেই নিতে চায় না। এই দায়িত্ব পালন করার জন্য নিজেকে মাঝে মাঝে পুরষ্কার দিন, সেটা যেকোন কিছুই হতে পারে -নিজের পছন্দের কোন আইটেম রান্না করলেন, মুভি দেখলেন বা কোথাও বেরিয়ে আসলেন।
  • নিজের শখ ও আগ্রহের বিষয় বা যা থেকে আপনি আনন্দ পান এমন বিষয়গুলোর জন্য সময় বের করুন ।
    আশাবাদী মানসিকতায় দৃঢ়তা বজায় রাখতে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক বই বা গল্প পড়া যেতে পারে।
  • ব্যায়ামের আসলে উপকারিতার শেষ নেই। মেজাজ ঠিক করা, চাপ কমানো সুস্বাস্থ্য তৈরি করতে এর জুরি নেই। হাঁটা হাঁটির অভ্যাস গড়ে তুলুন
  • নিজের ব্যর্থতা নয়, সফলতাগুলোর কথা ভাবুন। উৎসাহ পাবেন।
  • নিজের আস্থা ও বিশ্বাসের স্থানটি শক্ত রাখুন, যা আপনাকে কঠিন সময়গুলোকে পার হয়ে আসতে সাহায্য করেছে।

ব্যক্তিগতভাবে কোন অসুবিধা বা সমস্যা বোধ করলে চেপে না রেখে সেগুলো থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজুন। প্রয়োজন মনে হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের কাছ থেকে নিতে পারেন প্রফেশনাল সাহায্য।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।