নিজের উপর আস্থা ফিরিয়ে আনুন, বাড়িয়ে তুলুন আত্মমর্যাদাবোধ

Boost Up Your Self DignitySelf Dignity বা আত্মমর্যাদা বোধ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। তবে আমাদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে এর গুরুত্ব কতখানি তা হয়ত অনেকেই অনুমান করতে পারিনা ।

ভাবুনতো, একবার কোন এক অনুষ্ঠানে গেলেন, একজন বলে বসলো ” আপনি একদম বোকা আর পরনির্ভরশীল ।” আর আপনি এই কথা শুনে নিজে তো কোন প্রতিক্রিয়া দেখালেনই না, উল্টো চুপচাপ বিশ্বাস করে ফেললেন কথাগুলো সত্যি। খুব হীনমন্যতায় ভুগতে লাগলেন , অসহায় বোধ করতে লাগলেন। ভেবে ভেবে হয়রান হয়ে গেলেন, আপনি আনস্মার্ট, বোকা, পরনির্ভরশীল। শুধু এটুকুই ভাবলেন না, আদৌ আপনি সেরকম কি না। খেয়ালই করলেন না, নিজের অজান্তেই কখন যেন আপনাকে বিচার করবার অধিকারটুকু তাকে দিয়ে দিয়েছেন

ছোটবেলা থেকেই কিন্তু আমরা অন্যের দেয়া সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত হয়ে অভ্যস্ত। এই যেমন ছোটবেলায় কাউকে যদি বলা হয় “তুমি দেখতে ভাল না”।সে কিন্তু নিজেকে ভাল করে আয়নায় দেখেও না, অন্ধের মত বিশ্বাস করে ফেলে-সে সুন্দর নয়। কেউ যদি বলে ফেললো, ” তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না”- ব্যস, ওটাই বানিয়ে ফেলি জীবনের একমাত্র বিশ্বাস, কোনদিন হয়ত কিছু একটা করে দেখানোর চেষ্টাও করিনা। আমার অমূলক ঐ বিশ্বাসটা কখন যেন আমার চিন্তাটাকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছে, বুঝতেই পারিনা।

তাহলে এই আমি যদি পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সবার সামনে না দাঁড়াতে পারি, নিজেকে সবসময় পরনির্ভরশীল ভাবতে থাকি, তার জন্য দায়ী কে?-এই আমি ই।

” Nothing is more important than how YOU feel and think about yourself”-

তাই নিজের সম্পর্কে উচ্চতর ধারণা, নিজেকে নিঃশর্ত ভাবে ভালবাসা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আমাদের জীবনে। তাই বলছি-

  • সারাদিনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে সময় দিন। নিজেকে ভালবাসুন। আমি জানি আপনি বাসেন, তবুও বলছি, নিজেকে গভীরভাবে ভালবাসুন-শুধু আপনি যেমন, আপনি যা-সে জন্য।
  • নিজের কাজের ইতিবাচক সমালোচনা করুন, ভিতরের নেতিবাচক স্বত্বাটাকে গুরুত্ব কম দিন। দিনে যাই ভাল করুন না কেন, ধন্যবাদ দিন নিজেকে তার জন্য।
  • আপনি নিজেকে কি কারণে ভালবাসেন,তা লিখে রাখুন প্রতিরাতে ঘুমুতে যাবার আগে। মাস শেষে যখন পড়বেন সবগুলো একসাথে, দেখবেন নিজের সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়ে গেছে।
  • অন্যকে খুশি করার দরকার আছে, কিন্তু সারাদিনে অন্তত একবার এমন কিছু করুন, যা আপনি করতে সত্যিই ভালবাসেন। যে কাজটি আপনি করবেন, সম্পূর্ণ আপনারই জন্য, আপনার আত্ম উপলব্ধির জন্য।
  • সবকাজে সবটুকু সাফল্য আসবেই-এমন একগুঁয়ে ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। বরং নিজের ভুল গুলোকে শুধরিয়ে সেগুলোকে যৌক্তিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করুন। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন। আর একবার যদি এটা করতে পারেন, তবে নিজেকে প্রশংসা করতে ভুলবেন না কিন্তু।
  • অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা থেকে থাকলে তা আজই বাদ দিন। আমরা একেকজন মানুষ একেকরকম, সবার ই আলাদা আলাদা ইতিবাচক আর নেতিবাচক দিক আছে বলেই মানুষ বৈচিত্র্যময়। তাই না?আরেকজন জীবনে কি পেল, আমি কি পেলাম না, আরেকজন কি হল আমি কি হলাম না, বা তার জীবনে কি আছে আমার কি নেই, এসব চিন্তা মাথায় আনার আগে একটিবার ভেবে দেখুন, আপনি কি পেয়েছেন, আপনি কি হয়েছেন আর আপনার কি আছে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন, এবং আপনি যা , তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন।নিজের প্রতি সম্মান দেখানোর এটা শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

মনে রাখবেন,আপনার জীবন নামক এই গাড়িটার stearing কিন্তু সম্পূর্ণ আপনারই হাতে। তাই আজ থেকেই শুরু হোক , নিজের মত করে নিজেকে ভালবাসা, অনুভব করা আর সম্মান করা। Good luck….!

আরো পড়ুন
দৃঢ় হোক আপনার আত্মবিশ্বাস

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।