হয়ে উঠুন আপনার বোনের খুব ভালো একজন বন্ধু

bro n sisভাই-বোনের সম্পর্ক আদি ও অকৃত্রিম। জন্মের পর মুহূর্ত থেকেই এই সম্পর্কের শুরু। একজন মানুষের মনের ভেতরের খবর, তার ভালো লাগা-মন্দ লাগা তার আপন ভাই-বোনের চেয়ে ভালো কেউ জানে না। এই সম্পর্কটা অনেক মজার, অনেক ভালোবাসার, খুনসুটির। এই দেখা যায় সারাটা দিন ছোট্ট দুই ভাই-বোন নানান কারণে মারামারি করে, একে অন্যকে ভেঙচিয়ে, শখের খেলার পুতুল ভেঙে দিয়ে অথবা খেলার বলটা ঘরের জানালা দিয়ে ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়ে একে অন্যকে ব্যতিব্যস্ত রাখে।

কিন্তু দিনের শেষে দেখা যায়, টিভিতে কোন একটা হরর মুভি দেখার সময় সেই দুইজনই প্রবল আতংকে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। বড় হবার সাথে সাথে এই মধুর সম্পর্কটা আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে আসতে পারে নানান কারণে। একে অন্যের ব্যস্ততা, জীবনের নানাবিধ জটিলতা অথবা দূরে থাকা—এসব ধীরে ধীরে সম্পর্কটাকে ফিকে করে দেয়। কিন্তু বোনের সাথে সম্পর্কটাকে গুরুত্বহীন করে দেখা যাবে না কোনভাবেই। কেন?

  • শর্তহীন ভালোবাসাঃ আপনার সাথে আপনার বোনের মতের অমিল থাকতে পারে। তার পছন্দের জিনিস আপনার কাছে হতে পারে চরম অপছন্দের। কোন কারণে তার সাথে আপনার যতই দূরত্ব সৃষ্টি হোক না কেন, আপনার যেকোন বিপদে সেই কিন্তু সবার আগে এগিয়ে আসবে। কারণ আপনার প্রতি তার ভালোবাসা শর্তহীন, নিখাঁদ।
  • পরিণত বয়সেও শিশুতোষ আবহঃ আপনি হয়তো ৪০ বছর পার করে ফেলেছেন। চোখে লাগতে শুরু করেছে চালশে ঘোর। অফিসের বড় সাহেব আপনি। সারাক্ষণই গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে বসে থাকেন। এই ভাবটা কিন্তু সবসময় ভালো না। যেকোন বয়সেই কিছুটা সময়ের জন্য হলেও শিশুর মতো হয়ে যাওয়াটা জরুরী। নিজের স্বার্থেই। জীবনের জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে কিছুটা সময় হাসি-আনন্দে থাকা, মজার কোন কথায় হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়ারও দরকার আছে জীবনে। আর এই মধুর এবং মজার সম্পর্কটা আপনার থাকতে পারে একমাত্র বোনের সাথেই।
  • জন্মের পর থেকেই বন্ধুত্বঃ জীবনের শুরুর দিকে আপনার সব সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনের প্রত্যক্ষদর্শী আপনার বোন। সে যতটা ভালোভাবে আপনাকে বুঝতে পারবে, যতটুকু অনুভব করতে পারবে আপনার ভাই, বন্ধু তা পারবেন না। নারীর স্বভাবজাত কোমলতা, সবকিছু দ্রুত বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা আর আপনার সাথে রক্তের সম্পর্কের কারণে আপনার বোনই হতে পারে আপনার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
  • আপনার বোন আপনার আয়নার মতোঃ আপনার পরিবারে হয়তো অনেক সময় অনেক কিছুই ঘটতে পারে। সুখের সময় আসতে পারে। আবার দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসতে পারে যেকোন মুহূর্তে। ঠিক সে সময়টায় আপনার ভিতরের হতাশা, আত্ম-জিজ্ঞাসা, হাহাকার, না বলা কথাগুলো আপনার বোন আপনাকে দেখলেই বুঝতে পারবে। সে ক্ষমতা নিয়েই সে জন্মেছে। আপনার যেকোন পরিস্থিতিতে আপনার বোনের মুখের ভাবভঙ্গি হবে আপনার মনেরই প্রতিচ্ছবি।
  • কোমলতা-কঠোরতার অপূর্ব সংমিশ্রণঃ আপনার বোন বয়সে আপনার ছোট-বড় যাই হোক না কেন, কখনো হয়তোবা সে আপনার সাথে অভিমান করবে। ঠোঁট ফুলিয়ে বসে থাকবে। প্রচন্ড রাগ করবে। আবার সেই বোনই দেখা যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার জন্য ২ মিনিটে ম্যাগি নুডুলস রান্না করে নিয়ে এসে আপনাকে অবাক করে দিবে। মেঘ-রোদ্দুরের খেলার মতো এমন শিশুতোষ ভালোবাসা আপনি আর কার ভিতরে পাবেন?

সব ভাইকেই বলবো, আপনার বোনের সাথে আপনার আদর-ভালোবাসার এই সম্পর্ককে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখুন। খেলার পুতুল একটা ভাঙলেও কিছু যায় আসে না। জানালা দিয়ে একটা বল পরে গেলেও না। কিন্তু আপনার বোনের সাথে আপনার এই মধুর সম্পর্ক যাতে ভেঙে যায় না কোনভাবেই।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।