সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে দূর করুন এই তিনটি ত্রুটি

be acceptableঅন্যের সমালোচনা করা দোষ ধরা খুব সহজ কাজ। কিন্তু অন্যকে বিচার করার আগে নিজের দোষ-গুণগুলো  সম্পর্কে নিজের একটা স্বচ্ছ জ্ঞান রাখা অন্যতম কঠিন একটা কাজ। আমরা প্রতিনিয়ত কারণে অকারণে এর ওর ব্যাপারে দোষ খুঁজে বেড়াই।

একবারও ভেবে দেখেছেন কি পৃথিবীতে কেউ কি দোষ গুণের বাইরে হয়?  আমরা কেউই সম্পূর্ণভাবে কোন দিকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই এর ওর দোষ গুণের সমালোচনা করতে যাওয়ার আগে নিজের দিকে নজর দিন আর একবার নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি যেই দোষের সমালোচনা করতে যাচ্ছেন সেই একই দোষ আপনার মধ্যেও নেই তো?

আসুন দেখি অন্যের দোষ সম্পর্কে মাথা ঘামানোর আগে আপনার নিজের কোন কোন দোষ আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

কাউকে ব্যক্তিত্বহীন বলার আগে নিজে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হোন

“লোকটা একদম ব্যক্তিত্বহীন!” কথাটা খুব ছোট, কিন্তু এই ছোট কথাটার প্রভাব অনেক বেশি। কাউকে ব্যক্তিত্বহীন বলার আগে আপনাকে অন্তত দশবার ভাবা উচিত। কারণ একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কখনো অন্য আরেকজন মানুষকে সহজে ব্যক্তিত্বহীন এর খেতাব দিয়ে দেয়না। ব্যক্তিত্বহীন কথাটা যদি আপনার কাউকে বলতেই হয় তাহলে আপনার নিজের ব্যক্তিত্ব হতে হবে ভীষণ নজরকাড়া ধরণের। কারণ কাউকে নির্দ্বিধায় ব্যক্তিত্বহীন উপাধি দিয়ে দিলে কিন্তু আপনার নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এতে করে সৃষ্টি হবে অপ্রীতিকর পরিবেশের। তাই যেকোন রকমের অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার আগে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি কতোটা ব্যক্তিত্ববান।

‘লোকটি অশিক্ষিত’ বলার আগে শিক্ষিত শব্দটির ‘সঠিক’ সংজ্ঞা জানুন

কথায় আছে “শেখার কোন শেষ নেই।” আমরা প্রতিনিয়ত নতুন কিছুনা কিছু শিখছি। কেউ কখনো আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারবে না যে তার সমস্ত শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর আপনি যদি শিক্ষা বলতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে মূল্যায়ন করে থাকেন তাহলে সেটা হবে আপনার আরও একটি অশিক্ষা। কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে যাওয়ার আগে নিজেকে একবার ভালো করে মূল্যায়ন করে দেখুন যে আমাদের জীবনের জন্য শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাই কি শেষ কথা? তাই কারও সল্প শিক্ষার দোষ খুঁজতে গিয়ে নিজের অশিক্ষার পরিচয় দেবেন না।

অমুক ব্যক্তি রুচিহীন, আপনি রুচিশীল তো?

কারও রুচিবোধ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার আগে ভাবুন রুচিবোধ সম্পর্কে আপনার নিজের ধারণা কতটুকু? প্রতিটা মানুষ যেমন আলাদা আলাদা তাদের রুচিবোধও একইভাবে আলাদা আলাদা। আপনার অভিরুচির সাথে কারও রুচি মিলল না মানে সেটি অবশ্যই রুচিহীনতা নয়। আপনার সব সময় কোট টাই পরে নিজেকে বাইরে উপস্থাপন করতে ভালো লাগে বলে এটা আপনার কাছে দারুন রকমের রুচির ব্যাপার আর অন্য একজন টিশার্ট বা অন্য কোন সাধারণ পোশাকে নিজেকে উপস্থাপন করে থাকে বলে এটা ভীষণ রুচিহীন ব্যাপার এমনটা ভাবা তো অন্যায়। টাই কারও রুচির ব্যাপারে যুক্তিতর্ক বা দোষ খুঁজতে যাওয়ার আগে নিজের রুচি পরীক্ষা করে দেখুন।

দোষ গুণ নিয়েই মানুষের জীবন। হয়তো কারও মধ্যে দোষের পরিমাণটা বেশী আবার কারও মধ্যে গুণের। তবে কারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে তার দোষটা ধয়ে দেওয়ার এক ধরণের দোষের কাজ বলেই মূল্যায়ন করা হয়। সারাক্ষণ অন্যর দোষ ধরে না বেড়িয়ে কিছুটা সময় নিজের দোষগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন এতে অন্তম কাজের মতো কাজ করা হবে।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।