ছুটির দিনে দেখতে পারেন অ্যানিমেশন মুভি সিরিজ- ‘Tinker Bell’

 

10567961_771345126271653_874820633_nকখনো কি ভেবে দেখেছেন- ছোট্ট শিশু কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ হেসে উঠে কেন? একের পর এক ঋতু আসে, ঋতু যায়- এটা কিভাবে সম্ভব? ডিম ফুটে বের হওয়া ছোট্ট পাখির ছানা কেমন করে উড়তে শেখে? এই যে প্রজাপতির পাখায় এত রঙের সমাহার- কারা রাঙায় এসব? হঠাৎ করেই দেখলেন- আপনার নষ্ট হয়ে যাওয়া কোন গেজেট আবার কাজ করতে শুরু করেছে! এটা কি এমনি এমনিই সম্ভব? নাকি আড়ালে থেকে কেউ আমাদের জন্য এসব করে দেয়?

বলা হয়ে থাকে- এসব পরীদের কাজ। তারাই আড়ালে থেকে নিরলস পরিশ্রম করে পৃথিবীটা আমাদের জন্য আরো বাসযোগ্য করে তোলে। আর তাদের জন্ম হয় কিভাবে? যখন কোন ছোট্ট শিশু খিলখিলিয়ে হেসে উঠে, সে হাসি বাতাসে কিছু পরাগ রেণু ছড়িয়ে দেয়। আমাদের চেনাজানা পৃথিবীর বাইরে ‘পিক্সি হলো’ নামে পরীদের আলাদা একটা দুনিয়া আছে। পিক্সি ডাস্টের সংস্পর্শে কোন পরাগরেণু এলে জন্ম হয় একটি পরীর। তারপর সে তার প্রতিভা বাছাই করে পৃথিবীটাকে আরো খানিকটা সুন্দর করতে লেগে পড়ে- এমন উপকথার উপর ভিত্তি করেই Tinker Bell অ্যানিমেশান সিরিজটি তৈরি হয়েছে।

চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Walt Disney Pictures” এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান “DisneyToon Studio” এই সিরিজটি তৈরি করেছে। বাচ্চাদের জন্য অ্যানিমেশন সিরিজটি তৈরি হলেও এর পূর্ণবয়স্ক দর্শকও কিন্তু কম নেই ! ২০০৮ সালে সিরিজের প্রথম চলচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এর পরবর্তী সিক্যুয়েলটার জন্য। অ্যানিমেশন মুভি সিরিজ হিসেবে ‘Tinker Bell’ কে নিঃসন্দেহে ডিজনীর সেরা কাজ বলা যায়। এখন পর্যন্ত Tinker Bell সিরিজের ৫টি পূর্ণাঙ্গ মুভি এবং ১টি টেলিভিশন শর্টফিল্ম মুক্তি পেয়েছে।

Tinker Bell: ২০০৮ সালে Bradley Raymond-এর পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল সিরিজের প্রথম মুভি Tinker Bell. IMDb তে ৬.৯/১০ রেটিং পাওয়া ৭৮ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটিতে টিংকার বেলের জন্ম, তার ট্যালেন্ট নির্বাচন, সদা চটপটে স্বভাবের কারণে সবসময়ই কোন না কোন বিপদে পড়া এবং বন্ধুদেরকেও সবসময় দৌড়ের উপর রাখা, মেইন ল্যান্ডে পৌঁছানোর জন্য তার অপ্রাণ চেষ্টা এবং সবশেষে তার স্বপ্নের মেইন ল্যান্ডে পৌঁছাতে পারার গল্প দেখানো হয়। সেই সাথে একটা সূক্ষ বার্তাও ছিল- পৃথিবীতে কোন কাজই অসম্মানের নয়। ঠিকঠাক মত নিজের কাজটি কর, সফলতা আসবেই।

Tinker Bell and the Lost Treasure: পরীদের উড়ার জন্য পিক্সি ডাস্টের প্রয়োজন হয়। আর পিক্সি ডাস্টের গাছকে জীবিত রাখার জন্য দরকার ব্লু পিক্সি ডাস্ট। চাঁদের নীলাভ আলো যখন মুনস্টোনের উপর পড়ে তখন এই ডাস্ট তৈরি হয়। ব্লু ডাস্ট প্রতি আট বছরে একবারই সংগ্রহ করা যায়, অটামের শেষ দিনে। তাই পরীদের রাজ্য পিক্সি হলোতে মহা ধুমধামের সাথে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। মুনস্টোন ধরে রাখার জন্য দরকার মুন কেইস। একেকবার একেক পরী এই কেইস তৈরি করে, এইবার এই দায়িত্ব পড়েছে টিংকের উপর। মুন কেইস তৈরি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন অসাবধানতাবশত মুনস্টোনই ভেঙ্গে যায়। এদিকে নিজের বদমেজাজের জন্য বন্ধু টেরেন্সকেও হারায় সে। Tinker Bell-এর এই ছবিতেও বাচ্চাদের জন্য একটা বার্তা আছে- পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি জিনিস হল বন্ধুত্ব। তোমার যদি একজন প্রকৃতবন্ধু থাকে তবে পৃথিবীর কোন সমস্যাই তোমার জন্য সমস্যা না। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেছেন Klay Hall. ৮১ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটির IMDb রেটিং ৬.৯/১০।

Tinker Bell and the Great Fairy Rescue: পিক্সি হলোর সব পরীরা ঠিক করল তারা পিকনিক করবে। যে ভাবা সেই কাজ, সবাই মিলে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পিং এ বেরিয়ে গেল। পরীরা ক্যাম্পিং এর জন্য যে স্থানটি বেছে নিল, তার পাশেই একটা কটেজে ছুটি কাটাতে এসেছিল ড. গ্রিফিথস এবং তার মেয়ে লিজি গ্রিফিথস। অতিরিক্ত কৌতূহল আর সাহসের কারণে লিজির কাছে বন্দি হল টিংকার বেল। তার বন্ধুরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করার মিশনে রওনা দিল। ততক্ষণে অবশ্য লিজি আর টিংকের বেশ ভালোই বন্ধুত্ব হয়েছে। কিন্তু লিজির জীববিজ্ঞানী বাবা হাতের কাছে বিখ্যাত হওয়ার এমন অপূর্ব সুযোগ পেয়ে তা কিছুতেই খোয়াতে চান নি। টিংককে বাঁচাতে গিয়ে বন্দি হল ভিদিয়া। তারপর টিংকার বেল ও তার বন্ধুরা অপর বন্ধু ভিদিয়াকে বাঁচাতে নতুন এক মিশনে নামল। Bradley Raymond পরিচালিত মুভিটি মুক্তি পায় ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর। ৭৬ মিনিট দৈর্ঘের এই অ্যানিমেশন মুভিটির INDb রেটিং ৭/১০।

Tinker Bell- Secret Of The Wings: ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল Tinker Bell সিরিজের চতুর্থ মুভি Tinker Bell and the Mysterious Winter Woods”, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুভিটি আর মুক্তি পায়নি। পরে এই ছবিটিই “Secret of the Wings” নামে ২০১২ সালে মুক্তি পায়। ৭৫ মিনিট দৈর্ঘের এই ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন Roberts Gannaway এবং Peggy Holmes. পরীদের রাজ্য ‘পিক্সি হলো’ দুইটি অংশে বিভক্ত। এক অংশে থাকে বাকি সব পরী আর অন্য অংশে শুধু উইন্টার পরী। বাকি সব পরীদের উইন্টার পরীদের অংশে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু টিংকারবেল সে নিষেধাজ্ঞা মানবে কেন? চুপিচুপি সে উইন্টারদের অংশে গিয়ে আবিস্কার করে তার একজন যমজ বোন আছে যে কিনা হুবাহু দেখতে তার মত। বোনকে তার নিজের রাজ্য দেখাতে এনে সে পুরো পিক্সি হলোকেই বিপদের মুখে ফেলে দেয়। IMDb তে মুভিটির রেটিং ৭.১/১০।

The Pirate Fairy: ডাস্ট কিপার পরী জেরিনা পিক্সি ডাস্ট নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পুরো পিক্সি হলোকেই ধ্বংসের কাছাকাছি নিয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে তাকে পিক্সি হলো ছাড়তে হয়। জেরিনা পিক্সি হলো ছেড়ে ডাকাত দলে গিয়ে যোগ দেয়। পিক্সি হলোর প্রতি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে জেরিনা এক উৎসবের রাতে ফিরে এসে পিক্সি ডাস্ট তৈরির মূল উপাদান ব্লু পিক্সি ডাস্ট চুরি করে নেয়। তখন টিংকার বেল আর তার বন্ধুদের শুরু হয় ব্লু ডাস্ট ফিরিয়ে আনার মিশন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪তে মুক্তিপ্রাপ্ত Tinker Bell সিরিজের ৫ম মুভি The Pirate Fairy পরিচালনা করেন Peggy Holmes. IMDb তে ৭৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিটির রেটিং ৬.৭/১০।

২০১৫ সালের মার্চে সিরিজের ষষ্ঠ মুভি Tinker Bell and the Legend of Never Beast মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে এই সিরিজের ২১ মিনিট দৈর্ঘের “Pixie Hollow Games” নামে একটি টিভি সিরিজও রিলিজ করা হয়।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।