শসার ব্যতিক্রমী কিন্তু কার্যকর কিছু ব্যবহার

cucumberশসা (cucumber) আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবারের মেনুতে রাখার মত একটি সবজি। এটি কাঁচা, রান্না করে কিংবা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। শসার উপকারী গুণ অনেক যা আমরা হয়ত কেউ পুরোপুরি জানি কেউ জানি না। দৈনন্দিন জীবনে শসার কিছু উপকারী দিক এখানে দেওয়া হলো যা আপনি প্রয়োগ করতে পারেন।

  • মাথা ব্যথা উপশমকারী: দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করলে আমাদের অনেকেরই মাথা ঝিমঝিম ও ব্যথা শুরু হয়। তখন কয়েক টুকরো শসা হালকা লবণ দিয়ে খেয়ে ৫ মিনিটের জন্য চোখ বন্ধ করে বিছানায় সোজাসুজি শুয়ে থাকবেন। তাহলে মাথা ব্যথা নিমেষেই দূর হয়ে যাবে।
  • নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে : কারো কারো নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ (bad breathe) থাকে। অন্যের সামনে চলাফেরা বা কথাবার্তা বলতে অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে কাছাকাছি মিন্ট/ মাউথ ফ্রেশেনার ক্যান্ডি যদি না পান তাহলে কয়েক টুকরা শসা নিয়ে তা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ চলে যাবে।
  • লোহার মরিচা দূর করতে: ধারালো জিনিসপত্র যেমন চাকু, বটি, দা, ছুরি, কাঁচি ইত্যাদিতে হরহামেশাই মরিচা পরে। সেক্ষেত্রে একটা শসা কেটে তার এক টুকরো দিয়ে ধারালো অংশটায় ঘষে নিন। দেখবেন যে মরিচা দূর হয়ে পুরনো ধারের উজ্জ্বলতা ফিরে এসেছে।
  • পোকামাকড় এর অত্যাচার থেকে মুক্তি: ছাদে,বারান্দায় বা বাড়ির সামনে উঠোনে যদি গাছগাছড়া বা বাগান থাকে তাহলে পোকামাকড় আর কীটপতঙ্গের উৎপাত বেড়ে যায়। এরকম অবস্থায় একটি এলুমিনিয়াম কৌটা নিয়ে তাতে কয়েক টুকরো শসা রেখে রাখুন।
    এলুমিনিয়ামের সাথে শসার উপাদানসমূহের বিক্রিয়ায় একটি গন্ধ সৃষ্টি হবে যা কীটপতঙ্গ সহ্য করতে পারবে না। উৎপাত কমে যাবে। এতে মানুষের কোন প্রকার সমস্যা হয় না।
  • আয়না স্বচ্ছ করে তুলতে: গোসলখানা বা বেসিনের আয়নায় সাধারণত ময়লা জমে ঘোলাটে হয়ে যায়। সহজে উঠতে চায় না। এরকম অবস্থায় এক টুকরো শসা নিয়ে আয়নায় ঘষে দেখুন, ময়লা খুব সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
  • দরজার কব্জার বিরক্তিকর শব্দ বন্ধ করতে: আমাদের অফিস বা বাসস্থানের কিছু দরজা কব্জাতে (hinge) মাঝে মাঝে উদ্ভট শব্দ হয় যা আসলে বিরক্তিজনক। এক টুকরো শসা দরজার কবজায় ঘষে দিন। দেখবেন শব্দ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
  • বাসার দেয়াল পরিষ্কার করতে: বাসার ছোট বাবুটি দেয়ালকে করেছে তার পৃথিবীর খাতা। কি করবেন সেগুলো উঠানোর জন্য? ক্রেয়ন পেন্সিলের দাগের জন্য শসার খোসা দিয়ে দাগগুলো মৃদুভাবে ঘষে দাগ উঠিয়ে ফেলুন। কলমের কালিও শসার খোসা দিয়ে উঠাতে পারবেন।

বুঝতেই পারছেন, শুধু সালাদ কিংবা রূপচর্চাতেই শসার ব্যবহার সীমিত রাখবেন না মোটেও!

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।