সফল ব্লগ শুরু করার ৭টি কৌশল

Having-a-Successful-Blogআমাদের দেশে ব্লগিং এখন কম বেশি সবার কাছে পরিচিত একটি শব্দ। ব্লগিং অনেক ভাবে করা যায়। সাধারণত ব্লগিং শখের বশেই করা হয়। তবে এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনও সম্ভব এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইন্টারনেটে পরিচিত অন্য অনেক মাধ্যম থেকে দ্রুত। তবে প্রফেশনাল ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে লিখছি যা আপনাকে সাহায্য করবে আপনার ব্লগের পরিচিতি বাড়াতে এবং কাঙ্ক্ষিত ট্রাফিক (পাঠক বা ফলোয়ার) পেতে।

১. কাদের জন্য লিখবেন এবং কি লিখবেন সেটা প্রথমেই ঠিক করে নিনঃ

প্রথমেই ঠিক করে নিন আপনি কাদের জন্য লিখবেন এবং কি লিখবেন। এলোমেলো ভাবে যখন যা মাথায় আসলো তা লেখার চেয়ে কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লিখুন। যখন আপনি নিজে জানবেন, যে কি ধরনের পাঠক আপনার লেখাটা পড়তে পারে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনার লেখার বিষয়বস্তুও হবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী। নিজের আগ্রহ আছে এমন কোন লেখা পেলে মানুষ বার বার তা পড়তে চায় এবং চেক করে সেই ব্লগে তার পছন্দের সাথে সম্পর্ক আছে এমন আর কোন নতুন লেখা এসেছে কি না। এর ফলে ব্লগে নিয়মিত পাঠকের আনাগোনা থাকে। টার্গেট অডিয়েন্স বা পাঠক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারেন। যেমনঃ কোন বয়সী পাঠকের জন্য আপনি লিখতে চান, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তারা কেমন এলাকায় থাকে, তাদের শখ এবং অবশ্যই তাদের গড় উপার্জন কত।

২. ব্লগ লেখার ভাষা এবং কোন কোন দেশে আপনার ব্লগ পঠিত হতে পারে তা লক্ষ্য রাখুনঃ

হয়তো আপনি খুব আকর্ষণীয় কোন বিষয়ে লিখেছেন এবং সেটা নিয়ে আগে কখনো কোথাও লেখা হয় নি। স্বাভাবিক ভাবেই এই লেখার প্রতি মানুষের আগ্রহ জন্মাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা তা পড়তে পারছে না শুধু মাত্র ভাষা না বোঝার কারণে। তাই আপনার টার্গেট অডিয়েন্স এর প্রধান ভাষা কি জানুন এবং লিখুন সেই ভাষাতেই। ইংরেজি পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রচলিত, তাই এটি হতে পারে আপনার ব্লগের ভাষা , যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত পাঠক বিভিন্ন দেশের হয়ে থাকে।

৩. ব্লগের বিষয়বস্তু এবং লেখায় নতুনত্ব আনুনঃ

ধরা যাক, আপনার ব্লগ এর মূল বিষয়বস্তু কম্পিউটার। আপনি অনেক ভাল জানেন কম্পিউটার সম্পর্কে এবং এ নিয়েই আপনি ব্লগ লিখছেন। কিন্তু এই একই বিষয় নিয়ে হাজারো ব্লগ ছড়িয়ে আছে ইন্টারনেটে। তাহলে আপনার ব্লগে কেন পাঠক আসবে? তাই অবশ্যই আপনার লেখার ধরণ এবং তথ্য উপস্থাপনে নতুনত্ব আনতে হবে। ‘কম্পিউটার একটি গণনাকারী যন্ত্র’ না লিখে আপনি এমন কোন বাক্য লিখুন যা একই ভাব প্রকাশ করে আর পরের লাইন পড়ার আগ্রহ যোগায়। কম্পিউটার নিয়ে নতুন নতুন তথ্য উপস্থাপন করুন যা সাধারণত পাঠক জানে না।

৪. নিয়মিত নতুন কন্টেন্ট আপলোড করুনঃ

নিয়মিত লিখুন ব্লগে। যদি আপনার ইচ্ছা থেকে থাকে নিজের ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর এবং তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার, তাহলে এর বিকল্প কোন উপায় নেই। দেখা যাচ্ছে আপনি এ সপ্তাহে ব্লগে ৭ টি পোস্ট দিলেন, পরের দুই সপ্তাহে কিছুই দিলেন না, তাহলে আপনি পাঠক হারাবেন। কারণ তারা আপনার ব্লগে এসে দেখবে আজ নতুন কিছু নেই, কালও নতুন কিছু নেই, তো পরশুদিন তারা নতুন কোন ব্লগ খুঁজে নিবে যেটা নিয়মিত তাদের পছন্দের পোস্ট দেয়।

৫. পরিণত করুন ফলোয়ারদের আলোচনার স্থানেঃ

শুধু আপনি দারুণ সব লেখা লিখে যাচ্ছেন, কিন্তু জানতে পারছেন না আপনার লেখা সম্পর্কে পাঠকের মতামত, এটা কখনোই আপনার ব্লগ কে সফল করবে না। কারণ আপনার দৃষ্টিতে যেটা দুর্দান্ত লেখা পাঠকের চোখে সেটা সুপার ফ্লপও হতে পারে। আবার আপনার কাছে তেমন ভালো লাগেনি এমন লেখা দেখা যাচ্ছে বেশ পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই এই ব্যাপারগুলো বোঝার জন্য অবশ্যই পাঠকের সাথে আপনার আলাপচারিতা জরুরী। প্রতিটি পোস্টে কমেন্ট করার অপশন রাখুন, পাঠককে উৎসাহ দিন তার ভাল লাগা বা খারাপ লাগা জানাবার, এমনকি একজন পাঠক অন্য পাঠকের সাথে আলাপচারিতাও আপনার ব্লগকে আরও তথ্যবহুল এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার পোস্ট শেয়ার করুন। কারণ বর্তমানে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোই সবচেয়ে বড় মাধ্যম ব্লগে পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর।

৬. প্রমোট করুনঃ

আপনার লেখার মান ভালো, টপিক খুব আকর্ষণীয় ইত্যাদি ইত্যাদি সব ভাল গুণাবলীতে আপনার ব্লগ ভরপুর। কিন্তু এর পরেও হাজার বা লাখ খানেক ফলোয়ার পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগেই যায়। আবার অনেক সময় পাঠক জানতেই পারে না যে এত দারুণ একটা ব্লগ আপনি তৈরি করেছেন। তাই আপনাকে প্রচার করতে হবে আপনার ব্লগের কথা। প্রথমদিকে যদি ভালভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে পারেন তাহলে দেখবেন কিছুদিন পর এমনিতেই অনেক ট্রাফিক পেয়ে যাচ্ছে আপনার ব্লগ। তো কিভাবে করবেন এই প্রচারের ব্যবস্থা ? ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টিভি, রেডিও বা সংবাদপত্র ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। কিছু টাকা অবশ্যই খরচ হবে এই ক্ষেত্রে। আপনি যদি চান নিজের ব্লগ থেকে আয় করতে, তাহলে এইটুকু খরচ আপনাকে করতেই হবে। কারণ পৃথিবীর সফল ব্লগগুলো এভাবেই নিজেদের প্রচারণা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে সফল হয়েছে।

৭. ডিজাইন এবং কন্টেন্ট রাখুন দৃষ্টিনন্দনঃ

আপনার ব্লগের ডিজাইন যতটুকু সম্ভব সুন্দর করার চেষ্টা করুন। কারণ দৃষ্টিকটু ডিজাইন বা ফন্ট দেখলে পাঠক একবারের বেশি আপনার ব্লগে আসবে না। এবং এমন ভাবে ব্লগ বানান যাতে তা “ইউজার ফ্রেন্ডলি” হয়। ভাল কোন ওয়েবসাইট ডিজাইনারকে দিয়ে আপনার ব্লগের ডিজাইন করিয়ে নিন। লেখায় ছবি দেয়াটা অনেক সময় জরুরী হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায় সাদামাটা একটা লেখাও সাথের ভাল ছবির কারণে অনেক আকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে। তাই লেখার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছবি ব্যবহার করুন।

এছাড়াও আপনার লেখা যাতে বানান এবং ব্যাকরণগত ভাবে শুদ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আপনি ভুল বানানে লিখলেন, ব্যাকরণগত ভুল করলেন, খুব স্বাভাবিক ভাবেই আপনার দেয়া তথ্যের উপর পাঠক সন্দিহান হয়ে পড়বে। তাই লেখা শেষ হবার পর তা স্পেল চেকার এবং সম্ভব হলে ব্যাকরণে দক্ষতা আছে এমন কাউকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।

ব্লগ নিয়ে পরামর্শ.কম এর আরও লেখা পড়ুনঃ
১. কিভাবে ব্লগের নাম নির্বাচন করবেন
২. একটি জনপ্রিয় ব্লগ পোস্ট লেখার জন্য যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা প্রয়োজন
৩. ব্লগের লেখা প্রকাশ করার আগে যে বিষয়গুলো দেখে নেয়া দরকার

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।