যে ৭ টি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে সদ্য মা হওয়া নারীদের

preg womanবাচ্চাকে খাওয়ানো, ডায়াপার বদলে দেয়া, ঘুম পাড়ানো সদ্য সন্তান জন্মদানকারী মায়েদের কতই না কাজ। কত দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করতে হয়। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই নিজের অজান্তে এমন কিছু ভুল করে ফেলে যা তার নিজের জন্যে, বাচ্চার জন্যে এমন কি তার স্বামীর জন্যেও খারাপ। সবার মঙ্গলের জন্যে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ। এই লেখাটি শুধু আপনাকে সেই ভুলগুলো সম্পর্কেই জানাবে না, জানাবে কিভাবে এসব এড়িয়ে চলতে হবে তাও।

১) বাচ্চার দোলনা নানা জিনিসপত্র দিয়ে পরিপূর্ণ করবেন নাঃ
বেশিরভাগ মায়েরাই তাদের বাচ্চার দোলনা বালিশ, কোলবালিশ, কাঁথা, খেলনা দিয়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে রাখে। এটা বাচ্চার জন্যে খুবই অস্বস্তিকর। এছাড়া অনেক মায়েরাই বাচ্চার ঘুমানোর সময় মাথা ঠিক রাখার জন্যে দুপাশে দুটি বালিশ রাখে, যা ডেকে আনতে পারে বিপদ। The American Academy of Pediatrics সম্প্রতি এক গবেষণা করে বের করেছে, “বাচ্চাদের জন্যে স্লিপ পসিশনার (sleep positioner) বা ঘুমের অবস্থান নির্ধারণকারী কোন জিনিস ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এতে তাদের শ্বাসরোধ হয়ে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।” পরিষ্কার বিছানা, নীরব, ঠাণ্ডা রুম আপনার বাচ্চার ঘুমানোর জন্যে উত্তম পরিবেশ।

২) ঘুমের রুটিন কড়াকড়িভাবে করবেন না
রুটিন অনুযায়ী চলাফেরা ভাল। তবে তা কড়াকড়ি ভাবে পালনের চেষ্টা বিরক্তিকর। আপনি আপনার বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানোর জন্যে তার সাথে যুদ্ধ করতে পারেন না। সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চারা এমনিতেই ২-৩ ঘণ্টা পরপর ঘুমায়। তবে এই রুটিনে কোন পরিবর্তন আসলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্রথম তিন মাসে বাচ্চার ঘুমের চক্রে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আসে। পরে তা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

৩) অন্যের বাচ্চার সাথে তুলনা নয়ঃ
অনেকেই নিজের বাচ্চাকে অন্য বাচ্চার সাথে তুলনা করে। অন্য কোন বাচ্চা এখনই বসতে পারে, হাঁটতে পারে একই বয়সের হওয়ার পরেও আপনার বাচ্চা কেন পারছে না। এই ধরণের চিন্তা করার দরকার নেই। কেননা আপনাকে মনে রাখতে হবে সব বাচ্চাই স্বতন্ত্র। সময় হলে আপনার বাচ্চাও সবই করবে। খুব বেশি দুশ্চিন্তা হলে শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

৪) নিজের প্রতি অযত্ন করা যাবে নাঃ

বাচ্চার প্রতি অতিরিক্ত যত্ন নিতে গিয়ে বেশিরভাগ মায়েরাই নিজের দিকে খেয়াল দিতে পারেন না। এতে নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। দুপুরে কিছুক্ষনের ঘুম, পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া, একটু গান শোনা, টিভি দেখা আপনাকে সতেজ করে তুলতে পারে। নিজেরও পর্যাপ্ত যত্ন নিন, ভেবে দেখেছেন আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার বাচ্চার যত্ন কে নিবে?

৫) বাবাকে পেছনের সিটে বসানো যাবে নাঃ
স্বাভাবিকভাবে মা তার বাচ্চাকে নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে যে বাচ্চার বাবা একেবারেই একা হয়ে পরে। Family therapist Michelle Maidenberg Ph.D বলেছেন, “তখন সে ভাবতে শুরু করে আমাকে এখানে কি দরকার? এবং এই ভাবনা চিন্তার শুরুটা পরিবারের বন্ধনে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।”
তাই বাচ্চার বিভিন্ন কাজে বাচ্চার বাবাকেও যুক্ত করতে হবে। খুব কঠিন কাজগুলো না হলেও বাচ্চার ডায়াপার বদলে দেয়া, তাকে জামা পড়ানো, কোলে নিয়ে একটু ঘোরা এসব কাজে তাকে সহজেই যুক্ত করা যায়। একসময় দেখবেন সে নিজে থেকেই আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে। এতে আপনার কাজের চাপ যেমন কমবে তেমনি স্বামী, স্ত্রী, সন্তান এই তিনের বন্ধনটাও মজবুত হবে।

৬) বাচ্চাকে অতিরিক্ত খাওয়াবেন নাঃ
এটি একটি পরিচিত দৃশ্য যে বাচ্চা কাঁদছে আর মা ফিডার নিয়ে এসেছে তাকে খাওয়ানোর জন্যে। কিন্তু বুঝতে হবে কান্না মানেই যে সে ক্ষুধার্ত না। সে ক্লান্ত হতে পারে, অস্বস্তি বোধ করতে পারে, সারাদিন শুয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হতে পারে। বাচ্চাকে বেশি খাওয়ালে সে দ্রুত বাড়বে, বেশি সুস্থ থাকবে এই ধারনাটি ভুল। আপনি তার ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে ঠিক করে নিন, দিনে কয়বার কতটুকু খাওয়া দিতে হবে।

৭) সব কাজ একা করার চেষ্টা করবেন নাঃ
বেশিরভাগ মায়েরা সন্তানের সব কাজ নিজে নিজে করতে পছন্দ করে। তার বাচ্চা তার কাছে খুবই আদরের তাই তার সব কাজ করতে সে ক্লান্তি বোধ করে না। পাশাপাশি রান্নাবান্না, ঘর গোছানো, অতিথি আপ্যায়ন নানান কাজ করে। এটি উচিৎ নয়। এইসময় অন্যের সাহায্য নেওয়া উচিৎ। নিউইয়র্ক শহরের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ Cheryl Wu M.D.বলেছেন, “বাচা প্রসবের পরের ৩ মাস আপনার শুধু দুইটি কাজ। নিজের এবং বাচ্চার যত্ন নেওয়া। অন্যরা রান্না করবে আর আপনার খাওয়া এনে দিবে।”

এই ভুলগুলো সম্পর্কে তো জানলেন। এবার চেষ্টা এগুলো এড়িয়ে চলার। এতে আপনার এবং সন্তানের স্বাস্থ্য যেমন সুস্থ থাকবে তেমনি মজবুত হবে পারিবারিক বন্ধন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।