ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য ৭ টি কার্যকরী কিন্তু সহজ পরামর্শ

cancerক্যান্সারের ভয়াবহতা সম্পর্কে নতুন করে বলার মত কিছু নেই। সবাই কম বেশি জানেন এ রোগ হলে কি পরিমাণ শারীরিক এবং মানসিক কষ্টের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন সময়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার অনেক উপায় আপনি শুনবেন আশেপাশে থেকে। অনেক সময়ই দেখা যায় এসব পরামর্শ পরস্পর বিরোধী। ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ব্যাপারগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের অজানা। প্রতিদিনই গবেষণা চলছে কিভাবে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়।

আপনার প্রতিদিনকার কিছু কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি। চলুন জেনে নিই কি কি কাজ করলে অথবা কি ধরনের কাজ বাদ দিলে আপনি ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারবেন।

১. তামাক ব্যবহার করবেন না
তামাক অত্যন্ত ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের পক্ষে। সাধারণত মানুষ সিগারেটের মাধ্যমে তামাক গ্রহণ করে। ফুসফুস, মূত্রাশয়, গলা এবং কিডনির ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এই তামাক। অনেকে আছেন যারা সরাসরি তামাক পাতা খেয়ে থাকেন। এতে তাদের করে মুখ এবং গলার ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেক বেশি। এমনকি যারা সিগারেট বা তামাক সরাসরি খান না, কিন্তু এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকেন অনেকটা সময়, যারা ধূমপান বা তামাক গ্রহণ করে, তাদেরও ক্যান্সার হবার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই আজ থেকেই পরিহার করুন যদি আপনার ধূমপান বা তামার গ্রহণ করার অভ্যাস থেকে থাকে।

২. স্বাস্থ্যকর খাবার খান:
স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার ক্যান্সার প্রতিরোধ করবে না তবে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমিয়ে দেবে অনেকগুণ।

  • প্রচুর শাকসবজি এবং ফলমূল খান।
  • ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবার কম খাবার চেষ্টা করুন: বিশেষ করে প্রাণীজ ফ্যাট আপনার ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং এ থেকে ক্যান্সার হয়ে যাবারও সম্ভাবনা থাকে। তাই যতটুকু সম্ভব প্রাণীজ ফ্যাট কম গ্রহণের চেষ্টা করুন।
  • এলকোহল বর্জন করুন: যদি আপনার এলকোহল গ্রহণের অভ্যাস থেকে থাকে তবে তা ছেড়ে দিন। কারণ অধিক এলকোহল গ্রহণ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

৩. নিজ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং ব্যায়াম  করুনঃ
অত্যাধিক ওজন আপনার স্তন,প্রোস্টেট, ফুসফুস, কিডনি, এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলে অনেকটাই। তাই চেষ্টা করুন আপনার উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার। ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম আপনাকে ক্যান্সারসহ আরো অনেক রোগের সম্ভবনা থেকে মুক্ত রাখবে।

৪. সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন যতটা সম্ভব:
স্কিন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হতে পারে এই অত্যধিক সূর্যালোক, তাই চেষ্টা করুন নিজেকে এ থেকে রক্ষা করার। দুপুরের রোদ থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, কারণ এই সময় রোদের তাপ খুব বেশি থাকে। ত্বকের যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং খেয়াল রাখুন তা যেন আপনার শরীরের বেশিরভাগ অংশ ই ঢেকে রাখে। সানগ্লাস এবং ক্যাপ বা হ্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

সানস্ক্রিন ব্যবহারে কার্পণ্য করবেন না। বাইরে বের হবার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন শরীরে। তবে খেয়াল রাখবেন সানস্ক্রিনটি যেন ভাল কোন ব্রান্ডের হয়।

৫.  টীকা নিন:
আপনার ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমে যায় কিছু ভাইরাসজনিত রোগের টীকা গ্রহণ করলে। আপনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিচের টীকাগুলো নিয়ে নিতে পারেন:

  • Hepatitis B: হেপাটাইটিস বি লিভার ক্যান্সারে ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে টীকা গ্রহণ  করুন।
  • Human papillomavirus (HPV): HPV একটি ভাইরাস যা আপনার মস্তিষ্ক বা গলার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই এ রোগের টীকা গ্রহণ করুণ। ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই টীকা গ্রহণ করা যায়।

৬. কিছু বিপজ্জনক কাজ থেকে দুরে থাকুন:
অনিরাপদ যৌন মিলন বা বহুগামিতা HIV এবং HPV এর অন্যতম কারণ। তাই এ ধরনের কাজ থেকে দুরে থাকুন। একই সিরিঞ্জ বার বার ব্যবহার করবেন না বা অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না। এটাও HIV , হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি এর কারণ। এবং এসব রোগ ধীরে ধীরে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।

৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনাকে ক্যান্সার সহ আরও অনেক অসুখের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত রাখবে। নিয়মিত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখুন এবং নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

ক্যান্সার হয়ে যাবার পর আফসোস করে কোন লাভই হবে না। তাই আজ থেকেই সচেতন হোন এ রোগ থেকে দূরে থাকার। আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু কাজই আপনাকে সারাজীবন মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে ক্যান্সার থেকে।

পরামর্শ.কম এ স্বাস্থ্য ও রূপচর্চা বিভাগে প্রকাশিত লেখাগুলো সংশ্লিষ্ট লেখকের ব্যক্তিগত মতামত ও সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লিখিত। তাই এসব লেখাকে সরাসরি চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য অথবা রূপচর্চা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। স্বাস্থ্য/ রূপচর্চা সংক্রান্ত যেকোন তথ্য কিংবা চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের/বিউটিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।

লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করছি। পরামর্শ.কম এর অন্যান্য প্রকাশনার আপডেট পেতে যোগ দিন ফেইসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে অথবা নিবন্ধন করুন ইমেইলে।